
জানা গেছে, ২০১৯ সালে সরকারি অর্থে প্রকল্পের কাজ শুরু হয় এবং ২০২২ সালের মাঝামাঝি উদ্বোধন করা হয়। পুরো পৌরসভায় বিশুদ্ধ পানি সরবরাহের কথা থাকলেও বর্তমানে ১০ হাজারের বেশি পরিবারের মধ্যে মাত্র ৩২৮টি পরিবার পানি পাচ্ছে—যা মোটের মাত্র ৩ শতাংশ।
অভিযোগ রয়েছে, শুরু থেকেই রক্ষণাবেক্ষণের অবস্থা খুবই খারাপ। বড় প্রকল্প হয়েও এটি চালানো হচ্ছে শুধু একজন অপারেটর ও একজন নাইটগার্ড দিয়ে। এ কারণে পাইপলাইনে বারবার লিকেজ, ত্রুটি এবং যান্ত্রিক সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে। ফলে কোনো এলাকায় কখনো পানি আসে, আবার অনেক এলাকায় একদমই আসে না।
স্থানীয় বাসিন্দারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, কোটি টাকা খরচ করেও তারা এখনও টিউবওয়েলের ওপর নির্ভরশীল। কেউ কেউ বলেন—মাসব্যাপী লাইন থাকলেও পানি পাওয়া যায় মাত্র ১৫ দিনের মতো, অনেক সময় পানির সঙ্গে শ্যাওলা পাওয়া যায়। কেউ আবার অভিযোগ করেন—তিন বছর ধরে মেরামতের কথা শুনছেন, কিন্তু সমস্যার সমাধান হচ্ছে না। মাস শেষে নিয়মিত পানি বিলও গুনতে হচ্ছে।
অনেক সচেতন নাগরিক মনে করেন, প্রকল্পে দুর্নীতি, সঠিক তদারকির অভাব এবং দায়িত্বহীনতার কারণেই এই অবস্থা। এতে ছেংগারচরের প্রায় ৬০ হাজার মানুষ নিরাপদ পানির সুবিধা থেকে বঞ্চিত।
পাম্প স্টেশনের দায়িত্বে থাকা অপারেটর মিরাজ হোসেন জানান, নিয়মিত পানি দিতে চাইলেও লাইন লিকেজ ও যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে তা সম্ভব হচ্ছে না। প্রয়োজনীয় মেরামতের কাজ চলছে।
ছেংগারচর পৌর প্রশাসক মাহমুদা কুলসুম মনি বলেন, প্রকল্পটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ এবং ধীরে ধীরে সমস্যাগুলো সমাধান করা হচ্ছে। কিছু জায়গায় মেরামতের কাজ শুরু হয়েছে। শিগগিরই পৌরবাসী নিয়মিত পানি সুবিধা পাবেন বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।