
রংপুর মহানগর এলাকায় নর্দান ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই কোম্পানি (নেসকো) কর্তৃক জোরপূর্বক প্রিপেইড মিটার স্থাপনের প্রতিবাদে কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছে রংপুর মহানগর নাগরিক কমিটি। আগামী ৩০ ডিসেম্বরের মধ্যে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে প্রিপেইড মিটার স্থাপন বন্ধ না হলে হরতাল, অবরোধসহ যুগোপযোগী কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলে সংগঠনের নেতৃবৃন্দ জানিয়েছেন।
আজ শনিবার দুপুরে শহরের একটি কমিউনিটি সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটির সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট পলাশ কান্তি নাগ লিখিত বক্তব্য পাঠ করে এ ঘোষণা দেন।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন— বীর মুক্তিযোদ্ধা নীপেন্দ্রনাথ রায়, এবিএম মসিউর রহমান, আব্দুল হামিদ বাবু, মাহফুজার হোসেন, মেহেদী হাসান তরুণ, রেদোয়ান ফেরদৌস, সুবাস বর্মনসহ নাগরিক কমিটির আরও নেতৃবৃন্দ।
সংবাদ সম্মেলনে পলাশ কান্তি নাগ অভিযোগ করেন, গ্রাহকদের আপত্তি সত্ত্বেও নেসকো নানা কৌশলে এবং জবরদস্তি করে বাসাবাড়ি, দোকানপাট ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে প্রিপেইড মিটার স্থাপনের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। তিনি বলেন, পূর্ববর্তী জেলা প্রশাসক গ্রাহকদের আন্দোলনের মুখে প্রিপেইড মিটার স্থাপন বন্ধের নির্দেশ দিয়েছিলেন। কিন্তু নেসকো সেই নির্দেশ অমান্য করে আবারও জোরপূর্বক সংযোগ দিচ্ছে।
নেসকোর পক্ষ থেকে গ্রাহকদের মতামত গ্রহণ, গণশুনানি আয়োজন বা যথাযথ আলোচনাও করা হয়নি বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
প্রিপেইড মিটার ব্যবস্থাকে বিদ্যুৎ আইনের পরিপন্থি দাবি করে তিনি বলেন, বিদ্যুৎ আইন ২০০৩-এর ৫৬ ধারা অনুযায়ী গ্রাহকের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করতে চাইলে ১৫ দিন আগে নোটিশ দেওয়ার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। কিন্তু প্রিপেইড মিটারে রিচার্জকৃত টাকা শেষ হয়ে গেলেই কোনো নোটিশ ছাড়াই সঙ্গে সঙ্গে সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।
তিনি দাবি করেন, হয়রানিমূলক প্রিপেইড মিটার স্থাপন বন্ধে হাইকোর্টে একটি রিট পিটিশন চলমান থাকলেও নেসকো রায়ের অপেক্ষা না করে তড়িঘড়ি করে সংযোগ প্রদান করছে।
পলাশ কান্তি নাগ আরও জানান, প্রিপেইড মিটার ব্যবস্থায় গ্রাহকদের **মিটার ভাড়া ও সারচার্জ বাবদ প্রায় ৩০% আর্থিক ক্ষতি হবে।প্রতিবার ১ হাজার টাকা রিচার্জে ২০ টাকা এজেন্ট কমিশন পরিশোধ করতে হবে। প্রতিমাসে ৪০ টাকা মিটার ভাড়া দিতে হবে, যা কতদিন দিতে হবে তা অস্পষ্ট। ব্যালেন্স শেষ হয়ে গেলে ২০০ টাকা ইমার্জেন্সি ব্যালেন্স নিলে ৫০ টাকা সুদ দিতে হবে। মিটার লক হলে সেটি খুলতে ৬০০ টাকা জরিমানা দিতে হবে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, গ্রাহকরা নিজেদের অর্থে পূর্বে অ্যানালগ ও ডিজিটাল মিটার ক্রয় করলেও বিদ্যুৎ বিভাগ কখনো সেই অর্থ পরিশোধ করেনি।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা বিদ্যুৎ খাতে অতীতের অনিয়ম-দুর্নীতির কথাও তুলে ধরেন। তিনি বলেন, বিগত সরকার রেন্টাল-কুইক রেন্টালের নামে হাজার হাজার কোটি টাকা লোপাট করেছে। বিদ্যুৎ উৎপাদন না করেই বেসরকারি কোম্পানিগুলো গত ১০ বছরে ৫১ হাজার ১৫৭ কোটি টাকা নিয়ে গেছে, এর বোঝা বহন করেছে সাধারণ জনগণ।
সংবাদ সম্মেলনে আগামী ৩০ ডিসেম্বরের মধ্যে জেলা প্রশাসকের পক্ষ থেকে প্রিপেইড মিটার স্থাপন বন্ধে নির্বাহী আদেশ জারি করার দাবি জানানো হয়। অন্যথায় হরতাল ও অবরোধসহ কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়।
Reporter Name 











