আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নির্বাচনী সমঝোতার অংশ হিসেবে শরিক দলগুলোকে আরও ১০টি আসন ছেড়ে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে বিএনপি। বুধবার (২৪ ডিসেম্বর) দুপুরে গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
এর আগে গতকাল মঙ্গলবার (২৩ ডিসেম্বর) জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশকে ৪টি আসন ছেড়ে দিয়েছিল দলটি। ফলে এখন পর্যন্ত মোট ১৪টি আসনে শরিকদের সঙ্গে সমঝোতায় পৌঁছাল বিএনপি।
হেভিওয়েট প্রার্থীদের আসন বণ্টন
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, শরিক দলের শীর্ষ নেতাদের মধ্যে বেশ কয়েকজন প্রভাবশালী নেতা বিএনপির সমর্থনে নির্বাচন করবেন। উল্লেখযোগ্য প্রার্থীরা হলেন:
* বগুড়া-২: মাহমুদুর রহমান মান্না (সভাপতি, নাগরিক ঐক্য)
* ঢাকা-১২: সাইফুল হক (সাধারণ সম্পাদক, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি)
* পটুয়াখালী-৩: নুরুল হক নুর (সভাপতি, গণ অধিকার পরিষদ)
* ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬: জোনায়েদ সাকি (প্রধান সমন্বয়কারী, গণসংহতি আন্দোলন)
* ঢাকা-১৩: ববি হাজ্জাজ (চেয়ারম্যান, এনডিএম—তিনি বিএনপিতে যোগ দিয়ে নির্বাচন করছেন)
* কুমিল্লা-৭: রেদোয়ান আহমেদ (সাবেক সংসদ সদস্য, সম্প্রতি এলডিপি থেকে বিএনপিতে যোগ দিয়েছেন)
অন্যান্য আসনে শরিকদের প্রার্থী
* নড়াইল-২: ফরিদুজ্জামান ফরহাদ (চেয়ারম্যান, এনপিপি—ধানের শীষ প্রতীকে লড়বেন)
* পিরোজপুর-১: মোস্তফা জামাল হায়দার (চেয়ারম্যান, জাতীয় পার্টি-কাজী জাফর)
* যশোর-৫: মুফতি রশিদ (ইসলামী ঐক্যজোট)
* ঝিনাইদহ-৪: মুহাম্মদ রাশেদ খাঁন (সাধারণ সম্পাদক, গণ অধিকার পরিষদ)
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সংবাদ সম্মেলনে স্পষ্ট করে জানান, কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী যেসব আসন শরিকদের ছেড়ে দেওয়া হয়েছে, সেখানে বিএনপির কোনো দলীয় প্রার্থী থাকবে না। দলের কেউ যদি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেন, তবে তার বিরুদ্ধে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
উল্লেখ্য, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। বিএনপি ইতিমধ্যে ৩০০ আসনের মধ্যে ২৭২টিতে দলীয় প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেছে। বাকি ২৮টি আসনের মধ্যে আজ পর্যন্ত ১৪টি আসন শরিকদের জন্য চূড়ান্ত করা হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী এবং ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু উপস্থিত ছিলেন।

