
||তানজিন জাহান ইভা|| শীতকাল এলেই সাধারণত সবজির বাজারে স্বস্তি ফেরে। মাঠে উৎপাদন বাড়ে, সরবরাহও থাকে পর্যাপ্ত। তবে চলতি মৌসুমে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন বাজারে শীতকালীন সবজির জোগান ভালো থাকলেও দাম প্রত্যাশিত মাত্রায় কমেনি। যদিও আগের মাসগুলোর তুলনায় কিছুটা কমেছে, তবুও সাধারণ মানুষের জন্য তা এখনো স্বস্তিদায়ক নয়।
রাজধানীর কারওয়ান বাজার, রামপুরা, মিরপুর ও মোহাম্মদপুরের খুচরা বাজার ঘুরে দেখা গেছে, ফুলকপি ও বাঁধাকপি প্রতি পিস ৪০ থেকে ৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। গাজর ও মূলা কেজিপ্রতি ৩০ থেকে ৪০ টাকা, বেগুন ৫০ থেকে ৬০ টাকা, শিম ৭০ থেকে ৯০ টাকা এবং টমেটো ৪০ থেকে ৫০ টাকার মধ্যে রয়েছে। এসব দাম বর্ষা মৌসুমের তুলনায় কম হলেও শীতের স্বাভাবিক বাজারদরের চেয়ে এখনো কিছুটা বেশি।
পাইকারি বাজারে কথা বলে জানা গেছে, প্রতিদিনই দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে পর্যাপ্ত পরিমাণ শীতকালীন সবজি ঢাকায় আসছে। কৃষকদের কাছ থেকে ফুলকপি ও বাঁধাকপি প্রতিপিস ২০–৩০ টাকা, গাজর ও মূলা কেজিপ্রতি ১৫–২০ টাকায় কেনা হচ্ছে। তবে পরিবহন ব্যয়, আড়তদারি খরচ এবং একাধিক হাত বদলের কারণে খুচরা বাজারে এসে দাম বেড়ে যাচ্ছে।
কৃষকরা বলছেন, উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ায় তারাও খুব কম দামে সবজি ছাড়তে পারছেন না। সার, বীজ ও শ্রমিকের মজুরি আগের তুলনায় বেড়েছে। বগুড়ার এক সবজি চাষি জানান, “ফলন ভালো হলেও খরচ বেশি হওয়ায় ন্যায্য দাম না পেলে লোকসান গুনতে হয়। তবুও শহরের বাজারের দামের সঙ্গে আমাদের বিক্রয়মূল্যের বড় পার্থক্য রয়েছে।”
বিশেষজ্ঞদের মতে, বাজার ব্যবস্থাপনায় দুর্বলতা এবং মধ্যস্বত্বভোগীদের আধিপত্যই দামের এই বৈষম্যের প্রধান কারণ। পর্যাপ্ত হিমাগার ও সংরক্ষণ সুবিধা না থাকায় কৃষকরা দ্রুত সবজি বিক্রি করতে বাধ্য হন, আর সেই সুযোগ নেয় মধ্যস্বত্বভোগীরা। এছাড়া জ্বালানি ও পরিবহন ব্যয়ের প্রভাবও পুরোপুরি কাটেনি।
ভোক্তারা বলছেন, কিছু সবজির দাম কমায় স্বস্তি মিললেও পুরো বাজার এখনো নাগালের মধ্যে আসেনি। নিম্ন ও মধ্য আয়ের পরিবারগুলোকে হিসেব করে বাজার করতে হচ্ছে। ভোক্তা অধিকার সংগঠনগুলো মনে করছে, নিয়মিত বাজার তদারকি, আড়ত পর্যায়ে স্বচ্ছতা এবং সরাসরি কৃষক থেকে ভোক্তার কাছে পণ্য পৌঁছানোর ব্যবস্থা জোরদার করা গেলে শীতের এই মৌসুমে সবজির দাম আরও কমতে পারে।
সার্বিকভাবে বলা যায়, শীতে সবজির জোগান ভালো থাকায় বাজারে দাম কিছুটা কমলেও কাঙ্ক্ষিত স্বস্তি পেতে এখনো কার্যকর উদ্যোগ ও শক্ত বাজার ব্যবস্থাপনার প্রয়োজন
তানজিন জাহান ইভা
শিক্ষার্থী, গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ
বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, রংপুর
তানজিন জাহান ইভা 











