Dhaka ০৬:৩০ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৯ মে ২০২৬, ২৬ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
রেট গ্যাপ ও ব্যাংকিং ঝামেলায় মিরসরাইয়ে হুন্ডিমুখী প্রবাসী পরিবার শীতে সবজির জোগান থাকলেও কমছে না দাম রংপুরে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের ওপর মূল্যস্ফীতির প্রভাব রংপুরে এলপিজি সংকট, সরকার নির্ধারিত দামের বাইরে বিক্রি হচ্ছে সিলিন্ডার খরচের চাপে ভাঙছে ক্ষুদ্র ব্যবসা ডলার সংকটে স্থবির আমদানি-রপ্তানি, বাড়ছে উৎপাদন ব্যয় ও মুল্যস্ফীতির চাপ নিত্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধিতে বিপর্যস্ত শিক্ষার্থীদের জীবন, বাড়ছে অনিশ্চয়তা ‘দেরি হওয়ার আগেই চুক্তি করো’, কিউবাকে ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি ইরানে বিক্ষোভ ঘিরে ব্যাপক সহিংসতা: নিহত ১০৯ নিরাপত্তা সদস্য নির্বাচন অবাধ ও উৎসবমুখর হবে: ইইউ প্রতিনিধিদলকে প্রধান উপদেষ্টা
বিজ্ঞাপন:
আপনাদের ভালোবাসা ও আস্থার সাথে এগিয়ে চলছে দৈনিক বঙ্গচিত্র। দেশের প্রতিটি প্রান্তের খবর, রাজনীতি, অর্থনীতি, সমাজ, সংস্কৃতি, শিক্ষা, খেলাধুলা ও বিনোদনসহ সকল গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ আমরা আপনাদের কাছে পৌঁছে দিতে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ।

খরচের চাপে ভাঙছে ক্ষুদ্র ব্যবসা

  • Reporter Name
  • Update Time : ১২:১৭:৪৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২১ জানুয়ারী ২০২৬
  • ৩১৫ Time View

||প্রতীতি অন্যতমা চৌধুরী|| উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি, ব্যাংক ঋণের উচ্চ সুদহার এবং বাজারে সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমে যাওয়ায় দেশজুড়ে সংকটে পড়েছে ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসা (SME)। বড় প্রতিষ্ঠানগুলো কোনোভাবে টিকে থাকলেও ছোট উদ্যোক্তারা একে একে ব্যবসা গুটিয়ে নিতে বাধ্য হচ্ছেন।

অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ খাত হিসেবে পরিচিত ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসা বর্তমানে সবচেয়ে কঠিন সময় পার করছে। কাঁচামালের দাম, বিদ্যুৎ ও পরিবহন ব্যয় একাধিকবার বেড়েছে। কিন্তু সেই অনুপাতে পণ্যের দাম বাড়ানো সম্ভব না হওয়ায় লাভের জায়গা ক্রমেই সংকুচিত হচ্ছে।

ঢাকার মিরপুরে একটি ছোট উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের মালিক বলেন,

“আগে অল্প লাভ হলেও ব্যবসা চলত। এখন প্রতিমাসেই লোকসান হচ্ছে। ব্যাংক ঋণের সুদ এত বেশি যে মূলধন ধরে রাখা কঠিন।”

শুধু উৎপাদন খাত নয়, খুচরা দোকান, ক্ষুদ্র কারখানা এবং অনলাইনভিত্তিক উদ্যোগগুলোও একই চাপে রয়েছে। সাধারণ মানুষের খরচ কমে যাওয়ায় বিক্রি কমছে, ফলে নগদ অর্থের সংকটে পড়ছেন উদ্যোক্তারা।

অর্থনীতিবিদদের মতে, বড় প্রতিষ্ঠানগুলোর মতো আর্থিক সঞ্চয় বা ঝুঁকি সামাল দেওয়ার সক্ষমতা ক্ষুদ্র ব্যবসার নেই। ফলে সামান্য অর্থনৈতিক ধাক্কাতেই তারা বড় ক্ষতির মুখে পড়ে।

একজন অর্থনীতি বিশ্লেষক বলেন, “SME খাত দুর্বল হলে কর্মসংস্থান সরাসরি কমে যাবে। এর প্রভাব সামগ্রিক অর্থনীতিতেও পড়বে।”

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, দেশের মোট কর্মসংস্থানের একটি বড় অংশ এই খাতের ওপর নির্ভরশীল। তবে উদ্যোক্তাদের অভিযোগ, সরকারি প্রণোদনা ও সহজ ঋণের ঘোষণা থাকলেও বাস্তবে সেগুলো পাওয়া কঠিন।

জটিল ব্যাংকিং প্রক্রিয়া, কঠোর শর্ত এবং দীর্ঘ সময় লাগায় অনেক ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা এসব সুবিধার বাইরে থেকে যাচ্ছেন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসার এই সংকট আরও গভীর হবে। সহজ ঋণপ্রবাহ, বাস্তবভিত্তিক নীতি সহায়তা এবং বাজার স্থিতিশীলতা নিশ্চিত না হলে দেশের অর্থনীতির এই ভিত্তি আরও দুর্বল হয়ে পড়বে।

Popular Post

রেট গ্যাপ ও ব্যাংকিং ঝামেলায় মিরসরাইয়ে হুন্ডিমুখী প্রবাসী পরিবার

খরচের চাপে ভাঙছে ক্ষুদ্র ব্যবসা

Update Time : ১২:১৭:৪৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২১ জানুয়ারী ২০২৬

||প্রতীতি অন্যতমা চৌধুরী|| উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি, ব্যাংক ঋণের উচ্চ সুদহার এবং বাজারে সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমে যাওয়ায় দেশজুড়ে সংকটে পড়েছে ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসা (SME)। বড় প্রতিষ্ঠানগুলো কোনোভাবে টিকে থাকলেও ছোট উদ্যোক্তারা একে একে ব্যবসা গুটিয়ে নিতে বাধ্য হচ্ছেন।

অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ খাত হিসেবে পরিচিত ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসা বর্তমানে সবচেয়ে কঠিন সময় পার করছে। কাঁচামালের দাম, বিদ্যুৎ ও পরিবহন ব্যয় একাধিকবার বেড়েছে। কিন্তু সেই অনুপাতে পণ্যের দাম বাড়ানো সম্ভব না হওয়ায় লাভের জায়গা ক্রমেই সংকুচিত হচ্ছে।

ঢাকার মিরপুরে একটি ছোট উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের মালিক বলেন,

“আগে অল্প লাভ হলেও ব্যবসা চলত। এখন প্রতিমাসেই লোকসান হচ্ছে। ব্যাংক ঋণের সুদ এত বেশি যে মূলধন ধরে রাখা কঠিন।”

শুধু উৎপাদন খাত নয়, খুচরা দোকান, ক্ষুদ্র কারখানা এবং অনলাইনভিত্তিক উদ্যোগগুলোও একই চাপে রয়েছে। সাধারণ মানুষের খরচ কমে যাওয়ায় বিক্রি কমছে, ফলে নগদ অর্থের সংকটে পড়ছেন উদ্যোক্তারা।

অর্থনীতিবিদদের মতে, বড় প্রতিষ্ঠানগুলোর মতো আর্থিক সঞ্চয় বা ঝুঁকি সামাল দেওয়ার সক্ষমতা ক্ষুদ্র ব্যবসার নেই। ফলে সামান্য অর্থনৈতিক ধাক্কাতেই তারা বড় ক্ষতির মুখে পড়ে।

একজন অর্থনীতি বিশ্লেষক বলেন, “SME খাত দুর্বল হলে কর্মসংস্থান সরাসরি কমে যাবে। এর প্রভাব সামগ্রিক অর্থনীতিতেও পড়বে।”

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, দেশের মোট কর্মসংস্থানের একটি বড় অংশ এই খাতের ওপর নির্ভরশীল। তবে উদ্যোক্তাদের অভিযোগ, সরকারি প্রণোদনা ও সহজ ঋণের ঘোষণা থাকলেও বাস্তবে সেগুলো পাওয়া কঠিন।

জটিল ব্যাংকিং প্রক্রিয়া, কঠোর শর্ত এবং দীর্ঘ সময় লাগায় অনেক ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা এসব সুবিধার বাইরে থেকে যাচ্ছেন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসার এই সংকট আরও গভীর হবে। সহজ ঋণপ্রবাহ, বাস্তবভিত্তিক নীতি সহায়তা এবং বাজার স্থিতিশীলতা নিশ্চিত না হলে দেশের অর্থনীতির এই ভিত্তি আরও দুর্বল হয়ে পড়বে।