
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংকট যেন থামার নাম নেই—ফিলিস্তিন, সিরিয়া, লেবানন ও ইয়েমেনে অস্থিরতা লেগেই রয়েছে। তবে সম্প্রতি কাতারের রাজধানী দোহায় ইসরায়েলি ক্ষেপণাস্ত্র হামলা পরিস্থিতিকে নতুন এক দিক দিয়েছে। হামাসের এক বৈঠককে লক্ষ্য করে চালানো এই হামলা শুধু একটি গোষ্ঠীর বিরুদ্ধেই নয়, বরং গোটা আরব বিশ্বের প্রতি প্রকাশ্য এক হুমকি হিসেবেই দেখা হচ্ছে।
এই ঘটনার পরপরই আরব বিশ্বের বড় ছয় দেশ—বাহরাইন, কুয়েত, ওমান, কাতার, সৌদি আরব এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত জরুরি বৈঠকে বসে। সেখানে ইসরায়েলের আগ্রাসনের মোকাবেলায় একটি যৌথ প্রতিরক্ষা কাঠামো গড়ার বিষয়ে আলোচনা হয়।
এই প্রেক্ষাপটে পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, জাতিসংঘের বাইরে যদি কোনো কার্যকর প্রতিরক্ষা জোট গড়ে তোলা হয়, তাহলে পাকিস্তান তাতে ইতিবাচকভাবে অংশ নিতে প্রস্তুত। তিনি জানান, পাকিস্তানের শক্তিশালী ও সুসজ্জিত সেনাবাহিনী রয়েছে, যা প্রচলিত যুদ্ধে কার্যকর প্রমাণিত হয়েছে।
ইসহাক দার বলেন, এই ধরনের বহুজাতিক প্রতিরক্ষা গোষ্ঠী গঠিত হলে সেটি যেন আক্রমণের জন্য নয়, বরং শান্তি রক্ষা, আগ্রাসন প্রতিরোধ ও দখলদারিত্ব ঠেকাতে ব্যবহৃত হয়। পাশাপাশি, তিনি কঠোর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞার বিষয়েও আলোকপাত করেন, যা এমন রাষ্ট্রগুলোর বিরুদ্ধে প্রয়োগ করা যেতে পারে যারা আন্তর্জাতিক নীতিমালা উপেক্ষা করে।
পারমাণবিক শক্তিধর দেশ হিসেবে পাকিস্তানের অবস্থান প্রসঙ্গে দার জানান, পাকিস্তান উম্মাহর দায়িত্বশীল সদস্য হিসেবে কাজ করবে। পারমাণবিক অস্ত্র কেবল প্রতিরোধের মাধ্যম—এবং তা ব্যবহারের কোনো আগ্রহ নেই। তবে প্রচলিত সামরিক শক্তি দিয়েও প্রতিপক্ষকে মোকাবিলা করার সক্ষমতা পাকিস্তানের রয়েছে।
সাক্ষাৎকারে এক পর্যায়ে উপস্থাপক যখন ২০১১ সালের ওসামা বিন লাদেন হত্যাকাণ্ডের ঘটনা টেনে আনেন এবং প্রশ্ন করেন—পাকিস্তান কি অন্য কোনো বড় শক্তির হামলার ক্ষেত্রে একই প্রতিক্রিয়া দেখাবে? দার সাফ জানান, আঞ্চলিক অখণ্ডতায় হস্তক্ষেপ বরদাশত করা হবে না। যেকোনো রাষ্ট্র—ছোট বা বড়—আগ্রাসন চালালে জবাব দেওয়া হবে।
কাতারে ইসরায়েলি হামলাকে তিনি ‘অযৌক্তিক ও দস্যুতা’ বলে অভিহিত করেন এবং অভিযোগ করেন, ইসরায়েল একের পর এক দেশের বিরুদ্ধে আগ্রাসন চালালেও আন্তর্জাতিক আইন বা জাতিসংঘের প্রস্তাবগুলো কার্যকর হচ্ছে না। তাই তিনি বহুস্তর বিশিষ্ট আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার সংস্কারের প্রয়োজনীয়তার ওপর বারবার জোর দেন।
ইসহাক দার আরও বলেন, জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ গঠিত হয়েছিল শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য, কিন্তু বহু গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব বছরের পর বছর ধরে উপেক্ষিত রয়ে গেছে। গাজায় ইসরায়েলের দমন-পীড়ন কিংবা কাশ্মিরে ভারতের দখলদারিত্ব—এই পরিস্থিতিতে বর্তমান বৈশ্বিক ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তোলাই স্বাভাবিক।
গাজা সংকটের সমাধানে তিনি আলোচনার পথকেই বেশি গুরুত্ব দেন। তার মতে, সময় লাগলেও আন্তরিক আলোচনার মাধ্যমে সমাধান সম্ভব। কিন্তু কোনো পক্ষ যদি গোপন ও অসৎ উদ্দেশ্য নিয়ে এগোয়, তাহলে স্থায়ী শান্তি আসবে না।
শেষে দার আবারও স্পষ্ট করেন—পাকিস্তান শান্তিপূর্ণ অবস্থান বজায় রাখতে চায় এবং পারমাণবিক ক্ষমতা থাকলেও তা দিয়ে অঞ্চলকে অস্থিতিশীল করতে চায় না। তবে, যদি আন্তর্জাতিক কাঠামো ব্যর্থ হয়, তাহলে বিকল্প ব্যবস্থা বা প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার প্রয়োজন হতে পারে।
সূত্র: ডন
বঙ্গচিত্র ডেস্ক 









