
মুস্তাফিজের ঘূর্ণি, সাইফ–হৃদয়ের ঝড়ো ব্যাটিংয়ে লঙ্কানদের হারাল টাইগাররা
ক্রীড়া প্রতিবেদক
এশিয়া কাপের সুপার ফোরের শুরুটা রঙিন করল বাংলাদেশ। দুবাই আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে শ্রীলঙ্কাকে ৪ উইকেটে হারিয়ে আত্মবিশ্বাসী জয় তুলে নিয়েছে লিটন দাসের নেতৃত্বাধীন দল। ম্যাচে ব্যাটে-বলে সমান নৈপুণ্য দেখিয়েছে টাইগাররা—মুস্তাফিজুর রহমানের কাটারে ভর করে লঙ্কান ব্যাটিং লাইনআপ ভেঙে যায়, আর সাইফ হাসান ও তাওহীদ হৃদয়ের ব্যাটিং ঝড়ে সহজ জয় পায় বাংলাদেশ।
লঙ্কানদের উড়ন্ত শুরু, তারপর পতন
টস জিতে প্রথমে বোলিং নেয় বাংলাদেশ। শ্রীলঙ্কার দুই ওপেনার পাথুম নিসাঙ্কা ও কুশল মেন্ডিস আক্রমণাত্মক সূচনা এনে দেন। মাত্র পাঁচ ওভারে দলীয় সংগ্রহ পৌঁছে যায় ৪৪ রানে।
তবে নিসাঙ্কা ফিরেই দিলেন ধাক্কা। এরপর মেন্ডিসও বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি। দ্রুতই উইকেট হারাতে থাকে লঙ্কানরা। শানাকা ও আসালঙ্কার জুটি কিছুটা প্রতিরোধ গড়লেও মুস্তাফিজুর রহমান বল হাতে নিয়ন্ত্রণ ফেরান বাংলাদেশকে।
মুস্তাফিজের কাটারে লঙ্কানদের বিপর্যয়
দীর্ঘদিন পর বল হাতে পুরনো মুস্তাফিজকে দেখা গেল দুবাইয়ে। ৪ ওভারে মাত্র ২০ রান দিয়ে তুলে নেন ৩ উইকেট। লঙ্কান ব্যাটারদের একের পর এক ভুগিয়েছেন কাটার ও ভ্যারিয়েশনে।
মেহেদী হাসানও ছিলেন কার্যকর, ২৫ রানে নেন ২ উইকেট। যদিও শেষদিকে শানাকার ঝড় সামলাতে পারেননি টাইগাররা। ৩৭ বলে ৬৪ রানের বিধ্বংসী ইনিংস খেলেন লঙ্কান অধিনায়ক, হাঁকান ৩ চার ও ৬ ছক্কা। তার সৌজন্যে ২০ ওভার শেষে শ্রীলঙ্কার ইনিংস থামে ১৬৮ রানে।
সাইফ–লিটনের জুটি, হৃদয়ের ঝলক
টার্গেট তাড়া করতে নেমে শুরুতেই উইকেট হারায় বাংলাদেশ। তবে সাইফ হাসান ও লিটন দাস ব্যাট হাতে আস্থা জোগান। লঙ্কান বোলারদের ওপর চড়াও হয়ে খেলেন দুজনই।
‘নানাবাড়ির দেশে’ খেলার সুযোগ পেয়েছিলেন সাইফ। মাঠে নামার পরই যেন বাড়তি অনুপ্রেরণা পেয়েছেন এই ডানহাতি ব্যাটার। ৪৫ বলে ৬১ রানের দারুণ ইনিংস খেলেন তিনি, যেখানে ছিল ২টি চার ও ৪টি ছক্কা।
এরপর দায়িত্ব নেন তাওহীদ হৃদয়। সমালোচকদের জবাব দিতে তিনি খেলেন আক্রমণাত্মক কিন্তু নিয়ন্ত্রিত ইনিংস। মাত্র ৩৭ বলে করেন ৫৮ রান, হাঁকান ৪টি চার ও ২টি ছক্কা। তার ঝলকেই জয়ের পথ সহজ হয় বাংলাদেশের।
নাটকীয় শেষ, কিন্তু পূর্ণ পয়েন্ট টাইগারদের
শেষদিকে কিছুটা উত্তেজনা তৈরি হয়। জয়ের জন্য যখন মাত্র ১ রান প্রয়োজন, তখন পরপর দুটি উইকেট হারায় বাংলাদেশ। তবে সেটি কেবল নাটকীয়তার খোরাক যোগায়, ফল বদলায় না।
অবশেষে ৪ উইকেট হাতে রেখেই সহজ জয় তুলে নেয় বাংলাদেশ। ম্যাচ শেষে উচ্ছ্বসিত ক্রিকেটপ্রেমীরা প্রশংসায় ভাসান মুস্তাফিজ, সাইফ ও হৃদয়কে।
শুভ সূচনা, সামনে কঠিন চ্যালেঞ্জ
এই জয়ে পূর্ণ পয়েন্ট নিয়ে সুপার ফোর শুরু করল বাংলাদেশ। তবে এখনো সামনে কঠিন লড়াই অপেক্ষা করছে পাকিস্তান ও ভারতের বিপক্ষে। তবুও শ্রীলঙ্কার মতো প্রতিপক্ষকে হারিয়ে টাইগাররা পেয়েছে আত্মবিশ্বাসের বড় জ্বালানি।
Reporter Name 











