ভারতের ঐতিহ্যবাহী জামিয়া মিলিয়া ইসলামিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (জেএমআই) একজন অধ্যাপকের তৈরি করা পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ঘিরে শুরু হয়েছে তুমুল বিতর্ক। বিএ (অনার্স) সোশ্যাল ওয়ার্কের সেমিস্টার পরীক্ষায় ‘ভারতে মুসলিম সংখ্যালঘুদের ওপর অত্যাচার’ সংক্রান্ত একটি প্রশ্ন রাখায় ওই অধ্যাপককে সাময়িক বরখাস্ত (সাসপেন্ড) করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
সংবাদমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ঘটনাটি ঘটেছে বিএ (অনার্স) সোশ্যাল ওয়ার্কের প্রথম সেমিস্টারের ‘সোশ্যাল প্রবলেমস ইন ইন্ডিয়া’ বিষয়ের পরীক্ষায়। সেখানে ১৫ নম্বরের একটি প্রশ্ন ছিল: ‘উদাহরণসহ ভারতে মুসলিম সংখ্যালঘুদের ওপর হওয়া অত্যাচার সম্পর্কে আলোচনা করো।’
প্রশ্নপত্রটির ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়ার পরপরই সমালোচনার ঝড় ওঠে। বিষয়টি নিয়ে কড়া অবস্থান নেয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার সিএ শেখ সফিউল্লাহ স্বাক্ষরিত এক নির্দেশিকায় জানানো হয়েছে, একাডেমিক শৃঙ্খলা বজায় রাখতে অধ্যাপক বীরেন্দ্র বালাজি শাহারে-কে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।
* পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখতে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
* কমিটির রিপোর্ট জমা না দেওয়া পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট অধ্যাপক বরখাস্ত থাকবেন।
* বরখাস্ত থাকাকালীন তিনি কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া নয়াদিল্লি ত্যাগ করতে পারবেন না।
* বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে এই বিষয়ে পুলিশের কাছে এফআইআর (FIR) করার প্রস্তুতিও নেওয়া হচ্ছে।
জামিয়া মিলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইট অনুযায়ী, বীরেন্দ্র বালাজি শাহারে একজন অত্যন্ত অভিজ্ঞ শিক্ষক। ২২ বছরেরও বেশি সময় ধরে তিনি অধ্যাপনা পেশায় নিয়োজিত। এমন একজন প্রবীণ অধ্যাপকের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানায়, কোনো সদস্যের অবহেলা বা উস্কানিমূলক কর্মকাণ্ডকে প্রশ্রয় দেওয়া হবে না। প্রাতিষ্ঠানিক মর্যাদা ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখতেই এই তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।