Site icon দৈনিক বঙ্গচিত্র

ইরানে বিক্ষোভ ঘিরে ব্যাপক সহিংসতা: নিহত ১০৯ নিরাপত্তা সদস্য

ইরানে চলমান সরকারবিরোধী বিক্ষোভ ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। গত কয়েকদিনের সংঘাত ও হামলায় এখন পর্যন্ত দেশটির নিরাপত্তা বাহিনীর ১০৯ জন সদস্য নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে রাষ্ট্রীয় ও আধা-সরকারি গণমাধ্যম। এর মধ্যে রাজধানী তেহরানসহ বিভিন্ন শহরে মসজিদে অগ্নিসংযোগ ও সরকারি স্থাপনায় হামলার ঘটনা ঘটেছে।

রোববার (১১ জানুয়ারি) ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের বরাতে জানা গেছে, শুধু ইসফাহান প্রদেশেই সর্বশেষ সহিংসতায় পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনীর ৩০ সদস্য প্রাণ হারিয়েছেন। এছাড়া কেরমানশাহ প্রদেশে আরও ছয়জন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা তাসনিম জানিয়েছে, দেশজুড়ে চলা এই বিক্ষোভে নিরাপত্তা বাহিনীর মোট নিহতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১০৯ জনে।

সহিংসতার আঁচ লেগেছে মানবিক সহায়তা সংস্থাগুলোতেও। ইরানের রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি জানিয়েছে, গোরগান শহরে তাদের একটি ভবনে হামলার ঘটনায় এক কর্মী নিহত হয়েছেন। এদিকে শনিবার রাতে মাশহাদ শহরের একটি মসজিদে বিক্ষোভকারীরা আগুন ধরিয়ে দেয় বলে রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে দাবি করা হয়েছে।

আল জাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, মূলত দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি ও জীবনযাত্রার কঠিন সংকটের প্রতিবাদে এই বিক্ষোভ শুরু হলেও তা এখন সহিংস আকার ধারণ করেছে। তেহরান বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক হাসান আহমাদিয়ান এই পরিস্থিতিকে ইরানের ইতিহাসের অন্যতম ভয়াবহ সময় হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

ইরানের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসার দাবি করলেও দেশটির অ্যাটর্নি জেনারেল হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, সহিংসতায় জড়িতদের সর্বোচ্চ শাস্তি হিসেবে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হতে পারে।

এদিকে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে জাতির উদ্দেশ্যে দেওয়া এক ভাষণে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান অভিযোগ করেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল এই ‘দাঙ্গা’ উসকে দিয়ে দেশে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করছে। তিনি সাধারণ মানুষকে সহিংস পথ ত্যাগ করার আহ্বান জানান। অন্যদিকে দেশটির পার্লামেন্ট স্পিকার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানে কোনো ধরনের হামলা চালালে ওয়াশিংটন ও ইসরাইলের বিরুদ্ধে পাল্টা আঘাত হানবে তেহরান।

Exit mobile version