
ইনকিলাব মঞ্চের সাবেক মুখপাত্র শরিফ ওসমান গনি হাদি হত্যার ঘটনায় অভিযুক্ত আলমগীরের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিমনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। বুধবার (২৪ ডিসেম্বর) তাকে রাজধানীর আদাবর এলাকা থেকে আটক করা হয়। হিমনের কাছ থেকে একটি বিদেশি পিস্তল, তিন রাউন্ড গুলি ও বিপুল পরিমাণ বিস্ফোরক উদ্ধার করা হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেফতারকৃত হিমন আদাবর থানা যুবলীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। তিনি হাদি হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত মোটরসাইকেলের চালক আলমগীরের অত্যন্ত বিশ্বস্ত সহযোগী হিসেবে পরিচিত।
তদন্তে ১২৭ কোটির ‘অস্বাভাবিক’ লেনদেন
এদিকে, হাদি হত্যা মামলার প্রধান আসামি ফয়সাল করিম মাসুদ ও তার সহযোগীদের ৮টি ব্যাংক হিসাব জব্দের (ফ্রিজ) নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবির পরিদর্শক ফয়সাল আহমেদের আবেদনের প্রেক্ষিতে এই আদেশ দেওয়া হয়।
তদন্তকারী কর্মকর্তা জানান, পলাতক আসামি ফয়সাল ও তার স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ব্যাংক হিসাবে ১২৭ কোটি টাকারও বেশি ‘অস্বাভাবিক’ লেনদেনের তথ্য পাওয়া গেছে। এই বিপুল অর্থ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে কোনোভাবে সংশ্লিষ্ট কি না, তা খতিয়ে দেখছে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।
হাদি হত্যাকাণ্ডের জট খুলতে শুরু থেকেই তৎপর রয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এখন পর্যন্ত এই মামলায় গ্রেফতার হয়েছেন:
* প্রধান আসামি ফয়সালের বাবা মো. হুমায়ুন কবির ও মা হাসি বেগম।
* ফয়সালের স্ত্রী, প্রেমিকা ও শ্যালক।
* সর্বশেষ অস্ত্রসহ গ্রেফতার হলেন সহযোগী হিমন।
তবে প্রধান অভিযুক্ত ফয়সাল করিম মাসুদ এখনো পলাতক রয়েছেন। তাকে গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
গত ১২ ডিসেম্বর ঢাকার পুরানা পল্টনে রিকশাযোগে যাওয়ার সময় চলন্ত মোটরসাইকেল থেকে হাদিকে লক্ষ্য করে মাথায় গুলি করা হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হলেও চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৮ ডিসেম্বর তার মৃত্যু হয়। প্রথমে পল্টন থানায় হত্যাচেষ্টা মামলা হলেও হাদির মৃত্যুর পর এটি পূর্ণাঙ্গ হত্যা মামলায় রূপ নেয়।
Reporter Name 










