Site icon দৈনিক বঙ্গচিত্র

বোলিং ঝলক, ব্যাটিং ব্যর্থতা টাইগারদের স্বপ্নভঙ্গ

সুপার ফোরের অলিখিত সেমিফাইনালে পাকিস্তানের কাছে ১১ রানে হেরে থামলো টাইগাররা

দুবাই আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত এশিয়া কাপের সুপার ফোর পর্বের অলিখিত সেমিফাইনালে পাকিস্তানের বিপক্ষে হেরে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিলো বাংলাদেশ। শুক্রবার রাতে জমজমাট এই লড়াইয়ে ১১ রানের জয় তুলে নিয়ে ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করেছে পাকিস্তান। শুরুতে দুর্দান্ত বোলিং করলেও ব্যাটিং ব্যর্থতায় হার মেনে নিতে হলো টাইগারদের।

দুর্দান্ত সূচনা, চাপে পাকিস্তান

টসে জিতে আগে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নেয় বাংলাদেশ। ইনিংসের প্রথম ওভারেই সাফল্য এনে দেন তাসকিন আহমেদ। তার বলে আউট হন ওপেনার সাহিবজাদা ফারহান (৪)। পরের ওভারেই সাইম আইয়ুবকে (০) ফেরান শেখ মেহেদী হাসান। একের পর এক ধাক্কায় পাওয়ারপ্লে শেষে পাকিস্তানের সংগ্রহ দাঁড়ায় ২৭/২।

শুরুতে ধুঁকতে থাকা ফখর জামানকেও (১৩) ফিরিয়ে দেন রিশাদ হোসেন। এরপর দ্রুত বিদায় নেন হুসাইন তালাত (৩) ও অধিনায়ক সালমান আলী আঘা (১৯)। ৪৯ রানের মাথায় ৫ উইকেট হারিয়ে কোণঠাসা হয়ে পড়ে পাকিস্তান।

আফ্রিদির ক্যামিও, তারপর হারিস-নওয়াজের জুটি

৭ নম্বরে নেমে শাহীন শাহ আফ্রিদি খেলেন ঝড়ো ইনিংস। মাত্র ১৩ বলে করেন ১৯ রান। যদিও তিনি বেশি সময় টিকতে পারেননি, তবে তার ইনিংস পাকিস্তানকে কিছুটা স্বস্তি দেয়।

এরপর ক্রিজে নেমে দায়িত্ব নেন মোহাম্মদ হারিস ও মোহাম্মদ নওয়াজ। দুজনের ব্যাট থেকে আসে কার্যকর রান। হারিস করেন ২৩ বলে ৩১, নওয়াজ করেন ১৫ বলে ২৫ রান। শেষদিকে ফাহিম আশরাফও ৯ বলে অপরাজিত ১৪ রান করে পাকিস্তানকে ভরসা দেন।

২০ ওভার শেষে পাকিস্তানের সংগ্রহ দাঁড়ায় ৮ উইকেটে ১৩৫ রান। বাংলাদেশের হয়ে তাসকিন আহমেদ নেন ৩ উইকেট, শেখ মেহেদী হাসান ও রিশাদ হোসেন নেন ২টি করে, আর মুস্তাফিজুর রহমান নেন ১ উইকেট।

শুরুতেই চাপে পড়ে টাইগাররা

লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে প্রথম ওভারেই শূন্য রানে আউট হয়ে ফেরেন ওপেনার পারভেজ হোসেন ইমন। এরপর তাওহিদ হৃদয়ও (৫) হতাশ করেন। ফর্মে থাকা সাইফ হাসান কিছুটা প্রতিরোধ গড়লেও ১৫ বলে ১৮ রান করে বিদায় নেন হারিস রউফের বলে।

একই চিত্র দেখা যায় পরের ব্যাটারদের মধ্যেও। শেখ মেহেদী (১১), নুরুল হাসান সোহান (১৬) এবং অধিনায়ক জাকের আলী অনিক (৫) কেউই দলের হাল ধরতে পারেননি।

শামীমের লড়াইও ব্যর্থ

একাই লড়াই করার চেষ্টা করেন শামীম হোসেন পাটোয়ারী। তার ব্যাট থেকে আসে ২৫ বলে ৩০ রান। তবে ইনিংস বড় করতে পারেননি তিনি। শামীম আউট হওয়ার পর বাংলাদেশের জয়ের আশা কার্যত শেষ হয়ে যায়।

শেষদিকে রিশাদ হোসেন অপরাজিত ১৬ রান করলেও কোনো লাভ হয়নি। নির্ধারিত ২০ ওভারে ৯ উইকেট হারিয়ে ১২৪ রানেই থামে বাংলাদেশ।

পাকিস্তানের উল্লাস, বাংলাদেশের হতাশা

পাকিস্তানের হয়ে শাহীন শাহ আফ্রিদি ও হারিস রউফ নেন ৩টি করে উইকেট। সাইম আইয়ুব শিকার করেন ২ উইকেট এবং নওয়াজ নেন ১টি।

ফলাফল১১ রানের পরাজয়ে এশিয়া কাপ থেকে বিদায় নিলো বাংলাদেশ। দুর্দান্ত বোলিং করে ম্যাচে এগিয়ে থেকেও ব্যাটিং ব্যর্থতার কারণে সেমিফাইনালের দোরগোড়ায় এসে থামতে হলো টাইগারদের। অন্যদিকে পাকিস্তান ফাইনালে পৌঁছে উল্লাসে মেতে উঠলো।

 

Exit mobile version