ইরানে অর্থনৈতিক সংকট ও মুদ্রাস্ফীতির প্রতিবাদে শুরু হওয়া বিক্ষোভ ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। গত ২৮ ডিসেম্বর থেকে শুরু হওয়া এই আন্দোলনে নিরাপত্তা বাহিনী ও বিক্ষোভকারীদের মধ্যে সংঘর্ষে এখন পর্যন্ত অন্তত ৬২ জন নিহত হয়েছেন। মানবাধিকার সংস্থা এইচআরএএনএ (HRANA) জানিয়েছে, নিহতদের মধ্যে ৪৮ জন সাধারণ বিক্ষোভকারী এবং ১৪ জন নিরাপত্তা সদস্য রয়েছেন।
বিক্ষোভের বর্তমান পরিস্থিতি:
* আহত ও আটক: সংঘর্ষে অন্তত ৩০০ পুলিশ ও আইআরজিসি সদস্য আহত হয়েছেন। এছাড়া এখন পর্যন্ত ১ হাজার ২০০-র বেশি মানুষকে আটক করা হয়েছে।
* অস্থিরতার কারণ: ইরানি মুদ্রা রিয়ালের রেকর্ড দরপতন, উচ্চ মুদ্রাস্ফীতি এবং জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির প্রতিবাদে প্রথমে ব্যবসায়ীরা রাস্তায় নামলেও পরে তা শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের গণআন্দোলনে রূপ নেয়।
* বিস্তৃতি: তেহরান ছাড়িয়ে কারাজ, ইসফাহান, শিরাজ ও কেরমানশাহসহ ইরানের প্রধান শহরগুলোতে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে।
সরকার ও আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া:
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি এই অস্থিরতার জন্য যুক্তরাষ্ট্রসহ বিদেশি শক্তিকে দায়ী করেছেন। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কর্তৃপক্ষ কোনো ছাড় দেবে না। অন্যদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরান সরকার ‘মহা বিপদে’ আছে উল্লেখ করে দেশটিতে সামরিক অভিযানের ইঙ্গিত দিয়েছেন।
বিক্ষোভ দমনে সহিংসতার ঘটনায় যুক্তরাজ্য, জার্মানি, ফ্রান্স এবং জাতিসংঘ গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে শান্তিপূর্ণ সমাবেশের অধিকার নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে। তবে ইরানের ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিল ও বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) স্পষ্ট জানিয়েছে, নাশকতাকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা ও অভিযান অব্যাহত থাকবে।

