Dhaka ০১:৫৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬, ৭ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
রেট গ্যাপ ও ব্যাংকিং ঝামেলায় মিরসরাইয়ে হুন্ডিমুখী প্রবাসী পরিবার শীতে সবজির জোগান থাকলেও কমছে না দাম রংপুরে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের ওপর মূল্যস্ফীতির প্রভাব রংপুরে এলপিজি সংকট, সরকার নির্ধারিত দামের বাইরে বিক্রি হচ্ছে সিলিন্ডার খরচের চাপে ভাঙছে ক্ষুদ্র ব্যবসা ডলার সংকটে স্থবির আমদানি-রপ্তানি, বাড়ছে উৎপাদন ব্যয় ও মুল্যস্ফীতির চাপ নিত্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধিতে বিপর্যস্ত শিক্ষার্থীদের জীবন, বাড়ছে অনিশ্চয়তা ‘দেরি হওয়ার আগেই চুক্তি করো’, কিউবাকে ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি ইরানে বিক্ষোভ ঘিরে ব্যাপক সহিংসতা: নিহত ১০৯ নিরাপত্তা সদস্য নির্বাচন অবাধ ও উৎসবমুখর হবে: ইইউ প্রতিনিধিদলকে প্রধান উপদেষ্টা
বিজ্ঞাপন:
আপনাদের ভালোবাসা ও আস্থার সাথে এগিয়ে চলছে দৈনিক বঙ্গচিত্র। দেশের প্রতিটি প্রান্তের খবর, রাজনীতি, অর্থনীতি, সমাজ, সংস্কৃতি, শিক্ষা, খেলাধুলা ও বিনোদনসহ সকল গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ আমরা আপনাদের কাছে পৌঁছে দিতে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ।

সংকটে বিএনপির রক্ষাকবচ তারেক রহমানের ‘তৃণমূল রাজনীতি’: ফিরে দেখা এক দশকের লড়াই

  • Reporter Name
  • Update Time : ০১:৪৩:৫১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৫ ডিসেম্বর ২০২৫
  • ১৬৪ Time View

বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে দীর্ঘ দেড় দশক ধরে দমন-পীড়ন, মামলা এবং প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও বিএনপি একটি শক্তিশালী রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে টিকে আছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও দলটির তৃণমূল নেতাকর্মীদের মতে, এই দীর্ঘ লড়াইয়ে দলটিকে ঐক্যবদ্ধ রাখার প্রধান কারিগর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। বিশেষ করে তৃণমূলের সঙ্গে তার নিবিড় ও সরাসরি যোগাযোগই বিএনপিকে ভাঙনের হাত থেকে রক্ষা করেছে।

তৃণমূল রাজনীতির ভিত্তিকাল (২০০১-২০০৬)

তারেক রহমানের রাজনীতির সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য অধ্যায় ছিল ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল। এই সময়ে তিনি দেশের ৬৪টি জেলাকে ২০টি সেক্টরে ভাগ করে তৃণমূল সম্মেলন আয়োজন করেন। তার এই উদ্যোগের বিশেষত্ব ছিল কৃষক, শ্রমিক ও প্রান্তিক মানুষের কথা সরাসরি শোনা।

* ৮০টি সুপারিশমালা: জনগণের সমস্যার ভিত্তিতে তৈরি করা প্রায় ৮০টি সুপারিশ তিনি তৎকালীন সরকারের কাছে জমা দেন।

* মানচিত্র তৈরি: উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের অংশ হিসেবে তিনি নিজ হাতে দেশের নদ-নদী ও খালের মানচিত্র তৈরির উদ্যোগ নিয়েছিলেন।

২০০৬ পরবর্তী সময়ে বেগম খালেদা জিয়ার বন্দিত্ব এবং তারেক রহমানের প্রবাস জীবনে দলের ওপর বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি হয়। কিন্তু বিদেশে থেকেও ডিজিটাল প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহারের মাধ্যমে তিনি প্রতিটি উপজেলা ও এমনকি ইউনিয়ন পর্যায়ের নেতাদের সাথেও সংযোগ রক্ষা করেছেন।

যশোর সদর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আঞ্জারুল হক খোকন বলেন, “ভার্চুয়াল বৈঠকগুলো আমাদের কাছে বাস্তব উপস্থিতির মতোই মনে হতো। প্রতিকূল সময়ে তার দিকনির্দেশনাই কর্মীদের মনোবল চাঙ্গা রেখেছে।”

তারেক রহমানের নেতৃত্বের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো সাধারণ কর্মীদের নাম মনে রাখা এবং তাদের কাজের স্বীকৃতি দেওয়া। বগুড়া আজিজুল হক কলেজ ছাত্রদল নেতা অর্কের একটি অভিজ্ঞতা এর বড় প্রমাণ। অর্ক জানান, আন্দোলনের সময় তার সাহসিকতার জন্য ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তাকে ব্যক্তিগতভাবে চিনেছেন এবং নাম মনে রেখেছেন। একজন সাধারণ কর্মীর জন্য শীর্ষ নেতার এমন সান্নিধ্য দলকে সুসংহত রাখার বড় শক্তি হিসেবে কাজ করেছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মো. সিদ্দিকুর রহমান খানের মতে, ১৯৮১ সালে জিয়াউর রহমানের শাহাদাতের পর বিএনপি যেমন সংকটে পড়েছিল, ২০০৬ সালের পর তার চেয়েও বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছিল।

তার মতে:

* জিয়াউর রহমানের উত্তরাধিকার: পিতার রাজনৈতিক আদর্শকে ধারণ করা।

* মাঠপর্যায়ের অভিজ্ঞতা: ২০০১-২০০৬ এর সাংগঠনিক সফরগুলো তাকে তৃণমূলের নাড়ি বুঝতে সাহায্য করেছে।

* কৌশলী নেতৃত্ব: লাখ লাখ মামলা ও নির্যাতনের মুখেও দল না ভাঙার মূল কারণ হলো কর্মীদের সাথে শীর্ষ নেতৃত্বের অবিচ্ছিন্ন যোগাযোগ।

আগামী ২৫ ডিসেম্বর তারেক রহমানের দীর্ঘ প্রতীক্ষিত স্বদেশ প্রত্যাবর্তন হতে যাচ্ছে। তৃণমূল নেতাকর্মীদের প্রত্যাশা, ভার্চুয়াল নেতৃত্বের অধ্যায় শেষ করে সরাসরি নেতৃত্বের মাধ্যমে অভ্যন্তরীণ ছোটখাটো বিভেদ দূর হবে এবং আগামী নির্বাচনে বিএনপি এক নতুন শক্তিতে আবির্ভূত হবে।

Popular Post

রেট গ্যাপ ও ব্যাংকিং ঝামেলায় মিরসরাইয়ে হুন্ডিমুখী প্রবাসী পরিবার

সংকটে বিএনপির রক্ষাকবচ তারেক রহমানের ‘তৃণমূল রাজনীতি’: ফিরে দেখা এক দশকের লড়াই

Update Time : ০১:৪৩:৫১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৫ ডিসেম্বর ২০২৫

বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে দীর্ঘ দেড় দশক ধরে দমন-পীড়ন, মামলা এবং প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও বিএনপি একটি শক্তিশালী রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে টিকে আছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও দলটির তৃণমূল নেতাকর্মীদের মতে, এই দীর্ঘ লড়াইয়ে দলটিকে ঐক্যবদ্ধ রাখার প্রধান কারিগর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। বিশেষ করে তৃণমূলের সঙ্গে তার নিবিড় ও সরাসরি যোগাযোগই বিএনপিকে ভাঙনের হাত থেকে রক্ষা করেছে।

তৃণমূল রাজনীতির ভিত্তিকাল (২০০১-২০০৬)

তারেক রহমানের রাজনীতির সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য অধ্যায় ছিল ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল। এই সময়ে তিনি দেশের ৬৪টি জেলাকে ২০টি সেক্টরে ভাগ করে তৃণমূল সম্মেলন আয়োজন করেন। তার এই উদ্যোগের বিশেষত্ব ছিল কৃষক, শ্রমিক ও প্রান্তিক মানুষের কথা সরাসরি শোনা।

* ৮০টি সুপারিশমালা: জনগণের সমস্যার ভিত্তিতে তৈরি করা প্রায় ৮০টি সুপারিশ তিনি তৎকালীন সরকারের কাছে জমা দেন।

* মানচিত্র তৈরি: উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের অংশ হিসেবে তিনি নিজ হাতে দেশের নদ-নদী ও খালের মানচিত্র তৈরির উদ্যোগ নিয়েছিলেন।

২০০৬ পরবর্তী সময়ে বেগম খালেদা জিয়ার বন্দিত্ব এবং তারেক রহমানের প্রবাস জীবনে দলের ওপর বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি হয়। কিন্তু বিদেশে থেকেও ডিজিটাল প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহারের মাধ্যমে তিনি প্রতিটি উপজেলা ও এমনকি ইউনিয়ন পর্যায়ের নেতাদের সাথেও সংযোগ রক্ষা করেছেন।

যশোর সদর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আঞ্জারুল হক খোকন বলেন, “ভার্চুয়াল বৈঠকগুলো আমাদের কাছে বাস্তব উপস্থিতির মতোই মনে হতো। প্রতিকূল সময়ে তার দিকনির্দেশনাই কর্মীদের মনোবল চাঙ্গা রেখেছে।”

তারেক রহমানের নেতৃত্বের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো সাধারণ কর্মীদের নাম মনে রাখা এবং তাদের কাজের স্বীকৃতি দেওয়া। বগুড়া আজিজুল হক কলেজ ছাত্রদল নেতা অর্কের একটি অভিজ্ঞতা এর বড় প্রমাণ। অর্ক জানান, আন্দোলনের সময় তার সাহসিকতার জন্য ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তাকে ব্যক্তিগতভাবে চিনেছেন এবং নাম মনে রেখেছেন। একজন সাধারণ কর্মীর জন্য শীর্ষ নেতার এমন সান্নিধ্য দলকে সুসংহত রাখার বড় শক্তি হিসেবে কাজ করেছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মো. সিদ্দিকুর রহমান খানের মতে, ১৯৮১ সালে জিয়াউর রহমানের শাহাদাতের পর বিএনপি যেমন সংকটে পড়েছিল, ২০০৬ সালের পর তার চেয়েও বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছিল।

তার মতে:

* জিয়াউর রহমানের উত্তরাধিকার: পিতার রাজনৈতিক আদর্শকে ধারণ করা।

* মাঠপর্যায়ের অভিজ্ঞতা: ২০০১-২০০৬ এর সাংগঠনিক সফরগুলো তাকে তৃণমূলের নাড়ি বুঝতে সাহায্য করেছে।

* কৌশলী নেতৃত্ব: লাখ লাখ মামলা ও নির্যাতনের মুখেও দল না ভাঙার মূল কারণ হলো কর্মীদের সাথে শীর্ষ নেতৃত্বের অবিচ্ছিন্ন যোগাযোগ।

আগামী ২৫ ডিসেম্বর তারেক রহমানের দীর্ঘ প্রতীক্ষিত স্বদেশ প্রত্যাবর্তন হতে যাচ্ছে। তৃণমূল নেতাকর্মীদের প্রত্যাশা, ভার্চুয়াল নেতৃত্বের অধ্যায় শেষ করে সরাসরি নেতৃত্বের মাধ্যমে অভ্যন্তরীণ ছোটখাটো বিভেদ দূর হবে এবং আগামী নির্বাচনে বিএনপি এক নতুন শক্তিতে আবির্ভূত হবে।