ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও ঢাকা–৮ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী শরীফ ওসমান হাদির মৃত্যুর খবরে উত্তাল হয়ে ওঠে রাজধানী। বৃহস্পতিবার (১৮ ডিসেম্বর) রাতে মৃত্যুসংবাদ ছড়িয়ে পড়ার পর শাহবাগে ছাত্র-জনতা জড়ো হলে সেখানে উপস্থিত হয়ে জাতিকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম।
সমাবেশে নাহিদ ইসলাম বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে জনগণকে দায়িত্বশীল আচরণ করতে হবে এবং যেকোনো মূল্যে ঐক্য ধরে রাখতে হবে। তিনি সতর্ক করে বলেন, আন্দোলনের ভেতরের ক্ষোভকে কাজে লাগিয়ে একটি পক্ষ নাশকতার পরিকল্পনা করছে। “এখন জাতিকে বিভক্ত করার সময় নয়। যারা আন্দোলনের গতিপথ ভিন্ন দিকে নিতে চায়, তাদের বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে,” বলেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, জুলাই আন্দোলনের সময় সব শক্তি ঐক্যবদ্ধ ছিল এবং সেই ঐক্যের ফলেই আন্দোলন শক্তিশালী হয়েছিল। একই চেতনায় আবারও ফ্যাসিবাদবিরোধী সব রাজনৈতিক দল ও শক্তিকে এক মঞ্চে আসার আহ্বান জানান নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, সম্মিলিতভাবে কথা বলা এবং যৌথ কর্মসূচি ঘোষণা করা জরুরি। আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে আগামী দিনের কর্মসূচি নিয়ে বিভিন্ন পক্ষের সঙ্গে আলোচনা চলছে বলেও জানান তিনি।
হাদির হত্যাকাণ্ড প্রসঙ্গে নাহিদ ইসলাম অভিযোগ করেন, ঘটনার সঙ্গে জড়িতরা ভারতে পালিয়ে গেছে। তিনি বলেন, হত্যাকারীদের দেশে ফিরিয়ে আনতে হবে এবং তা না হওয়া পর্যন্ত ভারতের সঙ্গে কোনো ধরনের সম্পর্ক না রাখার কথাও মন্তব্য করেন তিনি।
উল্লেখ্য, জাতীয় নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পরদিন ১২ ডিসেম্বর রাজধানীর পুরানা পল্টনের বক্স কালভার্ট সড়কে চলন্ত মোটরসাইকেল থেকে দুর্বৃত্তরা রিকশায় থাকা ওসমান হাদিকে গুলি করে। ঢাকা–৮ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রচারণার সময় খুব কাছ থেকে তাকে লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেওয়া হয়।
পরবর্তীতে পরিবারের সিদ্ধান্তে তাকে রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। উন্নত চিকিৎসার জন্য সোমবার (১৫ ডিসেম্বর) দুপুরে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

