ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় চলমান ইসরায়েলি আক্রমণের প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও সম্প্রতি ইসরায়েল সফর করেছেন। সেখানে তিনি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে বৈঠক করেন এবং গাজায় হামাসের বিরুদ্ধে ইসরায়েলের অভিযানকে যুক্তরাষ্ট্রের ‘অবিচল সমর্থন’ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন।
রোববার ইসরায়েল পৌঁছানোর পর সোমবার জেরুজালেমে নেতানিয়াহুর সঙ্গে এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে অংশ নেন রুবিও। এ সময় তিনি পশ্চিমা দেশগুলোর ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দেওয়ার পরিকল্পনার সমালোচনা করেন এবং বলেন, এই উদ্যোগ কোনো ইতিবাচক পরিবর্তন আনবে না, বরং হামাসকে আরও উৎসাহিত করবে।
রুবিও বলেন, গাজার সাধারণ মানুষ একটি উন্নত ভবিষ্যতের অধিকার রাখে, কিন্তু যতক্ষণ হামাসকে নির্মূল না করা যাবে, ততক্ষণ তা সম্ভব নয়। নেতানিয়াহুর উদ্দেশে তিনি বলেন, “আপনি আমাদের স্থায়ী সমর্থনের ওপর আস্থা রাখতে পারেন।” তিনি আরও জানান, ইসরায়েলি বাহিনীর গাজা সিটিতে সামরিক অগ্রযাত্রা নিয়ে নেতানিয়াহুর সঙ্গে আলোচনা করবেন।
সংবাদ সম্মেলনে ইসরায়েলকে সমর্থনের জন্য মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ভূয়সী প্রশংসা করেন নেতানিয়াহু। তিনি ট্রাম্পকে “ইসরায়েলের সর্বকালের সেরা বন্ধু” বলে উল্লেখ করেন এবং বলেন, রুবিওর সফর যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থনের প্রতীক।
এই সফর এমন এক সময় হলো, যখন গাজার উত্তরাঞ্চলে ইসরায়েলি বাহিনী মাত্র একদিনেই ২৫ জন ফিলিস্তিনিকে হত্যা করেছে। আগের দিন আরও অন্তত ৫৩ জন প্রাণ হারান। ইসরায়েলি হামলার মুখে লক্ষাধিক মানুষ গাজা থেকে পালিয়ে যেতে বাধ্য হচ্ছে।
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের ইসরায়েল হামলার জবাবে ইসরায়েল গাজায় ব্যাপক সামরিক অভিযান শুরু করে। তখন থেকে এ পর্যন্ত প্রায় ৬৫ হাজার ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন, আহত হয়েছেন এক লাখ ৬৩ হাজারের বেশি।
দোহা সম্মেলনে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়ার আহ্বান
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই ইসরায়েল সম্প্রতি কাতারের রাজধানী দোহায় হামলা চালিয়েছে। দাবি করা হয়, এই হামলার লক্ষ্য ছিল সেখানে অবস্থানরত হামাস নেতারা। কাতার এ ঘটনার তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে এবং দেশটির সার্বভৌমত্বে আঘাত হিসেবে দেখছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পও এই হামলার সমালোচনা করেছেন।
এই প্রেক্ষাপটে আজ সোমবার দোহায় শুরু হয়েছে আরব লিগ ও ইসলামি সহযোগিতা সংস্থা (ওআইসি)-এর জরুরি সম্মেলন। সম্মেলনে অংশ নিতে মুসলিম ও আরব দেশগুলোর নেতারা দোহায় পৌঁছেছেন। এর আগের দিন তাঁদের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা এক রুদ্ধদ্বার বৈঠকে বসেন, যেখানে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার একটি খসড়া প্রস্তাব তৈরি করা হয়।
কাতারের প্রধানমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আবদুল রহমান বিন জসিম আল থানি সম্মেলনের আগে বলেন, ইসরায়েলের হামলা আন্তর্জাতিক নীতিমালার লঙ্ঘন। তিনি আরব ও মুসলিম বিশ্বের পক্ষ থেকে দেওয়া প্রতিক্রিয়ার প্রশংসা করেন এবং বলেন, কাতার তার সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সব ধরনের আইনি পদক্ষেপ নেবে।

