Dhaka ০৭:১৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৫ অগাস্ট ২০২৬, ২১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
রেট গ্যাপ ও ব্যাংকিং ঝামেলায় মিরসরাইয়ে হুন্ডিমুখী প্রবাসী পরিবার শীতে সবজির জোগান থাকলেও কমছে না দাম রংপুরে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের ওপর মূল্যস্ফীতির প্রভাব রংপুরে এলপিজি সংকট, সরকার নির্ধারিত দামের বাইরে বিক্রি হচ্ছে সিলিন্ডার খরচের চাপে ভাঙছে ক্ষুদ্র ব্যবসা ডলার সংকটে স্থবির আমদানি-রপ্তানি, বাড়ছে উৎপাদন ব্যয় ও মুল্যস্ফীতির চাপ নিত্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধিতে বিপর্যস্ত শিক্ষার্থীদের জীবন, বাড়ছে অনিশ্চয়তা ‘দেরি হওয়ার আগেই চুক্তি করো’, কিউবাকে ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি ইরানে বিক্ষোভ ঘিরে ব্যাপক সহিংসতা: নিহত ১০৯ নিরাপত্তা সদস্য নির্বাচন অবাধ ও উৎসবমুখর হবে: ইইউ প্রতিনিধিদলকে প্রধান উপদেষ্টা
বিজ্ঞাপন:
আপনাদের ভালোবাসা ও আস্থার সাথে এগিয়ে চলছে দৈনিক বঙ্গচিত্র। দেশের প্রতিটি প্রান্তের খবর, রাজনীতি, অর্থনীতি, সমাজ, সংস্কৃতি, শিক্ষা, খেলাধুলা ও বিনোদনসহ সকল গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ আমরা আপনাদের কাছে পৌঁছে দিতে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ।

মোহাম্মদপুরে মা–মেয়ে হত্যা: গৃহকর্মীকেই প্রধান সন্দেহভাজন বলছে পুলিশ

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৬:৫৩:২২ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৫ ডিসেম্বর ২০২৫
  • ২০০ Time View

রাজধানীর মোহাম্মদপুরে নিজ বাসায় মা–মেয়েকে হত্যার ঘটনায় গৃহকর্মীর কাজ করা এক নারীকে প্রধান সন্দেহভাজন হিসেবে দেখছে পুলিশ। তবে এখনো ওই নারীর পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।

তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, হত্যার চার দিন আগে থেকেই ওই নারী বাসায় কাজ শুরু করেন। প্রতিদিনই তিনি বোরকা পরে বা মুখ ঢেকে আসা–যাওয়া করতেন। ফলে সিসিটিভি ফুটেজেও তার মুখ দেখা যায়নি, এবং নিহত লায়লা আফরোজ ও তার মেয়ে ছাড়া আর কেউই তার চেহারা দেখেনি। এ কারণে তার নাম–পরিচয় সংগ্রহ করাও সম্ভব হয়নি।

হত্যাকাণ্ডের ঘটনার বিবরণ

সোমবার (৮ ডিসেম্বর) সকালে মোহাম্মদপুরের শাহজাহান রোডের একটি ভবনের সপ্তম তলার বাসায় ধারালো অস্ত্র দিয়ে হত্যা করা হয় লায়লা আফরোজ (৪৮) এবং তার মেয়ে নাফিসা নাওয়াল বিনতে আজিজ (১৫)–কে। ঘটনার সময় লায়লার স্বামী আজিজুল ইসলাম বাসায় ছিলেন না।

সন্ধ্যায় আজিজুল ইসলাম অজ্ঞাত নারী গৃহকর্মীকে একমাত্র আসামি করে মোহাম্মদপুর থানায় মামলা করেন। পরে ঘটনাস্থল থেকে ভবনের এক নিরাপত্তাকর্মীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করে পুলিশ।

গৃহকর্মীর পরিচয়হীনতা তদন্তে বাধা

মোহাম্মদপুর থানার ওসি মেজবাহ উদ্দিন জানান, নিরাপত্তাকর্মীর মাধ্যমে গৃহকর্মীটি কাজ পেয়েছিলেন।

নিরাপত্তাকর্মী বলেছেন—

চার দিন আগে ওই নারী কাজের খোঁজে এসে উপস্থিত হন

তিনি বোরকা পরে আসতেন, মুখখোলা কখনো দেখা যায়নি। তার সঙ্গে নিরাপত্তাকর্মীর কোনো আগের পরিচয়ও ছিল না

নিহতদের স্বজনরাও নিশ্চিত করেছেন, গৃহকর্মীটি পরিচয় ও মোবাইল নম্বর দিতে গড়িমসি করতেন।

আজিজুল ইসলাম জানান, সকাল ৭টার দিকে তিনি উত্তরা কর্মস্থলে যান। পরে স্ত্রীকে ফোনে না পেয়ে উদ্বিগ্ন হন। বেলা ১১টার দিকে বাসায় ফিরে দেখেন—

লায়লা আফরোজ রক্তাক্ত অবস্থায় পড়েছিলেন মেয়ে নাফিসা বাসার ফটকে গুরুতর আহত অবস্থায় ছিল দ্রুত হাসপাতালে নিলে তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়

মামলায় তিনি উল্লেখ করেন, সকাল ৭টা ৫১ মিনিটে গৃহকর্মী বাসায় ঢোকে এবং ৯টা ৩৫ মিনিটে নাফিসার স্কুলড্রেস পরে বাসা থেকে বের হয়ে যায়। সঙ্গে নিয়ে যায় মোবাইল ফোন, ল্যাপটপ, স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকা।

তদন্তে পুলিশের বক্তব্য

ডিএমপির তেজগাঁও বিভাগের উপকমিশনার ইবনে মিজান জানান, গৃহকর্মীর পরিচয় শনাক্তে তথ্য সংগ্রহের কাজ চলছে। এখনো উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়নি, তবে তদন্ত অব্যাহত আছে।

মঙ্গলবার নাটোরে মা–মেয়েকে দাফন করা হয়। নবাব সিরাজ–উদ–দৌলা সরকারি কলেজ মাঠে জানাজা শেষে তাদের দাফন করা হয়। মরদেহ এলাকায় পৌঁছালে স্বজন–প্রতিবেশীরা একনজর দেখতে ভিড় করেন। স্বজনরা দ্রুত আসামিকে গ্রেপ্তার ও কঠোর শাস্তির দাবি জানান।

Popular Post

রেট গ্যাপ ও ব্যাংকিং ঝামেলায় মিরসরাইয়ে হুন্ডিমুখী প্রবাসী পরিবার

মোহাম্মদপুরে মা–মেয়ে হত্যা: গৃহকর্মীকেই প্রধান সন্দেহভাজন বলছে পুলিশ

Update Time : ০৬:৫৩:২২ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৫ ডিসেম্বর ২০২৫

রাজধানীর মোহাম্মদপুরে নিজ বাসায় মা–মেয়েকে হত্যার ঘটনায় গৃহকর্মীর কাজ করা এক নারীকে প্রধান সন্দেহভাজন হিসেবে দেখছে পুলিশ। তবে এখনো ওই নারীর পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।

তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, হত্যার চার দিন আগে থেকেই ওই নারী বাসায় কাজ শুরু করেন। প্রতিদিনই তিনি বোরকা পরে বা মুখ ঢেকে আসা–যাওয়া করতেন। ফলে সিসিটিভি ফুটেজেও তার মুখ দেখা যায়নি, এবং নিহত লায়লা আফরোজ ও তার মেয়ে ছাড়া আর কেউই তার চেহারা দেখেনি। এ কারণে তার নাম–পরিচয় সংগ্রহ করাও সম্ভব হয়নি।

হত্যাকাণ্ডের ঘটনার বিবরণ

সোমবার (৮ ডিসেম্বর) সকালে মোহাম্মদপুরের শাহজাহান রোডের একটি ভবনের সপ্তম তলার বাসায় ধারালো অস্ত্র দিয়ে হত্যা করা হয় লায়লা আফরোজ (৪৮) এবং তার মেয়ে নাফিসা নাওয়াল বিনতে আজিজ (১৫)–কে। ঘটনার সময় লায়লার স্বামী আজিজুল ইসলাম বাসায় ছিলেন না।

সন্ধ্যায় আজিজুল ইসলাম অজ্ঞাত নারী গৃহকর্মীকে একমাত্র আসামি করে মোহাম্মদপুর থানায় মামলা করেন। পরে ঘটনাস্থল থেকে ভবনের এক নিরাপত্তাকর্মীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করে পুলিশ।

গৃহকর্মীর পরিচয়হীনতা তদন্তে বাধা

মোহাম্মদপুর থানার ওসি মেজবাহ উদ্দিন জানান, নিরাপত্তাকর্মীর মাধ্যমে গৃহকর্মীটি কাজ পেয়েছিলেন।

নিরাপত্তাকর্মী বলেছেন—

চার দিন আগে ওই নারী কাজের খোঁজে এসে উপস্থিত হন

তিনি বোরকা পরে আসতেন, মুখখোলা কখনো দেখা যায়নি। তার সঙ্গে নিরাপত্তাকর্মীর কোনো আগের পরিচয়ও ছিল না

নিহতদের স্বজনরাও নিশ্চিত করেছেন, গৃহকর্মীটি পরিচয় ও মোবাইল নম্বর দিতে গড়িমসি করতেন।

আজিজুল ইসলাম জানান, সকাল ৭টার দিকে তিনি উত্তরা কর্মস্থলে যান। পরে স্ত্রীকে ফোনে না পেয়ে উদ্বিগ্ন হন। বেলা ১১টার দিকে বাসায় ফিরে দেখেন—

লায়লা আফরোজ রক্তাক্ত অবস্থায় পড়েছিলেন মেয়ে নাফিসা বাসার ফটকে গুরুতর আহত অবস্থায় ছিল দ্রুত হাসপাতালে নিলে তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়

মামলায় তিনি উল্লেখ করেন, সকাল ৭টা ৫১ মিনিটে গৃহকর্মী বাসায় ঢোকে এবং ৯টা ৩৫ মিনিটে নাফিসার স্কুলড্রেস পরে বাসা থেকে বের হয়ে যায়। সঙ্গে নিয়ে যায় মোবাইল ফোন, ল্যাপটপ, স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকা।

তদন্তে পুলিশের বক্তব্য

ডিএমপির তেজগাঁও বিভাগের উপকমিশনার ইবনে মিজান জানান, গৃহকর্মীর পরিচয় শনাক্তে তথ্য সংগ্রহের কাজ চলছে। এখনো উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়নি, তবে তদন্ত অব্যাহত আছে।

মঙ্গলবার নাটোরে মা–মেয়েকে দাফন করা হয়। নবাব সিরাজ–উদ–দৌলা সরকারি কলেজ মাঠে জানাজা শেষে তাদের দাফন করা হয়। মরদেহ এলাকায় পৌঁছালে স্বজন–প্রতিবেশীরা একনজর দেখতে ভিড় করেন। স্বজনরা দ্রুত আসামিকে গ্রেপ্তার ও কঠোর শাস্তির দাবি জানান।