ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে দলীয় মনোনয়ন না পেলেও নির্বাচনী মাঠ ছাড়ছেন না বিএনপির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সহসম্পাদক ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা। জোটগত সমীকরণে আসনটি অন্য দলকে ছেড়ে দেওয়া হলেও স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সিদ্ধান্তে অটল রয়েছেন তিনি। মঙ্গলবার (২৩ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় গণমাধ্যমে দেওয়া এক প্রতিক্রিয়ায় তিনি সরাসরি জানিয়ে দেন, “দলের সিদ্ধান্ত দল নেবে, আর আমি নেব আমার সিদ্ধান্ত।”
জোটের স্বার্থে আসন বিসর্জন
মঙ্গলবার দুপুরে গুলশানে এক সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জানান, আসন ভাগাভাগির কারণে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল-আশুগঞ্জ) আসনটি জমিয়তে উলামায়ে ইসলামকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। সেখানে জোটের প্রার্থী হিসেবে ‘খেজুর গাছ’ প্রতীক নিয়ে লড়বেন মাওলানা জুনায়েদ আল হাবিব।
রুমিন ফারহানা মনে করেন, বড় দল হিসেবে জোট টিকিয়ে রাখতে বিএনপিকে এমন কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে। তবে মাঠের কর্মীদের আবদার রক্ষায় তিনি স্বতন্ত্র লড়াই চালিয়ে যেতে চান। তিনি বলেন, “নেতাকর্মীরাই আমার আসল শক্তি এবং তারাই আমার মনোনয়ন দানকারী। তাদের মাঝপথে রেখে আমি সরে দাঁড়াতে পারি না।”
পারিবারিক ঐতিহ্য ও স্থানীয় সমীকরণ
ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে বিএনপির শক্ত অবস্থান দীর্ঘদিনের। ১৯৭৩ সালে রুমিন ফারহানার বাবা বরেণ্য রাজনীতিবিদ অলি আহাদও এই আসন থেকে নির্বাচন করেছিলেন। সেই ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতা রক্ষায় এবার নিজেও প্রার্থী হতে চান রুমিন। তবে দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে ভোট করায় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বেশ কৌশলী ও অনমনীয় উত্তর দেন।
চতুর্মুখী লড়াইয়ের আভাস
রুমিন ফারহানা ছাড়াও এই আসনে বিএনপির আরও দুই নেতা—এস এন তরুণ দে এবং আক্তার হোসেন স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। এছাড়া জামায়াতে ইসলামীর মোবারক হোসাইন, জাতীয় নাগরিক পার্টির মাওলানা আশরাফ মাহদী এবং এনডিএফ-এর জিয়াউল হক মৃধাসহ বেশ কয়েকজন হেভিওয়েট প্রার্থী এই আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। ফলে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে এবার তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক নির্বাচনের আভাস পাওয়া যাচ্ছে।

