Site icon দৈনিক বঙ্গচিত্র

অভয়ারণ্যে এলাকায় দীর্ঘদিন গোলপাতা না কাটায় ব্যাপক ক্ষতি

||জহিরুল ইসলাম শ্যামনগর||সুন্দরবনের অভয়ারণ্য এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে গোলপাতা না কাটার কারণে বিপুল পরিমাণ গোলপাতা শুকিয়ে মারা যাচ্ছে—এমন উদ্বেগজনক দৃশ্য চোখে পড়ে সাম্প্রতিক সুন্দরবন ভ্রমণে যাওয়া পর্যটক ও স্থানীয় সাংবাদিকদের সরেজমিন পর্যবেক্ষণে।

বিশ্বের বৃহত্তম এ ম্যানগ্রোভ বনের গুরুত্বপূর্ণ প্রাকৃতিক সম্পদ হচ্ছে গোলপাতা, যা দীর্ঘদিন কাটাছেঁড়া ছাড়া জমে গেলে উল্টো বনজ উদ্ভিদ ও প্রতিবেশব্যবস্থার ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

স্থানীয় বনজীবীরা জানান, নিয়মিত ব্যবধানে গোলপাতা কাটার একটি স্বাভাবিক চক্র রয়েছে। কিন্তু অভয়ারণ্য (সাংরক্ষিত) এলাকায় বহু বছর ধরে নিষেধাজ্ঞার কারণে গোলপাতার ঝোপ ঘন হয়ে অতিরিক্ত ভারী হয়ে পড়েছে। বাতাস, লবণাক্ততা ও আলো-বাতাসের অভাবে এসব গাছ ধীরে ধীরে দুর্বল হয়ে শুকিয়ে মারা যাচ্ছে।

একাধিক বনজীবীর ভাষ্য—

গোলপাতা কাটলে যেমন নতুন কুঁড়ি গজায়, তেমনি গাছ সুস্থ থাকে। কিন্তু এখানে বছরের পর বছর কিছুই কাটতে দেওয়া হয়নি। ফলে পুরোনো পাতা জমে গাছ ভেঙে ও শুকিয়ে মরছে।

সরেজমিন দেখা যায়, অভয়ারণ্য এলাকার বিভিন্ন খাল ও বনের ছোট ছোট চরজুড়ে গোলপাতার শুকনো ঝোপে ভরে গেছে। অনেক জায়গায় গাছের ডাঁটাও ভেঙে পড়ে রয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গোলপাতা কাটার ওপর নিষেধাজ্ঞা থাকলেও বন ব্যবস্থাপনায় টেকসই পরিকল্পনার অভাবেই এমন সমস্যা তৈরি হচ্ছে।

স্থানীয় পরিবেশকর্মীদের মতে, “এভাবে গোলপাতা মরতে থাকলে শুধু অর্থনৈতিক ক্ষতিই নয়, গোটা সুন্দরবনের খাদ্যশৃঙ্খলা ও জীববৈচিত্র্যও ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।”

বন বিভাগের কিছু কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, অভয়ারণ্য এলাকায় মানুষের প্রবেশ সীমিত থাকায় স্বাভাবিক ব্যবস্থাপনার সুযোগ কম। তবে গোলপাতা রক্ষায় পর্যবেক্ষণ জোরদার ও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার কথা বিবেচনায় নিয়ে আশা দরকার।

স্থানীয়রা মনে করেন, অভয়ারণ্য রক্ষা গুরুত্বপূর্ণ হলেও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় গোলপাতায় প্রয়োজনীয় ছাঁটাই বা বৈজ্ঞানিক ব্যবস্থাপনা জরুরি। অন্যথায় বড় পরিসরে গোলপাতার জমি নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

Exit mobile version