Dhaka ০৩:৩৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৭ অগাস্ট ২০২৬, ২৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
রেট গ্যাপ ও ব্যাংকিং ঝামেলায় মিরসরাইয়ে হুন্ডিমুখী প্রবাসী পরিবার শীতে সবজির জোগান থাকলেও কমছে না দাম রংপুরে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের ওপর মূল্যস্ফীতির প্রভাব রংপুরে এলপিজি সংকট, সরকার নির্ধারিত দামের বাইরে বিক্রি হচ্ছে সিলিন্ডার খরচের চাপে ভাঙছে ক্ষুদ্র ব্যবসা ডলার সংকটে স্থবির আমদানি-রপ্তানি, বাড়ছে উৎপাদন ব্যয় ও মুল্যস্ফীতির চাপ নিত্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধিতে বিপর্যস্ত শিক্ষার্থীদের জীবন, বাড়ছে অনিশ্চয়তা ‘দেরি হওয়ার আগেই চুক্তি করো’, কিউবাকে ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি ইরানে বিক্ষোভ ঘিরে ব্যাপক সহিংসতা: নিহত ১০৯ নিরাপত্তা সদস্য নির্বাচন অবাধ ও উৎসবমুখর হবে: ইইউ প্রতিনিধিদলকে প্রধান উপদেষ্টা
বিজ্ঞাপন:
আপনাদের ভালোবাসা ও আস্থার সাথে এগিয়ে চলছে দৈনিক বঙ্গচিত্র। দেশের প্রতিটি প্রান্তের খবর, রাজনীতি, অর্থনীতি, সমাজ, সংস্কৃতি, শিক্ষা, খেলাধুলা ও বিনোদনসহ সকল গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ আমরা আপনাদের কাছে পৌঁছে দিতে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ।

লালমনিরহাটে বন্যা পরবর্তী চাষাবাদে ফিরেছেন নদীর তীরবর্তী চরাঞ্চলের চাষীর

  • Reporter Name
  • Update Time : ১২:০৫:০৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫
  • ১৪৩ Time View

লালমনিরহাটে বন্যা পরবর্তী চাষাবাদে ফিরেছেন নদীর তীরবর্তী চরাঞ্চলের চাষীর

মনোয়ারুল ইসলাম রংপুর জেলা প্রতিনিধি

লালমনিরহাটে বন্যার দুঃসহ স্মৃতি ভুলে ঘুরে দাঁড়ানোর প্রত্যয়ে নতুন করে সবুজ ফসল ফলাতে মাঠে নেমে গেছেন সবজি ভান্ডার খ্যাত তিস্তা, ধরলা ও রত্নাই নদীর তীরবর্তী চরাঞ্চলের কৃষক-কৃষাণীরা। বন্যার ক্ষতিকে বুকে চেপে নিয়েই শত কষ্টের মধ্যেও নিজ উদ্যোগে ঋণ করে হলেও বন্যার ক্ষতি পুষিয়ে নিতে আবারও নতুন করে সবজি চাষাবাদ শুরু করেছেন বন্যায় ক্ষতিগ্রস্থ চাষীরা।

কেউবা জমি প্রস্তুত করছেন, কেউবা আবার প্রস্তুত করা জমিতে ফসলের বীজ বপণ করছেন। কেউবা জমিতে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা বন্যার পানিতে ভেসে আসা লাকড়ি ও খড়কুটো অপসারণ করছেন।
দুর্ভাগ্য যেন নিত্যসঙ্গী তিস্তা, ধরলা ও রত্নাই নদীর চরাঞ্চলের চাষীদের। ক্ষতি পুষিয়ে উঠতে সবজি আবাদ করেন তারা।

এভাবেই চলছে তাদের জীবন ও জীবিকার সংগ্রাম। লালমনিরহাট জেলার মধ্য দিয়ে প্রবাহিত খরস্রোতা তিস্তা, ধরলা ও রত্নাই নদী তীরবর্তী চরাঞ্চল লালমনিরহাটের সবজি ভান্ডার হিসেবে পরিচিত। এই চরে সারা বছর জুড়েই বিভিন্ন শাক-সবজিসহ নানা ফসল উৎপাদন হয়। এ অঞ্চলে শিল্পকারখানা না থাকায় তিস্তা, ধরলা ও রত্নাই নদী তীরবর্তী লোকজন শাক-সবজিসহ অন্যান্য ফসল চাষের ওপর নির্ভরশীল।

যাদের নিজস্ব জমি নেই তাঁরাও অন্যের জমি লিজ নিয়ে শাক-সবজি চাষ করেন। এতে শত শত পরিবার স্বচ্ছল ভাবে জীবন ও জীবিকা নির্বাহ করছেন। বেগুন, মূলা, শিম, ঢেঁড়শ, কাকরোল, চিচিঙ্গা, বরবটি, ঝিঙ্গা, তিত করলা, ফুলকপি, বাঁধাকপি, শসা, মিষ্টি কুমড়া, চালকুমড়া, লাউ, পেঁপেসহ বিভিন্ন ধরনের শাক উৎপাদন হয় এখানে। জমিতে ফলানো সবজি বিক্রি করে আর্থিকভাবে লাভবান হয়েছেন তিস্তা, ধরলা ও রত্নাই নদীর চরের সবজি চাষীরা।

রত্নাই নদীর চরের সবজি চাষীরা বলেন, বন্যার পর নতুন করে জমি তৈরি করা ও নতুন ফসল লাগানোতে সার, বীজের পাশাপাশি প্রয়োজন হয় লোকবলের। এজন্য সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন হয় টাকার। সেই টাকা সংগ্রহে ঋণগ্রস্থ হয়ে পড়েন চাষীরা। সেই ঋণ পরিশোধ করতে চলে যায় আরও কয়েক বছর। সবজি আবাদ করতে সহজে ঋণ পাওয়ার জন্য কৃষি বিভাগের সহযোগিতা খুবই প্রয়োজন সবজি চাষীদের।

ধরলা নদীর চরের সবজি চাষীরা বলেন, সবজি চাষীরা কিভাবে নতুন করে জমিতে ফসল বুনবেন সে সহযোগিতার দেখা মেলা কঠিন। সরকারিভাবে ধানের বীজ ও সার দেওয়া হলেও সবজি চাষীদের জন্য তা পর্যাপ্ত নয়। সহজ শর্তে ঋণ দিলে সবজি চাষীরা ভীষণ উপকৃত হবে।

তিস্তা নদীর চরের সবজি চাষীরা বলেন, বন্যায় ক্ষতিগ্রস্থ মানুষ সরকারি ত্রাণ সহায়তা পেলেও চাষীরা নতুন করে চাষাবাদ করার জন্য সরকারি কোন সহযোগিতা পায়নি। চাষীদের খবর নেয়নি কেউ। তাই নিজ নিজ উদ্যোগে জমিতে ফলানো সবজি বিক্রি করে আর্থিকভাবে লাভবান হবেন চরের সবজি চাষীরা।

লালমনিরহাট কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানিয়েছে, তৃতীয় দফার বন্যায় লালমনিরহাট জেলার ৯শত ১৫হেক্টর আমন ক্ষেত ও ৬৩হেক্টর অন্যান্য ফসল নিমজ্জিত হয়েছে।

উল্লেখ্য যে, কৃষকদেরকেও কৃষি বীমার আওতায় আনলে প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্থ কৃষকেরা বীমার টাকা দিয়ে নতুনভাবে চাষাবাদ করতে পারবেন। কৃষকদের কৃষি বীমার আওতায় আনার দাবি তিস্তা, ধরলা ও রত্নাই নদীর চরের সবজি চাষীদের।

Tag :
Popular Post

রেট গ্যাপ ও ব্যাংকিং ঝামেলায় মিরসরাইয়ে হুন্ডিমুখী প্রবাসী পরিবার

লালমনিরহাটে বন্যা পরবর্তী চাষাবাদে ফিরেছেন নদীর তীরবর্তী চরাঞ্চলের চাষীর

Update Time : ১২:০৫:০৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫

লালমনিরহাটে বন্যা পরবর্তী চাষাবাদে ফিরেছেন নদীর তীরবর্তী চরাঞ্চলের চাষীর

মনোয়ারুল ইসলাম রংপুর জেলা প্রতিনিধি

লালমনিরহাটে বন্যার দুঃসহ স্মৃতি ভুলে ঘুরে দাঁড়ানোর প্রত্যয়ে নতুন করে সবুজ ফসল ফলাতে মাঠে নেমে গেছেন সবজি ভান্ডার খ্যাত তিস্তা, ধরলা ও রত্নাই নদীর তীরবর্তী চরাঞ্চলের কৃষক-কৃষাণীরা। বন্যার ক্ষতিকে বুকে চেপে নিয়েই শত কষ্টের মধ্যেও নিজ উদ্যোগে ঋণ করে হলেও বন্যার ক্ষতি পুষিয়ে নিতে আবারও নতুন করে সবজি চাষাবাদ শুরু করেছেন বন্যায় ক্ষতিগ্রস্থ চাষীরা।

কেউবা জমি প্রস্তুত করছেন, কেউবা আবার প্রস্তুত করা জমিতে ফসলের বীজ বপণ করছেন। কেউবা জমিতে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা বন্যার পানিতে ভেসে আসা লাকড়ি ও খড়কুটো অপসারণ করছেন।
দুর্ভাগ্য যেন নিত্যসঙ্গী তিস্তা, ধরলা ও রত্নাই নদীর চরাঞ্চলের চাষীদের। ক্ষতি পুষিয়ে উঠতে সবজি আবাদ করেন তারা।

এভাবেই চলছে তাদের জীবন ও জীবিকার সংগ্রাম। লালমনিরহাট জেলার মধ্য দিয়ে প্রবাহিত খরস্রোতা তিস্তা, ধরলা ও রত্নাই নদী তীরবর্তী চরাঞ্চল লালমনিরহাটের সবজি ভান্ডার হিসেবে পরিচিত। এই চরে সারা বছর জুড়েই বিভিন্ন শাক-সবজিসহ নানা ফসল উৎপাদন হয়। এ অঞ্চলে শিল্পকারখানা না থাকায় তিস্তা, ধরলা ও রত্নাই নদী তীরবর্তী লোকজন শাক-সবজিসহ অন্যান্য ফসল চাষের ওপর নির্ভরশীল।

যাদের নিজস্ব জমি নেই তাঁরাও অন্যের জমি লিজ নিয়ে শাক-সবজি চাষ করেন। এতে শত শত পরিবার স্বচ্ছল ভাবে জীবন ও জীবিকা নির্বাহ করছেন। বেগুন, মূলা, শিম, ঢেঁড়শ, কাকরোল, চিচিঙ্গা, বরবটি, ঝিঙ্গা, তিত করলা, ফুলকপি, বাঁধাকপি, শসা, মিষ্টি কুমড়া, চালকুমড়া, লাউ, পেঁপেসহ বিভিন্ন ধরনের শাক উৎপাদন হয় এখানে। জমিতে ফলানো সবজি বিক্রি করে আর্থিকভাবে লাভবান হয়েছেন তিস্তা, ধরলা ও রত্নাই নদীর চরের সবজি চাষীরা।

রত্নাই নদীর চরের সবজি চাষীরা বলেন, বন্যার পর নতুন করে জমি তৈরি করা ও নতুন ফসল লাগানোতে সার, বীজের পাশাপাশি প্রয়োজন হয় লোকবলের। এজন্য সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন হয় টাকার। সেই টাকা সংগ্রহে ঋণগ্রস্থ হয়ে পড়েন চাষীরা। সেই ঋণ পরিশোধ করতে চলে যায় আরও কয়েক বছর। সবজি আবাদ করতে সহজে ঋণ পাওয়ার জন্য কৃষি বিভাগের সহযোগিতা খুবই প্রয়োজন সবজি চাষীদের।

ধরলা নদীর চরের সবজি চাষীরা বলেন, সবজি চাষীরা কিভাবে নতুন করে জমিতে ফসল বুনবেন সে সহযোগিতার দেখা মেলা কঠিন। সরকারিভাবে ধানের বীজ ও সার দেওয়া হলেও সবজি চাষীদের জন্য তা পর্যাপ্ত নয়। সহজ শর্তে ঋণ দিলে সবজি চাষীরা ভীষণ উপকৃত হবে।

তিস্তা নদীর চরের সবজি চাষীরা বলেন, বন্যায় ক্ষতিগ্রস্থ মানুষ সরকারি ত্রাণ সহায়তা পেলেও চাষীরা নতুন করে চাষাবাদ করার জন্য সরকারি কোন সহযোগিতা পায়নি। চাষীদের খবর নেয়নি কেউ। তাই নিজ নিজ উদ্যোগে জমিতে ফলানো সবজি বিক্রি করে আর্থিকভাবে লাভবান হবেন চরের সবজি চাষীরা।

লালমনিরহাট কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানিয়েছে, তৃতীয় দফার বন্যায় লালমনিরহাট জেলার ৯শত ১৫হেক্টর আমন ক্ষেত ও ৬৩হেক্টর অন্যান্য ফসল নিমজ্জিত হয়েছে।

উল্লেখ্য যে, কৃষকদেরকেও কৃষি বীমার আওতায় আনলে প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্থ কৃষকেরা বীমার টাকা দিয়ে নতুনভাবে চাষাবাদ করতে পারবেন। কৃষকদের কৃষি বীমার আওতায় আনার দাবি তিস্তা, ধরলা ও রত্নাই নদীর চরের সবজি চাষীদের।