
তিনি বলেন, নির্বাচনের আগে অস্ত্র ঢোকার আশঙ্কা থাকলেও এখন পর্যন্ত কোনো অস্ত্র উদ্ধার হয়নি। তবুও গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হয়েছে, যাতে সীমান্তপথে কোনো অবৈধ অস্ত্র দেশে ঢুকতে না পারে।
ময়মনসিংহ সেক্টরের দায়িত্ব কুড়িগ্রামের রৌমারী থেকে ফেনীর ছাগলনাইয়া পর্যন্ত ১ হাজার ২০৪ কিলোমিটার এলাকায় বিস্তৃত। সংবাদ সম্মেলনে চোরাচালান, মাদক, জালনোট পাচার, পুশইন এবং পাথর–বালু উত্তোলন রোধে বিজিবির বিভিন্ন সফলতার তথ্য তুলে ধরা হয়।
লিখিত বক্তব্যে কর্নেল মোস্তাফিজুর রহমান জানান, উত্তর-পূর্ব রিজিয়নের অধীনে ময়মনসিংহ, সিলেট, শ্রীমঙ্গল ও কুমিল্লা সেক্টর সীমান্ত সুরক্ষা ও জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নিয়মিত অভিযান চালাচ্ছে।
তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত চারটি সেক্টরের অভিযানে ৭৫৪ কোটি টাকার মালামাল আটক করা হয়েছে। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে ২৫ নভেম্বর পর্যন্ত চোরাচালানবিরোধী অভিযানে ৭১০ কোটি টাকার পণ্য ও ৬৪ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। মাদকবিরোধী অভিযানে আরও ৪৩ কোটি টাকার মাদক এবং ৩৩০ জনকে আটক করা হয়।
ময়মনসিংহ সেক্টর একা ৫৫ কোটি ৯৪ লক্ষ টাকার চোরাচালান পণ্য ও ১৪ জন আসামি, এবং ৪ কোটি ৬৪ লক্ষ টাকার মাদকসহ ১০০ জনকে গ্রেফতার করেছে।
অবৈধ অনুপ্রবেশ রোধে বিশেষ অভিযান পরিচালনার সময় ১৮ জন আসামি, ৯ লাখ ৭৫ হাজার ঘনফুট বালু ও প্রায় ৫ লাখ ঘনফুট পাথর জব্দ করা হয়েছে। পাশাপাশি ট্রাক, ট্রলি, ট্রাক্টর, লরি, নৌকা এবং বিভিন্ন অবৈধ সরঞ্জাম আটক বা ধ্বংস করা হয়েছে।
বিজিবি জানায়, চোরাচালান, মাদক, জালনোট, অবৈধ অনুপ্রবেশ ও পরিবেশবিরোধী কর্মকাণ্ড রোধে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করা হচ্ছে। সীমান্তে ড্রোন, নাইট ভিশন এবং ডিজিটাল নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। এছাড়া সীমান্ত এলাকার মানুষকে নিয়মিত সচেতন করে অবৈধ কার্যকলাপের তথ্য জানানোর আহ্বান জানানো হচ্ছে।