আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিএনপির সঙ্গে দীর্ঘদিনের নির্বাচনী জোট ছিন্ন করার ঘোষণা দিয়েছেন লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি-এলডিপির প্রেসিডেন্ট ড. কর্নেল (অবসরপ্রাপ্ত) অলি আহমদ বীর বিক্রম। বুধবার (২৪ ডিসেম্বর) দুপুরে রাজধানীর মগবাজারে দলীয় কার্যালয়ে এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই ঘোষণা দেন।
কেন জোট ছাড়ল এলডিপি?
সংবাদ সম্মেলনে কর্নেল অলি অভিযোগ করেন, নির্বাচনী আসন বণ্টনের ক্ষেত্রে বিএনপি এলডিপিকে চরমভাবে অবমূল্যায়ন করেছে। তিনি বলেন, "আমরা জোটের স্বার্থে বিএনপিকে ১৪ জন প্রার্থীর একটি সংক্ষিপ্ত তালিকা দিয়েছিলাম। কিন্তু তারা সেই তালিকার প্রতি কোনো ভ্রূক্ষেপই করেনি। এমনকি আমাদের প্রতিনিধিরা দুই ঘণ্টা অপেক্ষা করলেও বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর তাদের সঙ্গে দেখা করার প্রয়োজন মনে করেননি।"
তিনি আরও যোগ করেন, "দলকে টিকিয়ে রাখার স্বার্থে আমাদের অন্তত কিছু আসন ছেড়ে দেওয়া উচিত ছিল। আমরা তো বলিনি যে তালিকার সবাইকে মনোনয়ন দিতে হবে, কিন্তু আলোচনার সুযোগটুকুও দেওয়া হয়নি।"
এককভাবে নির্বাচনের প্রস্তুতি
বিএনপির এমন আচরণে ক্ষোভ প্রকাশ করে অলি আহমদ জানান, এলডিপি এখন এককভাবে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে। জোটের তোয়াক্কা না করে দলটির যোগ্য প্রার্থীদের সারা দেশে নির্বাচনী লড়াইয়ে নামানো হবে।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত যারা
সংবাদ সম্মেলনে কর্নেল অলির সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন দলের শীর্ষ নেতারা, যাদের মধ্যে রয়েছেন:
* নুরুল আলম তালুকদার (সাবেক এমপি)
* লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অবসরপ্রাপ্ত) ড. চৌধুরী হাসান সারওয়ার্দী বীর বিক্রম
* ড. নিয়ামুল বশির ও ড. আওরঙ্গজেব বেলাল
* অ্যাডভোকেট মাহবুব মোর্শেদ প্রমুখ।
রাজনীতির নতুন মেরুকরণ
নির্বাচনের আগমুহূর্তে বিএনপির দীর্ঘদিনের মিত্র কর্নেল অলির এমন সিদ্ধান্তকে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে বড় চমক হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা। বিএনপির শরিক দলগুলো যখন একে একে আসন বুঝে নিচ্ছে, ঠিক তখনই এলডিপির এই প্রস্থান নির্বাচনী সমীকরণে নতুন মাত্রা যোগ করল।