
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে ভোটের নিরাপত্তা ও নাগরিক অধিকার রক্ষার ওপর জোর দিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে মঙ্গলবার (১৬ ডিসেম্বর) জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে তিনি বলেন, যারা ভোটবাক্স লুট করবে, তারা দেশের মানুষের স্বাধীনতার শত্রু।
ড. ইউনূস বলেন, ভোট জনগণের ভবিষ্যৎ গড়ার প্রধান মাধ্যম। ভোটবাক্সে ভোট জমা দিতে না পারলে কাঙ্ক্ষিত ভবিষ্যৎ নির্মাণ সম্ভব নয়। তিনি ভোটারদের উদ্দেশে বলেন, নিজের ভোট নিজে সযত্নে ভোটবাক্সে দিন এবং কেউ বাধা দিলে সুশৃঙ্খলভাবে প্রতিহত করুন। প্রয়োজনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহায়তা নিতে বলেন তিনি।
যোগ্য প্রার্থীকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ভোটের ওপরই দেশের আগামী দিনের ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে। ভোট রক্ষা করা মানেই দেশ রক্ষা করা। ভোটই দেশকে এগিয়ে নেওয়ার চালিকা শক্তি— এই শক্তি কাউকে নষ্ট করতে দেওয়া যাবে না।
আসন্ন জাতীয় নির্বাচন ও গণভোটকে সামনে রেখে প্রশাসনিক প্রস্তুতির কথাও তুলে ধরেন ড. ইউনূস। তিনি জানান, নির্বাচনকে অবাধ, নিরপেক্ষ ও ভয়মুক্ত করতে মাঠ প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনে প্রয়োজনীয় রদবদল করা হয়েছে। এসব পরিবর্তন কোনো পক্ষপাতের কারণে নয়; দক্ষতা ও পেশাগত যোগ্যতার ভিত্তিতেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের প্রয়োজনে আরও পদক্ষেপ নেওয়ার সুযোগও রাখা হয়েছে।
ভাষণে তিনি ‘জুলাই সনদ’-কে জাতির ভবিষ্যৎ পথনির্দেশক দলিল হিসেবে উল্লেখ করেন। রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা, বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন, প্রশাসনিক জবাবদিহিতা, দুর্নীতি কমানো ও সমঅধিকার প্রতিষ্ঠায় জনগণের স্পষ্ট মতামত প্রয়োজন বলে জানান তিনি। সে কারণেই সংসদ নির্বাচনের সঙ্গে একই দিনে গণভোট আয়োজন করা হচ্ছে।
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, এবার একই সঙ্গে সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হবে, যার প্রভাব দীর্ঘমেয়াদি। ভোটের মাধ্যমেই নির্ধারিত হবে রাষ্ট্র কোন পথে এগোবে এবং নতুন বাংলাদেশ কেমন হবে। তাই সবাইকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
Reporter Name 











