
সুইজারল্যান্ডের বিলাসবহুল রিসোর্ট ক্র্যানস-মন্টানায় নববর্ষের আনন্দ মুহূর্তেই বিষাদে রূপ নিয়েছে। বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) রাতে একটি বারে লাগা ভয়াবহ আগুনে অন্তত ৪০ জন নিহত হয়েছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এই ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও প্রায় ১০০ জন, যাদের অনেকের অবস্থাই আশঙ্কাজনক।
যেভাবে আগুনের সূত্রপাত:
প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা গেছে, স্থানীয় সময় রাত দেড়টার দিকে ‘লে কনস্টেলেশন’ নামক একটি বারে আগুনের সূত্রপাত হয়। ফরাসি সংবাদমাধ্যমকে দুই প্রত্যক্ষদর্শী জানান, একজন ওয়েট্রেস শ্যাম্পেনের বোতলের ওপর ‘বার্থডে ক্যান্ডেল’ বা আতশবাজি সদৃশ মোমবাতি জ্বালানোর পরপরই আগুনের শিখা কাঠের তৈরি ছাদে লেগে যায়। মুহূর্তের মধ্যেই পুরো ভবন দাউ দাউ করে জ্বলতে শুরু করে।
প্রত্যক্ষদর্শীর লোমহর্ষক বর্ণনা:
উদ্ধার কাজে অংশ নেওয়া এক যুবক বিবিসিকে বলেন, “আমি বিকট শব্দ শুনে ভেতরে ঢুকে দেখি মানুষ মাথা থেকে পা পর্যন্ত জ্বলছে। চোখের সামনে এমন বীভৎস দৃশ্য আগে কখনো দেখিনি।” তিনি জানান, ভেতরে আটকা পড়া মানুষদের বাঁচাতে তিনি জানালার কাচ ভেঙে দেন। অনেকে টেবিল দিয়ে জানালা ভেঙে এবং সরু সিঁড়ি দিয়ে বের হওয়ার চেষ্টা করতে গিয়ে হুড়োহুড়ির শিকার হন।
হাসপাতালে জরুরি অবস্থা:
আহতদের সংখ্যা এতই বেশি যে স্থানীয় হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রগুলো (আইসিইউ) দ্রুত পূর্ণ হয়ে যায়। গুরুতর দগ্ধ অনেক রোগীকে উন্নত চিকিৎসার জন্য প্রতিবেশী দেশ ইতালির মিলানে স্থানান্তর করা হয়েছে।
কর্তৃপক্ষের বক্তব্য:
প্রাথমিকভাবে অগ্নিকাণ্ডের কারণ নিশ্চিত না হলেও তদন্ত শুরু হয়েছে। তবে সরকারি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এটি কোনো সন্ত্রাসী হামলা নয়; বরং নিছক দুর্ঘটনা থেকেই আগুনের সূত্রপাত। প্রায় ৩০০ জন ধারণক্ষমতার ওই বারে আগুনের সময় ঠিক কতজন উপস্থিত ছিলেন, তা এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
নববর্ষের রাতে এমন মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় পুরো সুইজারল্যান্ডে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
Reporter Name 











