শিরোনাম:
ঘূর্ণিঝড় ‘ডিটওয়াহ’–এ বিপর্যস্ত শ্রীলঙ্কার পাশে ভারতের ‘অপারেশন সাগরবন্ধু’
রিফ্রেইজ করা সংবাদ:
ঘূর্ণিঝড় ডিটওয়াহের প্রভাবে শ্রীলঙ্কায় ব্যাপক বন্যা ও ভূমিধসের পর দেশটির সহায়তায় বিশেষ মানবিক উদ্যোগ ‘অপারেশন সাগরবন্ধু’ শুরু করেছে ভারত। পরিস্থিতি ভয়াবহ হয়ে উঠতেই নয়াদিল্লি জরুরি ত্রাণ পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেয়।
শুক্রবার (২৮ নভেম্বর) রাতে ভারতীয় বিমানবাহিনীর দুটি বিশেষ উড়োজাহাজ প্রায় ২১ টন ত্রাণসামগ্রী নিয়ে কলম্বোয় পৌঁছায়। এসব সামগ্রীর মধ্যে ছিল তাঁবু, ত্রিপল, কম্বল, ওষুধ এবং খাদ্যসামগ্রী। এগুলো ইতোমধ্যেই ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে পৌঁছানো শুরু হয়েছে।
এর আগে ভারতীয় নৌবাহিনীর জাহাজ আইএনএস বিক্রান্ত এবং আইএনএস উদয়গিরি প্রথম দফায় ত্রাণ পাঠায়। তাতে ছিল প্রায় ৪.৫ টন শুকনো খাবার এবং ২ টন দুধ, বেকারি সামগ্রী, প্রস্তুত খাবার ও পানীয়।
ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস. জয়শঙ্কর এক্স-এ জানান, শ্রীলঙ্কার এই সংকটে সাহায্য করা দু’দেশের ঘনিষ্ঠ সম্পর্কেরই প্রতিফলন। ভারতীয় হাইকমিশন জানিয়েছে, ‘প্রতিবেশী প্রথম’ নীতির আওতায় আরও ত্রাণ পাঠানোর প্রস্তুতি রয়েছে।
শ্রীলঙ্কার দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগ (ডিএমসি) জানায়, ঘূর্ণিঝড় ডিটওয়াহের কারণে সৃষ্ট বন্যা ও ভূমিধসে এখন পর্যন্ত ১৩২ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং ১৭৬ জন নিখোঁজ। প্রায় ১৫ হাজার ঘরবাড়ি ধ্বংস হয়েছে, আর ৪৪ হাজার মানুষ আশ্রয়কেন্দ্রে রয়েছে।
গত এক সপ্তাহের ভারী বৃষ্টির পর শুক্রবার সকালে ঘূর্ণিঝড় ডিটওয়াহ দেশটির ওপর দিয়ে বয়ে যায়, যা ধ্বংসযজ্ঞ আরও বাড়িয়ে দেয়। কিছু এলাকায় বৃষ্টিপাত হয়েছে ৩০০ মিলিমিটার পর্যন্ত, ফলে নতুন করে বন্যা ও ভূমিধস দেখা দেয়।
ডিএমসির পরিচালক সম্পথ কোতুওয়েগোদা জানান, সামরিক বাহিনীর কয়েক হাজার সদস্য ত্রাণ ও উদ্ধারকাজে অংশ নিয়েছে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে শ্রীলঙ্কায় জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছেন প্রেসিডেন্ট অনুরা কুমারা দিসানায়েকে এবং আন্তর্জাতিক সহায়তার আহ্বান জানিয়েছেন।