
তাইওয়ান প্রণালিতে চীনের সাম্প্রতিক সামরিক মহড়াকে কেন্দ্র করে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। ওয়াশিংটন মনে করছে, বেইজিংয়ের এমন আগ্রাসী তৎপরতা এ অঞ্চলে ‘অপ্রয়োজনীয় উত্তেজনা’ সৃষ্টি করছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে চীনকে সংযত হওয়ার এবং বলপ্রয়োগ বন্ধ করে অর্থবহ সংলাপে বসার আহ্বান জানিয়েছে মার্কিন প্রশাসন।
বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে এসব তথ্য জানানো হয়। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র টমি পিগট বলেন, তাইওয়ান ও এর পার্শ্ববর্তী দেশগুলোর ওপর বেইজিংয়ের সামরিক চাপ আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতার জন্য হুমকিস্বরূপ। যুক্তরাষ্ট্র তাইওয়ান প্রণালিতে শান্তি বজায় রাখার পক্ষে এবং একতরফাভাবে বর্তমান পরিস্থিতি পরিবর্তনের যেকোনো চেষ্টার বিরোধিতা করে।
চলতি সপ্তাহের শুরুতে তাইওয়ানকে চারপাশ থেকে ঘিরে বড় ধরনের যুদ্ধ মহড়া চালায় চীন। এতে ব্যাপক সংখ্যক যুদ্ধবিমান, নৌযান এবং ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হয়। চীনের দাবি, তাইওয়ান তাদের অবিচ্ছেদ্য অংশ এবং প্রয়োজনে সামরিক শক্তির মাধ্যমে দ্বীপটির নিয়ন্ত্রণ নেওয়া হবে।
এদিকে চীনের এই হুমকির মুখে কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন তাইওয়ানের প্রেসিডেন্ট উইলিয়াম লাই চিং-তে। তিনি বলেন, “দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা শক্তিশালী করা আমার প্রধান লক্ষ্য।” জাতীয় প্রতিরক্ষা জোরদার করতে তিনি অতিরিক্ত ৪০ বিলিয়ন ডলার বরাদ্দের প্রস্তাব দিয়েছেন।
প্রেসিডেন্ট লাই ২০২৬ সালকে তাইওয়ানের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বছর হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি দেশবাসীকে যেকোনো পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, সম্ভাব্য সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখেই প্রতিরক্ষা পরিকল্পনা সাজাতে হবে।
উল্লেখ্য, গত কয়েক বছর ধরে তাইওয়ানকে ঘিরে চীনের সামরিক তৎপরতা নিয়মিত ঘটনায় পরিণত হয়েছে, যা এশিয়াসহ বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন করে অস্থিরতার আশঙ্কা তৈরি করছে।
Reporter Name 











