
জলবায়ু পরিবর্তনসহ বিভিন্ন কারণে বিশ্বের অনেক শহরে বায়ুদূষণের মাত্রা ক্রমেই বাড়ছে। এরই ধারাবাহিকতায় দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশের রাজধানী মেগাসিটি ঢাকা বায়ুদূষণের শিকার। তবে সাম্প্রতিক সময়ে শহরটির বায়ুমান কিছুটা উন্নতির ইঙ্গিত দিচ্ছে।
রোববার (৭ সেপ্টেম্বর) সকালে ঢাকার এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স (AQI) স্কোর ছিল ৭৪, যা দূষণের দিক থেকে ‘মাঝারি’ হিসেবে বিবেচিত হয়। এ স্কোর অনুযায়ী, বিশ্বের দূষিত শহরের তালিকায় ঢাকার অবস্থান ২৪তম।
একই সময় আইকিউএয়ারের দেওয়া তথ্যে দেখা যায়, ১৬৪ স্কোর নিয়ে সবচেয়ে দূষিত শহরের তালিকায় শীর্ষে রয়েছে সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদ। দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে কঙ্গোর রাজধানী কিনশাসা, যার স্কোর ১৫২। ১৩৩ স্কোর নিয়ে তৃতীয় স্থানে আছে সংযুক্ত আরব আমিরাতের শহর দুবাই।
এ ছাড়া ভারতের রাজধানী দিল্লি ১২১ স্কোর নিয়ে চতুর্থ এবং ফিলিপাইনের মানিলা শহর ১১৫ স্কোর নিয়ে তালিকার পঞ্চম স্থানে রয়েছে।
সুইজারল্যান্ডভিত্তিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান আইকিউএয়ার নিয়মিতভাবে বিশ্বের বিভিন্ন শহরের বায়ুমান বিশ্লেষণ করে একটি তালিকা প্রকাশ করে। তারা প্রতি মুহূর্তে বাতাসের মান মূল্যায়ন করে ‘এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স’ (AQI) বা বায়ুমান সূচক তৈরি করে, যা দেখায় একটি শহরের বায়ু কতটা বিশুদ্ধ বা দূষিত এবং তা মানবস্বাস্থ্যের জন্য কতটা ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।
একিউআই সূচকে ০ থেকে ৫০ পর্যন্ত স্কোরকে ভালো মানের বা নিরাপদ ধরা হয়। ৫১ থেকে ১০০ পর্যন্ত স্কোরকে মাঝারি বা সহনীয় হিসেবে গণ্য করা হয়। ১০১ থেকে ১৫০ স্কোর হলে তা সংবেদনশীল ব্যক্তিদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ বলে বিবেচিত হয়। স্কোর যদি ১৫১ থেকে ২০০-এর মধ্যে থাকে, তাহলে সেটিকে সাধারণভাবে ‘অস্বাস্থ্যকর’ ধরা হয়। ২০১ থেকে ৩০০ স্কোর খুবই অস্বাস্থ্যকর এবং ৩০১ বা তার বেশি হলে সেটিকে বিপজ্জনক বা দুর্যোগপূর্ণ বলা হয়।
বায়ুদূষণ মানবস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক হুমকি তৈরি করে। এটি সকল বয়সের মানুষের জন্য ক্ষতিকর হলেও শিশু, বয়স্ক, অসুস্থ এবং গর্ভবতী নারীদের জন্য এর প্রভাব আরও ভয়াবহ হতে পারে।
বাংলাদেশে AQI মূল্যায়নের জন্য পাঁচটি মূল দূষক উপাদান বিবেচনায় নেওয়া হয়: বস্তুকণা (PM10 ও PM2.5), নাইট্রোজেন ডাই অক্সাইড (NO₂), কার্বন মনোঅক্সাইড (CO), সালফার ডাই অক্সাইড (SO₂) এবং ওজোন (O₃)।
২০১৯ সালের মার্চে পরিবেশ অধিদপ্তর ও বিশ্বব্যাংকের যৌথ এক প্রতিবেদনে ঢাকার বায়ুদূষণের প্রধান তিনটি উৎস হিসেবে চিহ্নিত করা হয়—ইটভাটা, যানবাহনের ধোঁয়া ও নির্মাণকাজ থেকে উৎপন্ন ধুলাবালি।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) জানিয়েছে, বায়ুদূষণের কারণে স্ট্রোক, হৃদরোগ, দীর্ঘমেয়াদি ফুসফুসের রোগ, ক্যানসার এবং তীব্র শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণজনিত মৃত্যুর হার বাড়ছে। প্রতি বছর বিশ্বজুড়ে আনুমানিক ৭০ লাখ মানুষ বায়ুদূষণজনিত কারণে মারা যায়।
অনলাইন ডেস্ক 









