||বিএন আহাম্মেদ || সব নাগরিকের জন্য সম্মানজনক ও নিরাপদ ভবিষ্যৎ গড়তে সরকার সর্বজনীন পেনশন স্কিম চালু করেছে বলে জানিয়েছেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব ড. শেখ আব্দুর রশীদ। তিনি বলেন, বাংলাদেশ এখন জনমিতিক সুবিধার সময় অতিক্রম করছে। আগামী দশকে দেশে বৃদ্ধ জনগোষ্ঠীর সংখ্যা যেমন বাড়বে, তেমনি গড় আয়ুও বৃদ্ধি পাবে। তাই ভবিষ্যতে বার্ধক্যে মানুষের আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এই পেনশন স্কিম নেওয়া হয়েছে।
রোববার (২৬ অক্টোবর) সকালে খুলনা বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত সর্বজনীন পেনশন মেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, শিক্ষকরা অল্প পেনশন পান এবং তা পেতেও অনেক ঝামেলায় পড়তে হয়। বেসরকারি কর্মীরা আবার চাকরি হারানোর আতঙ্কে থাকেন। এই স্কিম তাদের জন্য আশার আলো হতে পারে। অংশগ্রহণকারীরা নিজেদের জমাকৃত অর্থ থেকে ঋণ নিতে পারবেন এবং ১০ বছর চাঁদা জমা রাখলেই পেনশন সুবিধা পাবেন।
তিনি জোর দিয়ে বলেন, এই উদ্যোগ রাজনৈতিক নয়, এটি নাগরিকের ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা নিশ্চিত করার সরকারি কর্মসূচি।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি রেলপথ সচিব মো. ফাহিমুল ইসলাম বলেন, জনগণের প্রতি রাষ্ট্রের দায়বদ্ধতা থেকেই সর্বজনীন পেনশন স্কিমের সূচনা হয়েছে। এর মূল লক্ষ্য হলো অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন নিশ্চিত করা।
অনুষ্ঠানে খুলনার বিভাগীয় কমিশনার (ভারপ্রাপ্ত) মো. ফিরোজ শাহের সভাপতিত্বে আরও উপস্থিত ছিলেন জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী চেয়ারম্যান মো. মহিউদ্দীন খান, খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার মো. জুলফিকার আলী হায়দার, সদস্য (ফান্ড ম্যানেজমেন্ট) মো. গোলাম মোস্তফা এবং অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (সার্বিক) মো. হুসাইন শওকত।
পরে বিভাগীয় কমিশনারের সম্মেলনকক্ষে অনুষ্ঠিত কর্মশালায় ড. শেখ আব্দুর রশীদ বলেন, কল্যাণ রাষ্ট্রের অন্যতম দায়িত্ব হলো নাগরিকের আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষ কঠিন বাস্তবতার মধ্যে জীবনযাপন করে, তাদের সম্মানজনক জীবনের নিশ্চয়তার জন্যই সর্বজনীন পেনশন স্কিম চালু করা হয়েছে।
এর আগে তিনি খুলনা বিভাগের কর্মকর্তাদের সঙ্গেও মতবিনিময় করেন।