
||বিএন আহাম্মেদ || ঢাকার সাত সরকারি কলেজের জন্য প্রস্তাবিত নতুন বিশ্ববিদ্যালয়ের কাঠামোর বিরোধিতা করেছে ‘বৈষম্যবিরোধী অবসরপ্রাপ্ত ২৫ ক্যাডার সমন্বয় পরিষদ’। সংগঠনটি বলছে, এসব কলেজের জন্য একটি অধিভুক্তমূলক বিশ্ববিদ্যালয় (জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো) গঠন করলেই সংকটের সমাধান সম্ভব। তারা মনে করে, শিক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতামত ও অংশীজনদের পরামর্শ নিয়ে সরকারকে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।
শনিবার (২৫ অক্টোবর) রাজধানীর সেগুনবাগিচায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটির নেতারা এসব দাবি জানান। সংবাদ সম্মেলনে সাত কলেজের সংকট ছাড়াও আন্তঃক্যাডার বৈষম্য, ভূতাপেক্ষ পদোন্নতি এবং জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়নের দাবিও তোলা হয়।
পরিষদের সমন্বয়ক আহমেদ আলী চৌধুরী ইকবাল লিখিত বক্তব্যে বলেন, সাত কলেজ নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় মূল অংশীজনদের মতামত উপেক্ষা করা হয়েছে। এতে শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিভক্তি তৈরি হয়েছে— কেউ নতুন বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষে, কেউ বিপক্ষে। তিনি অভিযোগ করেন, একটি মহল শিক্ষার্থীদের বিভ্রান্ত করে শিক্ষকদের বিরুদ্ধে উস্কে দিচ্ছে, যা দুঃখজনক।
ঢাকা কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ আই কে সেলিম উল্লাহ খোন্দকার বলেন, “সাত কলেজের ঐতিহ্য ও মান রক্ষায় একটি অধিভুক্তমূলক বিশ্ববিদ্যালয় গঠন করা উচিত। পাশাপাশি এসব কলেজে মেধাবী শিক্ষক নিয়োগ এবং আর্থিক স্বাধীনতা দিলে শিক্ষার মান আরও বাড়বে।”
সংগঠনটি আরও জানায়, প্রশাসন ক্যাডারের অবসরপ্রাপ্ত প্রায় ৭৭৮ জন কর্মকর্তা ভূতাপেক্ষ পদোন্নতি পেয়েছেন, কিন্তু অন্য ২৫ ক্যাডারের মাত্র ৭২ জন এ সুবিধা পেয়েছেন। তারা অবশিষ্ট কর্মকর্তাদেরও একইভাবে আর্থিক ও পদোন্নতির সুবিধা দেওয়ার দাবি জানায়।
বৈষম্যবিরোধী অবসরপ্রাপ্ত ২৫ ক্যাডার পরিষদ সরকারের কাছে জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশনের গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশগুলো বাস্তবায়ন এবং এ বিষয়ে দ্রুত অধ্যাদেশ জারির আহ্বান জানায়।
উল্লেখ্য, ২০১৭ সালে সাত কলেজকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত করা হয়। তবে পরবর্তীতে পরীক্ষা ও ফল প্রকাশে নানা সমস্যায় শিক্ষার্থীরা একাধিকবার আন্দোলন করেছে। এসব পরিস্থিতির পর সরকার সাত কলেজের জন্য নতুন বিশ্ববিদ্যালয় গঠনের সিদ্ধান্ত নেয়, যা নিয়ে বর্তমানে বিতর্ক চলছে।
বিএন আহাম্মেদ 











