||বিএন আহাম্মেদ ||দেশের পুলিশকে আরও স্বচ্ছ, পেশাদার ও জনমনে বিশ্বাসযোগ্য করে গড়ে তোলার লক্ষ্যে ‘পুলিশ কমিশন অধ্যাদেশ-২০২৫’-এর খসড়া চূড়ান্ত করা হয়েছে। এটি জুলাই সনদের আলোকে রাজনৈতিক দলগুলোর ঐকমত্যের ভিত্তিতে প্রণীত সংস্কারের অংশ।
সূত্র জানায়, কয়েক দিনের মধ্যে খসড়াটি অনুমোদনের জন্য উপদেষ্টা পরিষদে পাঠানো হবে। অনুমোদনের পর এটি পুলিশ সংস্কারে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে গণ্য হবে।
অধ্যাদেশের খসড়া প্রস্তুত করেছে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. আসিফ নজরুলের নেতৃত্বে গঠিত কমিটি। এতে কমিশনের কাঠামো, এখতিয়ার ও কার্যাবলি নির্ধারণ করা হয়েছে।
প্রস্তাব অনুযায়ী, কমিশনের চেয়ারম্যান হিসেবে একজন অবসরপ্রাপ্ত সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি দায়িত্ব পালন করবেন। সদস্যদের মধ্যে থাকবেন অবসরপ্রাপ্ত জেলা জজ, সিনিয়র সরকারি কর্মকর্তা, অতিরিক্ত পুলিশ মহাপরিদর্শক পদমর্যাদার একজন অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তা, সাবেক পুলিশ একাডেমি অধ্যক্ষ, আইন বা অপরাধতত্ত্বের অধ্যাপক এবং অভিজ্ঞ মানবাধিকার কর্মী। চেয়ারম্যানের পদমর্যাদা আপিল বিভাগের বিচারপতির সমান হবে, সদস্যদের পদ হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতির সমান। প্রত্যেকের মেয়াদ চার বছর, পুনঃনিয়োগের সুযোগ থাকবে না।
খসড়া অনুযায়ী, কমিশনের সুপারিশ বা নির্দেশনা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে তিন মাসের মধ্যে বাস্তবায়ন করতে হবে। প্রয়োজনে জটিলতা থাকলে কমিশনকে জানাতে হবে।
কমিশন গঠনের জন্য সাত সদস্যের নির্বাচন কমিটি থাকবে, যার মধ্যে প্রধান বিচারপতির মনোনীত একজন সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি, জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান, সরকার ও বিরোধী দলের প্রতিনিধি থাকবেন। নির্বাচন প্রক্রিয়া ৩০ দিনের মধ্যে সম্পন্ন করতে হবে এবং কমপক্ষে পাঁচ সদস্য উপস্থিত থাকলে কোরাম পূর্ণ হবে।
অধ্যাদেশে কমিশনের প্রশাসনিক কাঠামো, সদস্যদের নিয়োগ ও অপসারণ, পুলিশ শৃঙ্খলা ও জবাবদিহিতা, অভিযোগ তদন্ত ও পুলিশ প্রধান নিয়োগসহ বিস্তারিত বিধান অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।