ইসরায়েল গাজা নগরীর বাসিন্দাদের শহর ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছে এবং উপত্যকার দক্ষিণাংশে আশ্রয় নিতে বলেছে। তবে ওই নির্দেশনার অল্প সময় পরই ইসরায়েলি সেনারা নগরীর আরেকটি বহুতল ভবনে হামলা চালিয়ে সেটিকে ধ্বংস করে। স্থানীয়দের দাবি, ধ্বংস হওয়া ভবনটিতে কয়েকটি ফিলিস্তিনি পরিবার বসবাস করছিল।
গাজা উপত্যকার সবচেয়ে বড় নগরী হলো এই গাজা সিটি। শহরটির নিয়ন্ত্রণ নিতেই গত মাস থেকে ইসরায়েলি বাহিনী বৃহৎ অভিযান শুরু করে। আকাশপথে হামলা ও স্থল অভিযানের মাত্রা বেড়েছে, ফলে সাধারণ ফিলিস্তিনিদের দুর্দশা আরও তীব্র হয়েছে। অভিযান কত দিন চলবে, তা ইসরায়েল এখনও জানায়নি।
শনিবারের হামলায় লক্ষ্যবস্তু ছিল ১৫ তলা সুসি রেসিডেনশিয়াল টাওয়ার। ইসরায়েলি বাহিনীর দাবি, ভবনটি হামাস গোয়েন্দা কার্যক্রম ও নজরদারির জন্য ব্যবহার করছিল। তাই তারা ভবনটি ধ্বংস করে। তবে সেনাদের ভাষ্য, বেসামরিক মানুষের ক্ষতি এড়াতে পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, তাদের চোখের সামনেই ভবনটি ধসে পড়ে। প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ এ হামলার ভিডিও প্রকাশ করে সতর্ক করেছেন, এ ধরনের অভিযান চলবে। সেনারাও জানিয়েছে, বিশেষ করে বহুতল ভবনগুলো আগামী দিনে তাদের টার্গেট হবে।
এরই মধ্যে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর মুখপাত্র অ্যাভিচে আদ্রাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গাজা নগরীর অধিবাসীদের দক্ষিণাঞ্চলীয় আল-মাওয়াসি এলাকায় চলে যেতে বলেছেন। সেখানে গেলে ফিলিস্তিনিদের জন্য খাদ্য, ওষুধ, তাঁবু ও চিকিৎসাসেবা দেওয়া হবে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে। তবে অতীতে এ ‘নিরাপদ এলাকা’য়ও বহুবার হামলা চালানো হয়েছে, ফলে সাধারণ মানুষ নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে।
একজন স্থানীয় বাসিন্দা আবদেল নাসের মুসতাহা বলেন, কেউ বলছেন পালাতে হবে, আবার কেউ বলছেন তা নয়, কারণ পুরো গাজাতেই বোমাবর্ষণ হচ্ছে। তিনি অভিযোগ করেন, আল-মাওয়াসি নামের মানবিক এলাকায়ও দেড় বছর ধরে হত্যাযজ্ঞ চালানো হয়েছে।
এদিনের হামলায় অন্তত ৩৫ জন নিহত হয়েছেন। দীর্ঘ ২৩ মাস ধরে চলা আক্রমণে মৃতের সংখ্যা ৬৪ হাজার ছাড়িয়েছে এবং আহত হয়েছেন প্রায় দেড় লাখ মানুষ, যাদের অধিকাংশই নারী ও শিশু। জাতিসংঘ সতর্ক করেছে, যদি ইসরায়েল গাজা নগরী দখলের অভিযান চালিয়ে যায়, তবে ভয়াবহ বিপর্যয় ঘটবে।
গত মাসে জাতিসংঘ–সমর্থিত আইপিসি প্রতিষ্ঠান গাজায় দুর্ভিক্ষ ঘোষণা করে। বর্তমানে প্রায় ১০ লাখ ফিলিস্তিনি সেখানে জীবন-মৃত্যুর মুখে রয়েছে। বেশির ভাগ মানুষ একাধিকবার বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। স্থানীয় তরুণী সামিয়া মুসতাহা হতাশ কণ্ঠে বলেন, “আমরা কোথায় যাব? মৃত্যু আমাদের ঘিরে রেখেছে—কখনো বোমায়, কখনো অনাহারে।”

