
পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে হওয়া আত্মঘাতী হামলার দায় স্বীকার করেছে নিষিদ্ধ সশস্ত্র সংগঠন তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি), যাকে পাকিস্তান তালেবানও বলা হয়। হামলার কয়েক ঘণ্টা পর তারা এক বিবৃতি দিয়ে বিষয়টি নিশ্চিত করে।—খবর এএফপি।
বিবৃতিতে টিটিপি জানায়, তাদের একজন সদস্য ইসলামাবাদ বিচার কমিশনের ওপর হামলা চালিয়েছে। তারা দাবি করে, যেসব বিচারক, আইনজীবী ও কর্মকর্তা ইসলামি আইনবিরোধী রায় দিয়েছেন, তারা হামলার লক্ষ্য ছিলেন। সংগঠনটি আরও বলে, দেশে শরিয়াহ আইন কার্যকর না হওয়া পর্যন্ত এমন হামলা অব্যাহত থাকবে।
মঙ্গলবার (১১ নভেম্বর) বিকেলে আদালতের বাইরে পার্ক করা একটি গাড়িতে বিস্ফোরণ ঘটে। ওই এলাকায় সাধারণত অনেক ভিড় থাকে। হামলায় ১২ জন নিহত এবং ৩৬ জন আহত হয়েছেন। নিহতদের বেশিরভাগই আদালতে শুনানির জন্য আসা সাধারণ পথচারী।
পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নাকভি জানান, হামলাকারী আদালত ভবনে ঢোকার চেষ্টা করেছিল, কিন্তু ব্যর্থ হয়ে একটি পুলিশের গাড়ির কাছে বিস্ফোরণ ঘটায়। তিনি কোনো সশস্ত্র গোষ্ঠীকে দায়ী না করে বলেন, বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে। পুলিশও জানায়, বিস্ফোরণের ধরন এখনও নিশ্চিত নয়; ফরেনসিক রিপোর্ট পাওয়ার পর বিস্তারিত জানা যাবে।
হামলার ঘটনায় প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ বলেন, পাকিস্তান এখন যুদ্ধের পরিস্থিতিতে রয়েছে। তিনি হামলাকে সতর্কবার্তা উল্লেখ করে আফগানিস্তানের দিকেও ইঙ্গিত দেন। তার দাবি, কাবুল চাইলে পাকিস্তানে সন্ত্রাস থামাতে পারে, কিন্তু হামলা চালিয়ে তারা একটি বার্তা দিয়েছে।
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ হামলার নিন্দা জানিয়েই ভারতকে দায়ী করেন। সরকারি বিবৃতিতে বলা হয়, ভারতীয় সহায়তায় সক্রিয় চরমপন্থী গোষ্ঠী ‘ফিতনা আল-হিন্দুস্তান’ এই হামলা চালিয়েছে। তিনি আরও দাবি করেন, একই সময়ে ওয়াজিরিস্তানের ওয়ানায়ও ভারতপন্থী জঙ্গিরা হামলা করেছে।
বিবৃতিতে বলা হয়, সন্ত্রাসবাদ পুরোপুরি নির্মূল না হওয়া পর্যন্ত অভিযান চলবে। অপরাধীদের বিচারের আওতায় আনার নির্দেশও দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।
বিএন আহাম্মেদ 












