Site icon দৈনিক বঙ্গচিত্র

টাইফুন কালমায়েগির তাণ্ডবে ফিলিপিন্সে নিহত ৬৬, নিখোঁজ অন্তত ২৬

ফিলিপিন্সে আঘাত হানা টাইফুন কালমায়েগির কারণে এখন পর্যন্ত ৬৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। অন্তত ২৬ জন নিখোঁজ থাকায় মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ভয়াবহ এই ঘূর্ণিঝড়ে লক্ষাধিক মানুষ গৃহহীন হয়ে পড়েছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে কেন্দ্রীয় সেবু দ্বীপে। এদিকে উদ্ধার কাজে অংশ নিতে গিয়ে একটি সামরিক হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হয়ে আরও ছয়জন নিহত হয়েছেন।

টাইফুন কালমায়েগি গত সোমবার (৩ নভেম্বর) মধ্যরাতে ফিলিপিন্সের কেন্দ্রীয় অঞ্চলে আঘাত হানে। মঙ্গলবার সকাল ৮টার দিকে সেবু ও নেগরোস দ্বীপ অতিক্রম করে। ঝড়ের সময় ঘণ্টায় ১৫০ কিলোমিটার বেগে বাতাস বইছিল এবং দমকা হাওয়া ছিল ১৮৫ কিলোমিটার পর্যন্ত। প্রচণ্ড বাতাস ও ভারি বৃষ্টিতে পুরো সেবু দ্বীপ প্লাবিত হয়ে পড়ে।

ঘূর্ণিঝড়ের প্রথম দিকে দু’জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেলেও পরে মৃতের সংখ্যা দ্রুত বাড়তে থাকে। প্রদেশের গভর্নর পামেলা বারিকুয়াত্রো বলেছেন, ঝড়ের বাতাসের চেয়ে ভয়াবহ বন্যাই মানুষের জীবনে বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। বন্যায় বহু মানুষ মারা গেছেন এবং অসংখ্য পরিবার ঘরবাড়ি হারিয়েছে।

স্থানীয় গণমাধ্যম জানায়, অধিকাংশ মানুষ বন্যার পানিতে ডুবে মারা গেছে। অনেক বাড়িঘর ও স্থাপনা প্লাবিত হয়েছে বা ভেসে গেছে। উদ্ধারকর্মীরা নৌকা ও হেলিকপ্টার ব্যবহার করে ছাদে আটকে পড়া মানুষদের নিরাপদ স্থানে নিয়ে যাচ্ছেন। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত প্রায় চার লাখ মানুষকে আশ্রয়কেন্দ্রে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

উদ্ধার অভিযানের মধ্যেই আরেকটি দুর্ঘটনা ঘটে। মিন্দানাও দ্বীপে ত্রাণ ও উদ্ধার কাজে পাঠানো চারটি সামরিক হেলিকপ্টারের একটি আগুসান দেল সুর এলাকায় বিধ্বস্ত হয়, যাতে কয়েকজন ক্রু সদস্য প্রাণ হারান। হেলিকপ্টারটি উড্ডয়নের পরই যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ায় দ্রুত অনুসন্ধান শুরু করা হয়।

এক মাসের ব্যবধানে সুপার টাইফুন রাগাসা ও বুয়ালয়ের পর আবারও টাইফুনে বিপর্যস্ত হলো ফিলিপিন্স। দুর্বল বাঁধ, খারাপ ড্রেনেজ ব্যবস্থা ও দুর্নীতির কারণে মানুষের ক্ষোভ আরও বাড়ছে।

ফিলিপিন্সে বছরে গড়ে ২০টির মতো টাইফুন আঘাত হানে। কিন্তু চলতি বছরে ইতোমধ্যে ২০টি ঝড় এসেছে। এর মধ্যে টাইফুন কালমায়েগি সবচেয়ে বিধ্বংসী বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

Exit mobile version