সিলেট শহরের সৌন্দর্যবর্ধনের জন্য কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত ফোয়ারাগুলো এখন অযত্ন ও অবহেলায় ময়লার ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে। রোববার (২৩ নভেম্বর) সরজমিনে দেখা গেছে, শহরের ছয়টি ফোয়ারার চারপাশে আবর্জনা জমে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে, মোটর ও যন্ত্রাংশ চুরি হয়ে গেছে, এবং কিছু ফোয়ারা পুরোপুরি অচল।
২০০৬ সালে হুমায়ূন রশীদ চত্বর, কুমারপাড়া, শাহী ঈদগাহ, নাইওরপুল, বন্দরবাজার ও ক্বিনব্রিজে প্রায় দুই কোটি টাকা ব্যয়ে এই ফোয়ারাগুলো স্থাপন করা হয়েছিল। কিন্তু বর্তমানে এগুলোকে ফোয়ারা বলা যায় না; বরং ময়লার জায়গা হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। ফোয়ারার চারপাশের গার্ড ওয়াল ও স্টিলের রেলিং চুরি হয়ে যাওয়ায় সেগুলো আড্ডা এবং আবর্জনা ফেলার জায়গা হিসেবে ব্যবহার হচ্ছে।
সিটি করপোরেশন ও জেলা পরিষদ ফোয়ারাগুলো নির্মাণ করলেও নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সন্দীপ কুমার সিংহ বলেন, সিটি করপোরেশন ফোয়ারাগুলো হস্তান্তর করলে তারা জনস্বার্থে ও নান্দনিকতা ফিরিয়ে আনতে কাজ করতে প্রস্তুত। সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ রেজাই রাফিন সরকার জানান, নতুন পরিকল্পনা নিয়ে কর্তৃপক্ষ ভাবছে।
এদিকে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের ট্রাফিক বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার সুদীপ্ত রায় বলেন, চত্বর ও ফোয়ারা অপসারণের জন্য সিটি করপোরেশনকে চিঠি দেওয়া হয়েছে।
নাগরিকরা বলছেন, ১৯ বছর ধরে অবহেলিত এই ফোয়ারাগুলো সৌন্দর্যের প্রতীক নয়, বরং অবহেলার প্রতীক হিসেবে রয়ে গেছে।