সিরিয়ার উপকূলীয় শহর হোমস, জাবলেহ ও লাতাকিয়ায় সরকারবিরোধী শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ ছত্রভঙ্গ করতে প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারার নেতৃত্বাধীন নিরাপত্তা বাহিনী গুলি চালিয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, গুলির ঘটনা ঘটলেও কেউ আহত হয়নি—এ খবর জানিয়েছে রয়টার্স।
১৩ বছর ধরে চলা গৃহযুদ্ধের পর গত বছরের ডিসেম্বরে আলাউয়ি মুসলিম সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নেতা ও প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদ বিদ্রোহীদের হাতে ক্ষমতাচ্যুত হয়ে রাশিয়ায় পালিয়ে যান। এরপর সাবেক আল-কায়েদা নেতা আহমেদ আল-শারার (মোহাম্মদ আল জোলানি) নেতৃত্বে একটি অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতায় আসে।
তবে নতুন সরকার আসার পরও সহিংসতা থামেনি। জীবনযাত্রার অবনতি ও সরকারি নিপীড়নের প্রতিবাদে আলাউয়ি অধ্যুষিত এসব এলাকায় গত কয়েকদিন ধরে বিক্ষোভ চলছে। পর্যবেক্ষক সংস্থা সিরিয়ান অবজারভেটরি ফর হিউম্যান রাইটস (এসওএইচআর) জানিয়েছে, লাতাকিয়া ও জাবলেহর বিভিন্ন স্থানে মানুষ বড় আকারে সমাবেশ করছে। আসাদ পতনের পর এটিই আলাউয়ি সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় আন্দোলন বলে মনে করা হচ্ছে।
এসওএইচআরের তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার লাতাকিয়ার কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় নিরাপত্তা বাহিনী বিপুল সংখ্যক সেনা মোতায়েন করে। তারা প্রধান সড়ক বন্ধ করে বিক্ষোভকারীদের ঘিরে ফেলার চেষ্টা করে। পরে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে গুলি চালানো হয় এবং কিছু এলাকায় বাড়িঘর ও ব্যক্তিগত সম্পত্তির ওপর হামলার ঘটনাও ঘটে।
লাতাকিয়ার আল-জুমহুরিয়া এলাকায় বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। একই সময়ে তিশরিন বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক এলাকাতেও বিস্ফোরণ ঘটে। জাবলেহর বেন্ট আল-শাওয়িশ এলাকাতেও গ্রেনেড বিস্ফোরণের ঘটনা শোনা যায় বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান।
সরকারি হামলা ও গুলি চলমান থাকলেও বিক্ষোভ থামেনি। বুধবারও প্রতিবাদ অব্যাহত রয়েছে। এদিকে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে হামা প্রদেশের গ্রামীণ এলাকাতেও। পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের বাহিনীকে উচ্চ সতর্কতায় রাখা হয়েছে।