
||বিএন আহাম্মেদ || ইন্দোনেশিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট সুহার্তোকে দেশটির সরকার ‘জাতীয় বীর’ উপাধি দিয়েছে। তবে তার দীর্ঘ একনায়কতান্ত্রিক শাসন ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ থাকায় সিদ্ধান্তটি দেশজুড়ে তীব্র সমালোচনা ও প্রতিবাদের জন্ম দিয়েছে।
সুহার্তো ২০০৮ সালে মারা যান। ১৯৬০-এর দশক থেকে ৯০-এর দশকের শেষ পর্যন্ত তার শাসনামল দেশকে বড় অর্থনৈতিক উন্নয়ন দিলেও একই সময়ে ব্যাপক দমন-পীড়ন, নির্যাতন ও হাজার হাজার মানুষের মৃত্যু ঘটে। ধারণা করা হয়, তার শাসনে বহু রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ ও ভিন্নমতাবলম্বীকে হত্যা করা হয়েছিল।
ইন্দোনেশিয়ায় প্রতি বছর দেশের প্রতি বিশেষ অবদান রাখা মানুষদের ‘জাতীয় বীর’ উপাধি দেওয়া হয়। সোমবার প্রেসিডেন্ট প্রাবোও সুবিয়ান্তো—যিনি সুহার্তোর সাবেক জামাতা—জাকার্তায় রাষ্ট্রপতি প্রাসাদে ১০ জনকে এই উপাধি ঘোষণা করেন। মনোনীতদের তালিকায় সুহার্তোও ছিলেন, যা গত অক্টোবরে সামাজিক ও সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় প্রস্তুত করেছিল। অনুষ্ঠানে সুহার্তোর সন্তানরা পুরস্কার গ্রহণ করেন।
সরকার জানায়, স্বাধীনতা সংগ্রামে সুহার্তো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন। তবে মানবাধিকার সংগঠন ও নাগরিক সমাজের অনেকে বলছেন—এটি ইতিহাস বিকৃত করার চেষ্টা, যেখানে সুহার্তোর স্বৈরশাসন ও মানবাধিকার লঙ্ঘনকে ধামাচাপা দেওয়া হচ্ছে।
প্রতিবাদও শুরু হয়েছে। গত সপ্তাহে জাকার্তায় প্রায় ১০০ বিক্ষোভকারী তার মনোনয়ন প্রত্যাহারের দাবি জানায়। অনলাইনে প্রায় ১৬ হাজার মানুষ একটি পিটিশনে স্বাক্ষর করেছে। সোমবার আরও বিক্ষোভ হওয়ার কথা, এবং এজন্য আগে থেকেই শত শত নিরাপত্তা সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।
সুহার্তোর ক্ষমতা দখলের সময় ১৯৬৫ সালে ভয়াবহ রক্তপাত ঘটে, যেখানে অন্তত পাঁচ লাখ সন্দেহভাজন ‘কমিউনিস্ট’ নিহত হয়। তার তিন দশকের শাসনে গুম, নির্যাতন ও নাগরিক স্বাধীনতার দমন ছিল নিত্যদিনের ঘটনা।
তবু কেউ কেউ মনে করেন, আধুনিক ইন্দোনেশিয়ার ভিত্তি তার সময়েই গড়ে ওঠে। কঠোর শাসন করলেও তিনি দেশের উন্নয়ন ও স্থিতিশীলতাকে অগ্রাধিকার দিতেন। তার আমলে দেশটির অর্থনীতি বছরে প্রায় ৭ শতাংশ হারে বাড়ে। তবে তার বিরুদ্ধে বিপুল পরিমাণ দুর্নীতির অভিযোগও ছিল।
১৯৯৮ সালে আর্থিক সংকট ও দেশজুড়ে বিক্ষোভের মুখে সুহার্তো ক্ষমতা ছেড়ে দেন এবং শান্তিপূর্ণভাবে দায়িত্ব হস্তান্তর করেন। পরে ২০০৮ সালে ৮৬ বছর বয়সে তিনি মারা যান।
বিএন আহাম্মেদ 












