Dhaka ০৭:১৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ১১ মে ২০২৬, ২৮ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
রেট গ্যাপ ও ব্যাংকিং ঝামেলায় মিরসরাইয়ে হুন্ডিমুখী প্রবাসী পরিবার শীতে সবজির জোগান থাকলেও কমছে না দাম রংপুরে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের ওপর মূল্যস্ফীতির প্রভাব রংপুরে এলপিজি সংকট, সরকার নির্ধারিত দামের বাইরে বিক্রি হচ্ছে সিলিন্ডার খরচের চাপে ভাঙছে ক্ষুদ্র ব্যবসা ডলার সংকটে স্থবির আমদানি-রপ্তানি, বাড়ছে উৎপাদন ব্যয় ও মুল্যস্ফীতির চাপ নিত্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধিতে বিপর্যস্ত শিক্ষার্থীদের জীবন, বাড়ছে অনিশ্চয়তা ‘দেরি হওয়ার আগেই চুক্তি করো’, কিউবাকে ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি ইরানে বিক্ষোভ ঘিরে ব্যাপক সহিংসতা: নিহত ১০৯ নিরাপত্তা সদস্য নির্বাচন অবাধ ও উৎসবমুখর হবে: ইইউ প্রতিনিধিদলকে প্রধান উপদেষ্টা
বিজ্ঞাপন:
আপনাদের ভালোবাসা ও আস্থার সাথে এগিয়ে চলছে দৈনিক বঙ্গচিত্র। দেশের প্রতিটি প্রান্তের খবর, রাজনীতি, অর্থনীতি, সমাজ, সংস্কৃতি, শিক্ষা, খেলাধুলা ও বিনোদনসহ সকল গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ আমরা আপনাদের কাছে পৌঁছে দিতে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ।

FPTP নাকি PR? জবাব দেবে খোদ সংবিধান

  • Reporter Name
  • Update Time : ১২:০৩:০২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৫
  • ১৩২২ Time View

 

সম্প্রতি বিভিন্ন টকশো, মিডিয়া, প্রেস-কনফারেন্স এ একটাই শোরগোল, একটাই মূল ডিবেটের যায়গা সেটা হলো ভোট কোন পদ্ধতি তে হবে? PR এ হবে নাকি FPTP তে হবে? অনেক বিজ্ঞ আইনজীবী সহ, অন্যান্য সেক্টরের বিজ্ঞ ব্যক্তিবর্গ Argue করছে এমনকি বর্তমান প্রভাবশালী একটা দলের প্রধানদের মধ্যে থেকে একজন মন্তব্য করেছেন যে, সংবিধান-এ ভোটের কথা উল্লেখ্য আছে কিন্তু কোন পদ্ধতি তে হবে সেটা বলা নাই। এক্ষেত্রে এই বিষয় এর সমাধান সংবিধান নিজে-ই দিতে সক্ষম।

প্রথমত জাতীয় সংসদ এবং ইলেকশন কমিশন নিয়ে বলা হয়েছে বাংলাদেশ সংবিধান যথাক্রমে এর পঞ্চম ভাগের পরিচ্ছেদ-১ এর অনুচ্ছেদ ৬৫-৭৯এবং সপ্তম ভাগে অনুচ্ছেদ ১১৮-১২৬। এই কয়টা অনুচ্ছেদ ভালোমত লক্ষ্য করলে বোঝা যায় যে বাংলাদেশ এর সংবিধান কোন ধরণের ইলেকশনের সিস্টেমের উপর নির্ভর করে লিখা হয়েছে। আমি এখান এই অনুচ্ছেদ গুলোর গুরুত্বপূর্ণ অংশ গুলো নিচে হুবুহু তুলে ধরছি এবং প্রয়োজনানুরূপ ব্যাখ্যা প্রদান করার চেষ্টা করছি।
আমরা মোটা দাগে জানি যে, PR পদ্ধতিতে দল নির্বাচিত হয়, আর FPTP পদ্ধতিতে নির্বাচিত হয় ব্যক্তি, সে যেকোনো দলের হতে পারে দল এখানে মূখ্য বিষয় নয়।

সংবিধানের,
অনুচ্ছেদ ৬৫(৩) এর শেষের দিকে বলা হয়েছে যে, “there shall be reserved fifty seats exclusively for women members and they will be elected by the aforesaid members in accordance with law on the basis of procedure of proportional representation (PR) in the parliament through single transferable vote:”
এই একই উপ-অনুচ্ছেদ এর Proviso clause বলছে যে, “nothing in this clause shall be deemed to prevent a woman from being elected to any of the seats provided in clause 2 of this article.” পাঠকদের জ্ঞাতার্থে বলে রাখি এই উপ-অনুচ্ছেদ ২- বলা আছে যে, সংসদে ৩০০ জন সংসদ সদস্য থাকবে যারা Direct election এর মাধ্যমে নির্বাচিত হবে। এর দ্বারা এইটা নিশ্চিত ভাবে বলা যায় যে আমাদের সংবিধান যারা ফ্রেম করেছে এবং পরবর্তী তে নানা ধরনের এমেন্ড করেছে তারা সবাই PR পদ্ধতি সম্পর্কে অবগত। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে যখন আমরা উপরে উল্লেখিত অনুচ্ছেদের অংশ বিশেষ এর দিকে ভালোভেব নজর দিবো তখন দেখতে পারবো যে, মহিলাদের জন্য ৫০ টা আসন PR পদ্ধতি তে রাখা হয়েছে, কিন্তু এর বাইরে যেয়েও তারা গতাণুগতিক পদ্ধতি তে ইলেকশন করতে পারবে। তো প্রশ্ন থাকে এই গতানুগতিক পদ্ধতি টা কি? এই প্রশ্নের একটা সহজ উত্তর হলো এই গতানুগতিক পদ্ধতিটাই হলো FPTP পদ্ধতি যেটা আমাদের সংবিধানে Implied ভাবে সন্নিবেশিত রয়েছে।
এছাড়াও অনুচ্ছেদ ৭১(২) এ বলা হয়েছে, “Nothing in clause (1) shall prevent a person from being at the same time a candidate for two or more constituencies, but……………………….” এই অনুচ্ছদের এই অংশে উল্লেখ্য করা হয়েছে যে একজন ব্যক্তি চাইলে একের অধিক আসনে প্রার্থী হতে পারবে। তো এখানেও PR পদ্ধতি অবলম্বনের কোনো রেশ লক্ষ্য করা যায় না৷

এবার আমাদের ইলেকশন রিলেটেড অনুচ্ছেদ ১২৩ এ নজর দেওয়া যাক। অনুচ্ছেদ ১২৩(২) এর proviso clause এ বলা হয়েছে যে, “the person elected at a general election…….” এখানেও ব্যক্তি ইলেকশন এর কথাই উল্লেখ্য হয়েছে। কোথাও দল বা সংগঠন এর কথা Implied ভাবেও উল্লেখ্য করা হয় নাই বিধায় বুঝা যায় যে the intention of the framers of our constitution was to held our elections by following FPTP system. পূর্বের অনুচ্ছেদ ৬৫(৩) এর আলোচনা থেকেই বোঝা গেসে যে PR পদ্ধতির ইলেকশন ব্যাবস্থার কথা আমাদের সংবিধানে উল্লেখ্য আছে শুধু মহিলা আসনের জন্য এবং সেটা জনগণের প্রতক্ষ্য ভোটের মাধ্যমে নয়, এবং প্রধান ৩০০ আসনের জন্য implied ভাবেই প্রতিটা অনুচ্ছেদ-ই FPTP election system এর কথা মাথায় রেখে ফ্রেম করা হয়েছে। সেহেতু, “আমাদের সংবিধানে ইলেকশনের কথা বলা আছে কিন্তু কোন পদ্ধতিতে হবে সেটা বলা নাই”, এই কথা বলাটা অজ্ঞতার প্রকাশ এবং এর মাধ্যমে সংবিধান কে খুব narrow করে interpret করা হচ্ছে। Constitutinal Interpretation  এর ক্ষেত্রে আমাদের কিছু ক্ষেত্রে খুব সাবধানতা অবলম্বন করতে হয়। Prof.T. Bhattacharya তার লেখা বই The Interpretation of Statutes (7th Edn) এর ২৭১ নাম্বার পেজের শুরুতে লিখেছেন ইন্টারপ্রিটেশন এর সকল Principle সংবিধান ইন্টারপ্রেট করার ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য এবং সংবিধান এর ইন্টারপ্রিটেশন হবে wide and beneficial. তদানুযায়ী আমি আমার কথার সংশ্লিষ্টতা রক্ষার্থে ইন্টারপ্রিটেশন এর The Literal or Grammatical Rule এবং The Golden Rule এপ্লাই করছি; যেখানে বলা হয়েছে যে,
Literal Rule: The words of an enactment are to be given their ordinary and natural meaning, if its meaning is clear and unambiguous. এই principle টাকে সব থেকে safest principle of interpretation ও বলা হয়ে থাকে।
Golden Rule: (The Court) must find out the intention of the legislature from the words used in the statutes by giving them their natural meaning.”
এই দুইটা ব্যখ্যা ধরে যদি আমরা আগাই তাহলে দেখতে পারবো যে সংবিধান যারা ফ্রেম করেছে তারা FPTP পদ্ধতির কথা মাথায় রেখেই অনুচ্ছেদ গুলো লিপিবদ্ধ করেছেন। তারা সবগুলো রিলেটেড অনুচ্ছেদে “a person elected, the person elected”  ইত্যাদি ধরনের শব্দ ব্যবহার করেছে এবং যেইখানে প্রয়োজন মনে করেছে সেখানে সরাসরি PR এর কথা উল্লেখ্য করেছে। ফলে স্পষ্টত-ই বোঝা যায় সংবিধান রচয়িতাদের বা এর পরবর্তী তে যারা এই সংবিধান সংশোধন করেছে তাদের সবাই FPTP পদ্ধতির কথা মাথায় রেখেই সংবিধান রচনা এবং সংশোধন করেছেন।

যদি আমরা একটু পেছনে যেয়ে বাংলাদেশ ইলেকশনের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট এর দিকে তাকাই, তাহলে আমরা দেখবো, বাংলাদেশ তথা ভারতীয় উপ-মহাদেশ প্রায় ২০০ বছর ব্রিটিশ কলোনী ছিলো এবং সেখান থেকেই আধুনিক ইলেকশনের পদ্ধতি ভারতীয় উপমহাদেশ তথা পরবর্তী তে পাকিস্তান এবং এর পরে বাংলাদেশ স্বাধীন হওঅয়ার পর adapt করেছে। ব্রিটিশ-রা FPTP পদ্ধতি অনুসরণ করেই ইলেকশন করে। ইন্ডিয়া এবং পাকিস্তানের ইলেকশন পদ্ধতি-ও FPTP পদ্ধতি যেখানে সংখ্যাগরিষ্ঠ ব্যক্তি ইলেকশনে জয় লাভ করে।
অতএব এতক্ষণ এই সকল কিছু বলার পেছনের যেই উদ্দেশ্য সেটা আমি আমার মত করে চেষ্টা করেছি তুলে ধরার জন্য যে, আমাদের সংবিধানে expressly FPTP পদ্ধতির কথা বলা না থাকলেও impliedly বলা হয়েছে এবং ইলেকশন এবং সংসদ সম্পর্কীয়  অনুচ্ছেদ গুলো উক্ত প্রেক্ষাপটেই সন্নিবেশিত করা হয়েছে।

Popular Post

রেট গ্যাপ ও ব্যাংকিং ঝামেলায় মিরসরাইয়ে হুন্ডিমুখী প্রবাসী পরিবার

FPTP নাকি PR? জবাব দেবে খোদ সংবিধান

Update Time : ১২:০৩:০২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৫

 

সম্প্রতি বিভিন্ন টকশো, মিডিয়া, প্রেস-কনফারেন্স এ একটাই শোরগোল, একটাই মূল ডিবেটের যায়গা সেটা হলো ভোট কোন পদ্ধতি তে হবে? PR এ হবে নাকি FPTP তে হবে? অনেক বিজ্ঞ আইনজীবী সহ, অন্যান্য সেক্টরের বিজ্ঞ ব্যক্তিবর্গ Argue করছে এমনকি বর্তমান প্রভাবশালী একটা দলের প্রধানদের মধ্যে থেকে একজন মন্তব্য করেছেন যে, সংবিধান-এ ভোটের কথা উল্লেখ্য আছে কিন্তু কোন পদ্ধতি তে হবে সেটা বলা নাই। এক্ষেত্রে এই বিষয় এর সমাধান সংবিধান নিজে-ই দিতে সক্ষম।

প্রথমত জাতীয় সংসদ এবং ইলেকশন কমিশন নিয়ে বলা হয়েছে বাংলাদেশ সংবিধান যথাক্রমে এর পঞ্চম ভাগের পরিচ্ছেদ-১ এর অনুচ্ছেদ ৬৫-৭৯এবং সপ্তম ভাগে অনুচ্ছেদ ১১৮-১২৬। এই কয়টা অনুচ্ছেদ ভালোমত লক্ষ্য করলে বোঝা যায় যে বাংলাদেশ এর সংবিধান কোন ধরণের ইলেকশনের সিস্টেমের উপর নির্ভর করে লিখা হয়েছে। আমি এখান এই অনুচ্ছেদ গুলোর গুরুত্বপূর্ণ অংশ গুলো নিচে হুবুহু তুলে ধরছি এবং প্রয়োজনানুরূপ ব্যাখ্যা প্রদান করার চেষ্টা করছি।
আমরা মোটা দাগে জানি যে, PR পদ্ধতিতে দল নির্বাচিত হয়, আর FPTP পদ্ধতিতে নির্বাচিত হয় ব্যক্তি, সে যেকোনো দলের হতে পারে দল এখানে মূখ্য বিষয় নয়।

সংবিধানের,
অনুচ্ছেদ ৬৫(৩) এর শেষের দিকে বলা হয়েছে যে, “there shall be reserved fifty seats exclusively for women members and they will be elected by the aforesaid members in accordance with law on the basis of procedure of proportional representation (PR) in the parliament through single transferable vote:”
এই একই উপ-অনুচ্ছেদ এর Proviso clause বলছে যে, “nothing in this clause shall be deemed to prevent a woman from being elected to any of the seats provided in clause 2 of this article.” পাঠকদের জ্ঞাতার্থে বলে রাখি এই উপ-অনুচ্ছেদ ২- বলা আছে যে, সংসদে ৩০০ জন সংসদ সদস্য থাকবে যারা Direct election এর মাধ্যমে নির্বাচিত হবে। এর দ্বারা এইটা নিশ্চিত ভাবে বলা যায় যে আমাদের সংবিধান যারা ফ্রেম করেছে এবং পরবর্তী তে নানা ধরনের এমেন্ড করেছে তারা সবাই PR পদ্ধতি সম্পর্কে অবগত। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে যখন আমরা উপরে উল্লেখিত অনুচ্ছেদের অংশ বিশেষ এর দিকে ভালোভেব নজর দিবো তখন দেখতে পারবো যে, মহিলাদের জন্য ৫০ টা আসন PR পদ্ধতি তে রাখা হয়েছে, কিন্তু এর বাইরে যেয়েও তারা গতাণুগতিক পদ্ধতি তে ইলেকশন করতে পারবে। তো প্রশ্ন থাকে এই গতানুগতিক পদ্ধতি টা কি? এই প্রশ্নের একটা সহজ উত্তর হলো এই গতানুগতিক পদ্ধতিটাই হলো FPTP পদ্ধতি যেটা আমাদের সংবিধানে Implied ভাবে সন্নিবেশিত রয়েছে।
এছাড়াও অনুচ্ছেদ ৭১(২) এ বলা হয়েছে, “Nothing in clause (1) shall prevent a person from being at the same time a candidate for two or more constituencies, but……………………….” এই অনুচ্ছদের এই অংশে উল্লেখ্য করা হয়েছে যে একজন ব্যক্তি চাইলে একের অধিক আসনে প্রার্থী হতে পারবে। তো এখানেও PR পদ্ধতি অবলম্বনের কোনো রেশ লক্ষ্য করা যায় না৷

এবার আমাদের ইলেকশন রিলেটেড অনুচ্ছেদ ১২৩ এ নজর দেওয়া যাক। অনুচ্ছেদ ১২৩(২) এর proviso clause এ বলা হয়েছে যে, “the person elected at a general election…….” এখানেও ব্যক্তি ইলেকশন এর কথাই উল্লেখ্য হয়েছে। কোথাও দল বা সংগঠন এর কথা Implied ভাবেও উল্লেখ্য করা হয় নাই বিধায় বুঝা যায় যে the intention of the framers of our constitution was to held our elections by following FPTP system. পূর্বের অনুচ্ছেদ ৬৫(৩) এর আলোচনা থেকেই বোঝা গেসে যে PR পদ্ধতির ইলেকশন ব্যাবস্থার কথা আমাদের সংবিধানে উল্লেখ্য আছে শুধু মহিলা আসনের জন্য এবং সেটা জনগণের প্রতক্ষ্য ভোটের মাধ্যমে নয়, এবং প্রধান ৩০০ আসনের জন্য implied ভাবেই প্রতিটা অনুচ্ছেদ-ই FPTP election system এর কথা মাথায় রেখে ফ্রেম করা হয়েছে। সেহেতু, “আমাদের সংবিধানে ইলেকশনের কথা বলা আছে কিন্তু কোন পদ্ধতিতে হবে সেটা বলা নাই”, এই কথা বলাটা অজ্ঞতার প্রকাশ এবং এর মাধ্যমে সংবিধান কে খুব narrow করে interpret করা হচ্ছে। Constitutinal Interpretation  এর ক্ষেত্রে আমাদের কিছু ক্ষেত্রে খুব সাবধানতা অবলম্বন করতে হয়। Prof.T. Bhattacharya তার লেখা বই The Interpretation of Statutes (7th Edn) এর ২৭১ নাম্বার পেজের শুরুতে লিখেছেন ইন্টারপ্রিটেশন এর সকল Principle সংবিধান ইন্টারপ্রেট করার ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য এবং সংবিধান এর ইন্টারপ্রিটেশন হবে wide and beneficial. তদানুযায়ী আমি আমার কথার সংশ্লিষ্টতা রক্ষার্থে ইন্টারপ্রিটেশন এর The Literal or Grammatical Rule এবং The Golden Rule এপ্লাই করছি; যেখানে বলা হয়েছে যে,
Literal Rule: The words of an enactment are to be given their ordinary and natural meaning, if its meaning is clear and unambiguous. এই principle টাকে সব থেকে safest principle of interpretation ও বলা হয়ে থাকে।
Golden Rule: (The Court) must find out the intention of the legislature from the words used in the statutes by giving them their natural meaning.”
এই দুইটা ব্যখ্যা ধরে যদি আমরা আগাই তাহলে দেখতে পারবো যে সংবিধান যারা ফ্রেম করেছে তারা FPTP পদ্ধতির কথা মাথায় রেখেই অনুচ্ছেদ গুলো লিপিবদ্ধ করেছেন। তারা সবগুলো রিলেটেড অনুচ্ছেদে “a person elected, the person elected”  ইত্যাদি ধরনের শব্দ ব্যবহার করেছে এবং যেইখানে প্রয়োজন মনে করেছে সেখানে সরাসরি PR এর কথা উল্লেখ্য করেছে। ফলে স্পষ্টত-ই বোঝা যায় সংবিধান রচয়িতাদের বা এর পরবর্তী তে যারা এই সংবিধান সংশোধন করেছে তাদের সবাই FPTP পদ্ধতির কথা মাথায় রেখেই সংবিধান রচনা এবং সংশোধন করেছেন।

যদি আমরা একটু পেছনে যেয়ে বাংলাদেশ ইলেকশনের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট এর দিকে তাকাই, তাহলে আমরা দেখবো, বাংলাদেশ তথা ভারতীয় উপ-মহাদেশ প্রায় ২০০ বছর ব্রিটিশ কলোনী ছিলো এবং সেখান থেকেই আধুনিক ইলেকশনের পদ্ধতি ভারতীয় উপমহাদেশ তথা পরবর্তী তে পাকিস্তান এবং এর পরে বাংলাদেশ স্বাধীন হওঅয়ার পর adapt করেছে। ব্রিটিশ-রা FPTP পদ্ধতি অনুসরণ করেই ইলেকশন করে। ইন্ডিয়া এবং পাকিস্তানের ইলেকশন পদ্ধতি-ও FPTP পদ্ধতি যেখানে সংখ্যাগরিষ্ঠ ব্যক্তি ইলেকশনে জয় লাভ করে।
অতএব এতক্ষণ এই সকল কিছু বলার পেছনের যেই উদ্দেশ্য সেটা আমি আমার মত করে চেষ্টা করেছি তুলে ধরার জন্য যে, আমাদের সংবিধানে expressly FPTP পদ্ধতির কথা বলা না থাকলেও impliedly বলা হয়েছে এবং ইলেকশন এবং সংসদ সম্পর্কীয়  অনুচ্ছেদ গুলো উক্ত প্রেক্ষাপটেই সন্নিবেশিত করা হয়েছে।