দীর্ঘ ১৭ বছরের প্রবাস জীবন শেষে বীরের বেশে প্রিয় জন্মভূমিতে ফিরেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। বৃহস্পতিবার (২৫ ডিসেম্বর) বিকেলে রাজধানীর ‘৩৬ জুলাই এক্সপ্রেসওয়ে’ সংলগ্ন এলাকায় আয়োজিত এক বিশাল গণসংবর্ধনায় তিনি তার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও দেশ গড়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। ১৬ মিনিটের এক আবেগঘন বক্তব্যে তিনি তুলে ধরেন বৈষম্যহীন ও নিরাপদ এক বাংলাদেশের স্বপ্ন।
জনতার উদ্দেশে তারেক রহমানের বার্তার মূল অংশগুলো নিচে তুলে ধরা হলো:
ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানের স্বীকৃতি
বক্তব্যের শুরুতে তারেক রহমান মহান আল্লাহর প্রতি শুকরিয়া জ্ঞাপন করেন। তিনি বলেন, ১৯৭১ সালে লাখো শহীদের রক্তে অর্জিত স্বাধীনতা রক্ষা করেছিল ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান। কৃষক, শ্রমিক, নারী ও মাদরাসা ছাত্রসহ সকল পেশার মানুষের এই আত্মত্যাগের মাধ্যমেই দেশ আজ স্বৈরাচারমুক্ত।
অন্তর্ভুক্তিমূলক ও নিরাপদ বাংলাদেশ
তারেক রহমান এক নিরাপদ বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখিয়ে বলেন, “আমরা এমন এক দেশ গড়তে চাই যেখানে একজন মা তার সন্তানকে নিয়ে নিশ্চিন্তে থাকতে পারবেন। নারী-পুরুষ নির্বিশেষে প্রতিটি মানুষ ঘর থেকে বের হলে যেন নিরাপদে আবারও ঘরে ফিরে আসতে পারে, সেটিই আমাদের লক্ষ্য।” তিনি পাহাড়-সমতল এবং সকল ধর্ম-বর্ণের মানুষের জন্য সমান অধিকার নিশ্চিত করার অঙ্গীকার করেন।
‘আই হ্যাভ অ্যা প্ল্যান’
যুক্তরাষ্ট্রের কিংবদন্তি নেতা মার্টিন লুথার কিংয়ের ‘আই হ্যাভ অ্যা ড্রিম’ ভাষণের প্রসঙ্গ টেনে তারেক রহমান বলেন, “আমারও একটি সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা আছে। এই পরিকল্পনা দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তনের জন্য, দেশের উন্নয়নের জন্য। তবে এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে দেশের প্রতিটি মানুষের সহযোগিতা আমার প্রয়োজন।”
তরুণদের প্রতি আহ্বান ও ধৈর্যের পরীক্ষা
ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব হিসেবে তরুণ প্রজন্মের ওপর আস্থা রেখে তিনি বলেন, “তরুণরাই আগামী দিনের বাংলাদেশকে শক্তিশালী অর্থনৈতিক ও গণতান্ত্রিক ভিত্তির ওপর দাঁড় করাবে।” একই সঙ্গে তিনি দলীয় নেতাকর্মী ও দেশবাসীকে যেকোনো উসকানির মুখে ধৈর্য ধরার আহ্বান জানান। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, আধিপত্যবাদী শক্তির গুপ্তচরেরা এখনো ষড়যন্ত্রে লিপ্ত, তাই যেকোনো মূল্যে দেশে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে হবে।
মায়ের জন্য দোয়া প্রার্থনা
বক্তব্যের একপর্যায়ে তিনি তার মা, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থার কথা উল্লেখ করে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। তিনি বলেন, “সন্তান হিসেবে আমার মন হাসপাতালের বিছানায় পড়ে আছে। কিন্তু দেশনেত্রী যাদের জন্য জীবন উৎসর্গ করেছেন, সেই আপনাদের ফেলে আমি যেতে পারি না।” তিনি তার মায়ের দ্রুত সুস্থতার জন্য দেশবাসীর কাছে দোয়া চান।
সবশেষে, দলমত নির্বিশেষে নতুন ও স্বৈরাচারমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তারেক রহমান তার বক্তব্য শেষ করেন। ‘বাংলাদেশ জিন্দাবাদ’ ও ‘বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল জিন্দাবাদ’ স্লোগানে প্রকম্পিত হয়ে ওঠে পুরো সমাবেশস্থল।

