ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট আগামী বছরের ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি বলেন, এই দুই গুরুত্বপূর্ণ আয়োজন ঘিরে প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুতি ইতোমধ্যে সম্পন্ন করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৬ ডিসেম্বর) মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে প্রধান উপদেষ্টা জানান, নির্বাচন কমিশন ইতোমধ্যে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেছে এবং সরকার কমিশনকে সব ধরনের সহযোগিতা দিয়ে যাচ্ছে।
ড. ইউনূস বলেন, আসন্ন নির্বাচন ও গণভোট বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ রাষ্ট্রকাঠামো নির্ধারণে একটি ঐতিহাসিক মুহূর্ত। গণভোটের ফলাফলের মাধ্যমেই নতুন বাংলাদেশের চরিত্র, কাঠামো ও অগ্রযাত্রার দিক নির্ধারিত হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
নির্বাচনের পরিবেশ নিয়ে তিনি বলেন, সরকার একটি উৎসবমুখর, অংশগ্রহণমূলক, শান্তিপূর্ণ ও সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজন করতে চায়। নিরাপত্তা, প্রশাসনিক প্রস্তুতি, প্রযুক্তিগত সহায়তা ও নির্বাচন পর্যবেক্ষণের প্রতিটি ধাপে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়ার প্রতিশ্রুতিও দেন তিনি।
ভোটের গুরুত্ব তুলে ধরে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, নতুন বাংলাদেশ গড়ার দায়িত্ব দেশের সব নাগরিকের। ভোট শুধু আনুষ্ঠানিকতা নয়; এটি রাষ্ট্র গঠনে নাগরিকদের সক্রিয় অংশগ্রহণ এবং গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগের প্রতিফলন। ভোটের মাধ্যমেই জনগণ রাষ্ট্রের মালিকানা প্রকাশ করে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতা বজায় রাখতে রাজনৈতিক দলগুলোর ভূমিকার ওপর জোর দিয়ে ড. ইউনূস বলেন, দলগুলোকে একে অপরকে প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে দেখতে হবে, শত্রু হিসেবে নয়। নির্বাচনের মাঠে শান্তিপূর্ণ ও বিশ্বাসযোগ্য পরিবেশ তৈরি করতে রাজনৈতিক নেতৃত্বকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান তিনি।