
সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য ধ্বংসে বিষ চক্রের থাবা
শামুক পাচারে নতুন আতঙ্ক, নদী-খালের প্রতিবেশব্যবস্থা হুমকির মুখে
জহিরুল ইসলাম বুড়িগোয়ালিনী (শ্যামনগর) প্রতিনিধি;
বিশ্বের সর্ববৃহৎ ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবন নানা সংকটের মুখোমুখি। বনজীবন, মৎস্য সম্পদ ও পরিবেশ ধ্বংসের জন্য নতুন করে আতঙ্ক তৈরি করেছে শামুক পাচার। স্থানীয়ভাবে সংগৃহীত বিভিন্ন প্রজাতির শামুক পাচার হয়ে যাচ্ছে। এতে একদিকে জীববৈচিত্র্যের উপর বিরূপ প্রভাব পড়ছে, অন্যদিকে নদী-খালের প্রতিবেশব্যবস্থা ধ্বংসের শঙ্কা তৈরি হয়েছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, সাতক্ষীরা জেলার শ্যামনগর উপজেলা সুন্দরবনবর্তি এলাকা থেকে,সুন্দরবনের নদী ও খালে শামুকের চাহিদা বাড়ায় সংঘবদ্ধ পাচার চক্র রাতের আঁধারে শামুক আহরণ করছে। পরে এসব শামুক পাচার করা হচ্ছে। পাচারকারীরা মূলত শামুকের খোলস ও মাংস ব্যবহার করছে বিভিন্ন শিল্প ও খাদ্যপণ্য উৎপাদনে। এতে দ্রুত হ্রাস পাচ্ছে শামুকের সংখ্যা, যা মাছ, পাখি ও অন্যান্য জলজ প্রাণীর খাদ্য শৃঙ্খলে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে।
পরিবেশবিদরা বলছেন, শামুক পানির দূষণ শোষণ করে এবং ছোট মাছ ও পাখির খাদ্য হিসেবে কাজ করে। কিন্তু অতিরিক্ত শামুক আহরণ ও পাচার হলে সুন্দরবনের প্রাকৃতিক ভারসাম্য ভেঙে পড়বে।
স্থানীয় জেলেরা অভিযোগ করে বলেন, পাচারকারীরা দরিদ্র মানুষদের প্রলোভন দেখিয়ে শামুক সংগ্রহে যুক্ত করছে। এতে বন আইন ভাঙা হচ্ছে এবং ভবিষ্যতে জীবিকা হারানোর ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে।
বন বিভাগ জানিয়েছে, শামুক পাচার রোধে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। সুন্দরবন সংলগ্ন এলাকায়।
পরিবেশ কর্মীদের দাবি, সুন্দরবন রক্ষায় অবৈধ পাচার চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। পাশাপাশি স্থানীয়দের বিকল্প জীবিকার সুযোগ তৈরি না করলে শামুক নিধন ঠেকানো সম্ভব হবে না।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এখনই পদক্ষেপ না নিলে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সুন্দরবন কেবল ইতিহাসের অংশ হয়ে যাবে।
Reporter Name 











