Dhaka ১১:১৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২২ জুন ২০২৬, ৮ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
রেট গ্যাপ ও ব্যাংকিং ঝামেলায় মিরসরাইয়ে হুন্ডিমুখী প্রবাসী পরিবার শীতে সবজির জোগান থাকলেও কমছে না দাম রংপুরে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের ওপর মূল্যস্ফীতির প্রভাব রংপুরে এলপিজি সংকট, সরকার নির্ধারিত দামের বাইরে বিক্রি হচ্ছে সিলিন্ডার খরচের চাপে ভাঙছে ক্ষুদ্র ব্যবসা ডলার সংকটে স্থবির আমদানি-রপ্তানি, বাড়ছে উৎপাদন ব্যয় ও মুল্যস্ফীতির চাপ নিত্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধিতে বিপর্যস্ত শিক্ষার্থীদের জীবন, বাড়ছে অনিশ্চয়তা ‘দেরি হওয়ার আগেই চুক্তি করো’, কিউবাকে ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি ইরানে বিক্ষোভ ঘিরে ব্যাপক সহিংসতা: নিহত ১০৯ নিরাপত্তা সদস্য নির্বাচন অবাধ ও উৎসবমুখর হবে: ইইউ প্রতিনিধিদলকে প্রধান উপদেষ্টা
বিজ্ঞাপন:
আপনাদের ভালোবাসা ও আস্থার সাথে এগিয়ে চলছে দৈনিক বঙ্গচিত্র। দেশের প্রতিটি প্রান্তের খবর, রাজনীতি, অর্থনীতি, সমাজ, সংস্কৃতি, শিক্ষা, খেলাধুলা ও বিনোদনসহ সকল গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ আমরা আপনাদের কাছে পৌঁছে দিতে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ।

টাইফুন কালমায়েগির তাণ্ডবে ফিলিপিন্সে নিহত ৬৬, নিখোঁজ অন্তত ২৬

ফিলিপিন্সে আঘাত হানা টাইফুন কালমায়েগির কারণে এখন পর্যন্ত ৬৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। অন্তত ২৬ জন নিখোঁজ থাকায় মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ভয়াবহ এই ঘূর্ণিঝড়ে লক্ষাধিক মানুষ গৃহহীন হয়ে পড়েছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে কেন্দ্রীয় সেবু দ্বীপে। এদিকে উদ্ধার কাজে অংশ নিতে গিয়ে একটি সামরিক হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হয়ে আরও ছয়জন নিহত হয়েছেন।

টাইফুন কালমায়েগি গত সোমবার (৩ নভেম্বর) মধ্যরাতে ফিলিপিন্সের কেন্দ্রীয় অঞ্চলে আঘাত হানে। মঙ্গলবার সকাল ৮টার দিকে সেবু ও নেগরোস দ্বীপ অতিক্রম করে। ঝড়ের সময় ঘণ্টায় ১৫০ কিলোমিটার বেগে বাতাস বইছিল এবং দমকা হাওয়া ছিল ১৮৫ কিলোমিটার পর্যন্ত। প্রচণ্ড বাতাস ও ভারি বৃষ্টিতে পুরো সেবু দ্বীপ প্লাবিত হয়ে পড়ে।

ঘূর্ণিঝড়ের প্রথম দিকে দু’জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেলেও পরে মৃতের সংখ্যা দ্রুত বাড়তে থাকে। প্রদেশের গভর্নর পামেলা বারিকুয়াত্রো বলেছেন, ঝড়ের বাতাসের চেয়ে ভয়াবহ বন্যাই মানুষের জীবনে বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। বন্যায় বহু মানুষ মারা গেছেন এবং অসংখ্য পরিবার ঘরবাড়ি হারিয়েছে।

স্থানীয় গণমাধ্যম জানায়, অধিকাংশ মানুষ বন্যার পানিতে ডুবে মারা গেছে। অনেক বাড়িঘর ও স্থাপনা প্লাবিত হয়েছে বা ভেসে গেছে। উদ্ধারকর্মীরা নৌকা ও হেলিকপ্টার ব্যবহার করে ছাদে আটকে পড়া মানুষদের নিরাপদ স্থানে নিয়ে যাচ্ছেন। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত প্রায় চার লাখ মানুষকে আশ্রয়কেন্দ্রে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

উদ্ধার অভিযানের মধ্যেই আরেকটি দুর্ঘটনা ঘটে। মিন্দানাও দ্বীপে ত্রাণ ও উদ্ধার কাজে পাঠানো চারটি সামরিক হেলিকপ্টারের একটি আগুসান দেল সুর এলাকায় বিধ্বস্ত হয়, যাতে কয়েকজন ক্রু সদস্য প্রাণ হারান। হেলিকপ্টারটি উড্ডয়নের পরই যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ায় দ্রুত অনুসন্ধান শুরু করা হয়।

এক মাসের ব্যবধানে সুপার টাইফুন রাগাসা ও বুয়ালয়ের পর আবারও টাইফুনে বিপর্যস্ত হলো ফিলিপিন্স। দুর্বল বাঁধ, খারাপ ড্রেনেজ ব্যবস্থা ও দুর্নীতির কারণে মানুষের ক্ষোভ আরও বাড়ছে।

ফিলিপিন্সে বছরে গড়ে ২০টির মতো টাইফুন আঘাত হানে। কিন্তু চলতি বছরে ইতোমধ্যে ২০টি ঝড় এসেছে। এর মধ্যে টাইফুন কালমায়েগি সবচেয়ে বিধ্বংসী বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

Popular Post

রেট গ্যাপ ও ব্যাংকিং ঝামেলায় মিরসরাইয়ে হুন্ডিমুখী প্রবাসী পরিবার

টাইফুন কালমায়েগির তাণ্ডবে ফিলিপিন্সে নিহত ৬৬, নিখোঁজ অন্তত ২৬

Update Time : ০৭:১১:০৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ৫ নভেম্বর ২০২৫

ফিলিপিন্সে আঘাত হানা টাইফুন কালমায়েগির কারণে এখন পর্যন্ত ৬৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। অন্তত ২৬ জন নিখোঁজ থাকায় মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ভয়াবহ এই ঘূর্ণিঝড়ে লক্ষাধিক মানুষ গৃহহীন হয়ে পড়েছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে কেন্দ্রীয় সেবু দ্বীপে। এদিকে উদ্ধার কাজে অংশ নিতে গিয়ে একটি সামরিক হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হয়ে আরও ছয়জন নিহত হয়েছেন।

টাইফুন কালমায়েগি গত সোমবার (৩ নভেম্বর) মধ্যরাতে ফিলিপিন্সের কেন্দ্রীয় অঞ্চলে আঘাত হানে। মঙ্গলবার সকাল ৮টার দিকে সেবু ও নেগরোস দ্বীপ অতিক্রম করে। ঝড়ের সময় ঘণ্টায় ১৫০ কিলোমিটার বেগে বাতাস বইছিল এবং দমকা হাওয়া ছিল ১৮৫ কিলোমিটার পর্যন্ত। প্রচণ্ড বাতাস ও ভারি বৃষ্টিতে পুরো সেবু দ্বীপ প্লাবিত হয়ে পড়ে।

ঘূর্ণিঝড়ের প্রথম দিকে দু’জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেলেও পরে মৃতের সংখ্যা দ্রুত বাড়তে থাকে। প্রদেশের গভর্নর পামেলা বারিকুয়াত্রো বলেছেন, ঝড়ের বাতাসের চেয়ে ভয়াবহ বন্যাই মানুষের জীবনে বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। বন্যায় বহু মানুষ মারা গেছেন এবং অসংখ্য পরিবার ঘরবাড়ি হারিয়েছে।

স্থানীয় গণমাধ্যম জানায়, অধিকাংশ মানুষ বন্যার পানিতে ডুবে মারা গেছে। অনেক বাড়িঘর ও স্থাপনা প্লাবিত হয়েছে বা ভেসে গেছে। উদ্ধারকর্মীরা নৌকা ও হেলিকপ্টার ব্যবহার করে ছাদে আটকে পড়া মানুষদের নিরাপদ স্থানে নিয়ে যাচ্ছেন। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত প্রায় চার লাখ মানুষকে আশ্রয়কেন্দ্রে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

উদ্ধার অভিযানের মধ্যেই আরেকটি দুর্ঘটনা ঘটে। মিন্দানাও দ্বীপে ত্রাণ ও উদ্ধার কাজে পাঠানো চারটি সামরিক হেলিকপ্টারের একটি আগুসান দেল সুর এলাকায় বিধ্বস্ত হয়, যাতে কয়েকজন ক্রু সদস্য প্রাণ হারান। হেলিকপ্টারটি উড্ডয়নের পরই যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ায় দ্রুত অনুসন্ধান শুরু করা হয়।

এক মাসের ব্যবধানে সুপার টাইফুন রাগাসা ও বুয়ালয়ের পর আবারও টাইফুনে বিপর্যস্ত হলো ফিলিপিন্স। দুর্বল বাঁধ, খারাপ ড্রেনেজ ব্যবস্থা ও দুর্নীতির কারণে মানুষের ক্ষোভ আরও বাড়ছে।

ফিলিপিন্সে বছরে গড়ে ২০টির মতো টাইফুন আঘাত হানে। কিন্তু চলতি বছরে ইতোমধ্যে ২০টি ঝড় এসেছে। এর মধ্যে টাইফুন কালমায়েগি সবচেয়ে বিধ্বংসী বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।