
টেসলা, স্পেসএক্স, এক্স (টুইটার), নিউরালিংক এবং এক্সএআই-এর পর এবার অনলাইন বিশ্বকোষ চালু করেছেন মার্কিন ধনকুবের ইলন মাস্ক। নতুন এই বিশ্বকোষের নাম ‘গ্রকিপিডিয়া’, যা তৈরি করা হয়েছে উইকিপিডিয়ার আদলে।
মাস্ক জানিয়েছেন, গ্রকিপিডিয়া সম্পূর্ণভাবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইয়ের মাধ্যমে পরিচালিত হবে। এটি তথ্য উপস্থাপন করবে তার নিজস্ব ডানপন্থি দৃষ্টিভঙ্গির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে। তবে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান জানিয়েছে, গ্রকিপিডিয়ার অনেক নিবন্ধই উইকিপিডিয়ার তথ্যের ওপর ভিত্তি করে তৈরি।
গ্রকিপিডিয়াকে “সভ্যতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ” বলে মন্তব্য করেছেন মাস্ক। তিনি বলেন, এই ধারণা তার নিজের নয়—এটি এসেছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের সাবেক কর্মকর্তা ডেভিড স্যাকসের কাছ থেকে।
উইকিপিডিয়ার মতো স্বেচ্ছাসেবী লেখক না থাকলেও, গ্রকিপিডিয়ার দাবি—এর সব তথ্য যাচাই করে মাস্কের এআই প্রতিষ্ঠান এক্সএআই-এর তৈরি চ্যাটবট ‘গ্রক’।
ইলন মাস্ক বহুবার উইকিপিডিয়ার সমালোচনা করেছেন, বিশেষ করে যখন প্ল্যাটফর্মটি নিউ ইয়র্ক টাইমস বা এনপিআর-এর মতো সংবাদমাধ্যমের তথ্য উদ্ধৃত করে। তিনি প্রায়ই “মূলধারার গণমাধ্যমকে পক্ষপাতদুষ্ট” বলে অভিযুক্ত করেন এবং তার নিজস্ব প্ল্যাটফর্ম এক্স-এ সংবাদ পড়তে উৎসাহ দেন।
গ্রকিপিডিয়ার বেশ কিছু নিবন্ধে রক্ষণশীল বা ডানপন্থি দৃষ্টিভঙ্গি লক্ষ্য করা গেছে। যেমন—২০২১ সালের ৬ জানুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের ক্যাপিটল হিলে হামলা নিয়ে করা এক নিবন্ধে বলা হয়েছে, “ভোটে অনিয়মের অভিযোগ” ছিল, যদিও এই দাবি ট্রাম্প সমর্থকদের প্রচারিত একটি মিথ্যা ধারণা হিসেবে পরিচিত। সেই নিবন্ধে ট্রাম্পের ভূমিকা নিয়েও তুলনামূলকভাবে নরম ভাষায় আলোচনা করা হয়েছে।
অন্যদিকে, কিছু সাংবাদিক ইতিমধ্যে অভিযোগ করেছেন যে, গ্রকিপিডিয়া ভুল বা বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রকাশ করছে। এক নিবন্ধে এমনকি দাবি করা হয়েছে—“পর্নোগ্রাফি এইডস মহামারিকে আরও খারাপ করেছে”—যা বিশেষজ্ঞদের মতে ভিত্তিহীন তথ্য।
এআই-নির্ভর এই নতুন প্ল্যাটফর্মটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইতিমধ্যেই ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। অনেকেই এটিকে তথ্যের বিকল্প উৎস হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ কেউ বলছেন—এটি ভুল তথ্য ছড়ানোর নতুন মাধ্যম হয়ে উঠতে পারে।
বিএন আহাম্মেদ 












