Site icon দৈনিক বঙ্গচিত্র

মেলার দখলে খেলার মাঠ, ঝুঁকিতে খুলনার নারী ক্রীড়াঙ্গন

চলছে খেলা, দর্শকের উচ্ছ্বাস আর প্রতিযোগিতার উত্তাপ—খুলনার সোনাডাঙ্গায় অবস্থিত বিভাগীয় মহিলা ক্রীড়া কমপ্লেক্স মাঠে এমন দৃশ্য প্রায়ই দেখা যায়। ফুটবল টুর্নামেন্ট, শিশুদের অ্যাথলেটিক প্রশিক্ষণ এবং নারীদের বিভিন্ন ক্রীড়া আয়োজনের কেন্দ্র এই মাঠ। তবে সেই মাঠই এক মাসের জন্য মেলার কাছে ভাড়া দেওয়ায় ক্ষোভ ছড়িয়েছে ক্রীড়াঙ্গনে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, আগামী ১৬ ডিসেম্বর থেকে মাসব্যাপী মেলার জন্য মাঠটি ভাড়া দিয়েছে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ। ফলে মাঠে চলমান ও পরিকল্পিত সব ধরনের খেলাধুলা ও প্রশিক্ষণ কার্যক্রম অনিশ্চয়তায় পড়েছে।

খুলনা মহানগরীতে নারীদের জন্য আলাদা কোনো খেলার মাঠ না থাকায় বিভাগীয় মহিলা ক্রীড়া কমপ্লেক্সই তাদের একমাত্র ভরসা। এখানে নিয়মিত প্রশিক্ষণের পাশাপাশি বিভিন্ন জাতীয় পর্যায়ের প্রতিযোগিতাও আয়োজন করা হয়। কিন্তু মেলার কারণে মাঠ বন্ধ থাকলে নারী ও শিশু ক্রীড়াবিদদের প্রশিক্ষণ কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হবে বলে আশঙ্কা করছেন ক্রীড়া সংগঠকরা।

তাঁরা বলছেন, মাঠে মেলা বসলে শুধু খেলাধুলা বন্ধই হবে না, মাঠের অবকাঠামোও ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এতে দীর্ঘ সময় মাঠটি খেলাযোগ্য রাখতে সমস্যা তৈরি হবে। জানা গেছে, মেলার জন্য মাঠ বরাদ্দ পেয়েছে বাংলাদেশ উইভার্স প্রোডাক্টস অ্যান্ড ম্যানুফ্যাকচারার্স বিজনেস অ্যাসোসিয়েশন। এ কারণে ২০ ডিসেম্বর থেকে নির্ধারিত আন্তঃজেলা ফুটবল টুর্নামেন্ট ও আন্তঃবিভাগীয় প্রতিযোগিতার জন্য আয়োজকদের বিকল্প ভেন্যু খুঁজতে হচ্ছে।

জেলা মহিলা ক্রীড়া সংস্থার সাবেক দপ্তর সম্পাদক সিলভী হারুন বলেন, মাঠে মেলা বসলে খেলাধুলা বহু বছর পিছিয়ে যাবে। মাঠের যে ক্ষতি হয়, তা সহজে পুষিয়ে নেওয়া সম্ভব নয়। এমনিতেই খেলার মাঠের সংকট রয়েছে, তার ওপর এই মাঠ বন্ধ থাকলে ছেলে-মেয়েরা কোথায় খেলবে—সে প্রশ্নও তোলেন তিনি। প্রয়োজনে আন্দোলনের ঘোষণাও দেন তিনি।

এদিকে মাঠে মেলা আয়োজনের পক্ষে নয় ক্রীড়া দপ্তরও। তবে কেন্দ্রীয়ভাবে অনুমতি দেওয়া হওয়ায় স্থানীয় পর্যায়ে কিছু করার সুযোগ নেই বলে জানিয়েছেন জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের বিভাগীয় কার্যালয়ের উপপরিচালক আওলাদ হোসেন।

Exit mobile version