Dhaka ০৯:২০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬, ৭ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
রেট গ্যাপ ও ব্যাংকিং ঝামেলায় মিরসরাইয়ে হুন্ডিমুখী প্রবাসী পরিবার শীতে সবজির জোগান থাকলেও কমছে না দাম রংপুরে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের ওপর মূল্যস্ফীতির প্রভাব রংপুরে এলপিজি সংকট, সরকার নির্ধারিত দামের বাইরে বিক্রি হচ্ছে সিলিন্ডার খরচের চাপে ভাঙছে ক্ষুদ্র ব্যবসা ডলার সংকটে স্থবির আমদানি-রপ্তানি, বাড়ছে উৎপাদন ব্যয় ও মুল্যস্ফীতির চাপ নিত্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধিতে বিপর্যস্ত শিক্ষার্থীদের জীবন, বাড়ছে অনিশ্চয়তা ‘দেরি হওয়ার আগেই চুক্তি করো’, কিউবাকে ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি ইরানে বিক্ষোভ ঘিরে ব্যাপক সহিংসতা: নিহত ১০৯ নিরাপত্তা সদস্য নির্বাচন অবাধ ও উৎসবমুখর হবে: ইইউ প্রতিনিধিদলকে প্রধান উপদেষ্টা
বিজ্ঞাপন:
আপনাদের ভালোবাসা ও আস্থার সাথে এগিয়ে চলছে দৈনিক বঙ্গচিত্র। দেশের প্রতিটি প্রান্তের খবর, রাজনীতি, অর্থনীতি, সমাজ, সংস্কৃতি, শিক্ষা, খেলাধুলা ও বিনোদনসহ সকল গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ আমরা আপনাদের কাছে পৌঁছে দিতে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ।

গাজা থেকে গোপনে ফিলিস্তিনি পাচার—নেপথ্যে উঠছে নতুন তথ্য

যুদ্ধবিরতির পরও গাজা উপত্যকার মানবিক সংকট কাটেনি। পর্যাপ্ত ত্রাণ প্রবেশ করতে না পারায় বহু মানুষ অনাহারে দিন কাটাচ্ছেন। এর মধ্যেও ইসরাইলের হামলা অব্যাহত। একই সময়ে সামনে আসছে আরও একটি উদ্বেগজনক তথ্য—গাজা থেকে ফিলিস্তিনিদের গোপনে বিদেশে পাচার করা হচ্ছে।

গত বৃহস্পতিবার (১৩ নভেম্বর) সকালে যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজা থেকে ১৫৩ জন ফিলিস্তিনিকে নিয়ে একটি চার্টার্ড বিমান দক্ষিণ আফ্রিকার জোহানেসবার্গের কাছে অবতরণ করে। যাত্রীদের অনেকের পাসপোর্টে প্রয়োজনীয় বহির্গমন সিল না থাকায় বর্ডার পুলিশ তাদের নেমে যেতে দেয়নি। স্থানীয় একটি দাতব্য প্রতিষ্ঠান থাকার দায়িত্ব নিলে প্রায় ১২ ঘণ্টা পর তাদের নামার অনুমতি দেওয়া হয়।

দক্ষিণ আফ্রিকার পুলিশ জানায়, চার্টার্ড ফ্লাইটটি কেনিয়া থেকে এসেছে বলে দাবি করা হলেও ফিলিস্তিনিরা কীভাবে ওই বিমানে উঠল এবং বিমানটি আসলে কোথা থেকে উড়াল দিল—তা স্পষ্ট নয়। আগে ২৮ অক্টোবরও আরও একটি বিমান ১৭৬ ফিলিস্তিনিকে নিয়ে একই দেশে পৌঁছেছিল।

দেশটির প্রেসিডেন্ট ঘটনাটিকে ‘রহস্যময়’ বলে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। তার মতে, ফিলিস্তিনিদের যাত্রাপথ, উদ্দেশ্য ও পেছনে থাকা শক্তিগুলো খতিয়ে দেখা জরুরি।

এদিকে ইসরাইলি দৈনিক হারেৎজ জানায়, গাজা থেকে ফিলিস্তিনিদের বিদেশে পাচারের সঙ্গে জড়িত একটি সংগঠন—‘আল মাজদ ইউরোপ’। ইসরাইলি-এস্তোনীয় নাগরিক তোমার জানার লিন্ড এ সংগঠনটি পরিচালনা করেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ আছে। অভিযোগ, সংগঠনটি মাথাপিছু প্রায় দুই হাজার ডলার নিয়ে গাজার লোকজনকে ইসরাইলের র‍্যামন বিমানবন্দর দিয়ে ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া ও দক্ষিণ আফ্রিকাসহ বিভিন্ন দেশে পাঠাচ্ছে।

তদন্তে আরও জানা যায়, প্রতিষ্ঠানটি আসলে এস্তোনিয়াতে নিবন্ধিত এবং এক ধরনের কনসালটিং কোম্পানির মাধ্যমে পরিচালিত হয়। ইসরাইলের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে থাকা সামরিক সংস্থা সিওজিএটির সঙ্গে এই ফ্লাইটগুলোর সমন্বয় হয় বলেও দাবি করেছে হারেৎজ।

আরেক ইসরাইলি পত্রিকা ইয়েদিওথ আহরোনোথও জানায়, গাজা থেকে দক্ষিণ আফ্রিকায় পৌঁছানো ১৫৩ ফিলিস্তিনির ক্ষেত্রেও ‘আল মাজদ’ ভূমিকা রেখেছে। কড়া পাহারায় ফিলিস্তিনিদের গাজার ভেতর থেকে তুলে কেরেম শালোম ক্রসিং হয়ে র‍্যামন বিমানবন্দরে নেওয়া হয় বলে উল্লেখ করে পত্রিকাটি।

মানবাধিকার সংস্থাগুলো বলছে, এসব গোপন ফ্লাইট ইসরাইলের বহুদিনের সেই পরিকল্পনার অংশ, যার মাধ্যমে গাজাবাসীকে তাদের ভূমি থেকে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা চলছে। ইসরাইলের আগ্রাসন শুরুর পর থেকে প্রায় ৪০ হাজার ফিলিস্তিনি গাজা ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন।

২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে ইসরাইলি হামলায় গাজায় এখন পর্যন্ত ৬৯ হাজারের বেশি মানুষ নিহত এবং ১ লাখ ৭০ হাজারের বেশি মানুষ আহত হয়েছেন। হামলা ও অবরোধের মধ্যেই এখন নতুন করে ফিলিস্তিনি পাচারের ঘটনাগুলো আন্তর্জাতিক উদ্বেগ বাড়াচ্ছে।

Popular Post

রেট গ্যাপ ও ব্যাংকিং ঝামেলায় মিরসরাইয়ে হুন্ডিমুখী প্রবাসী পরিবার

গাজা থেকে গোপনে ফিলিস্তিনি পাচার—নেপথ্যে উঠছে নতুন তথ্য

Update Time : ০৭:৩৮:৪৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ নভেম্বর ২০২৫

যুদ্ধবিরতির পরও গাজা উপত্যকার মানবিক সংকট কাটেনি। পর্যাপ্ত ত্রাণ প্রবেশ করতে না পারায় বহু মানুষ অনাহারে দিন কাটাচ্ছেন। এর মধ্যেও ইসরাইলের হামলা অব্যাহত। একই সময়ে সামনে আসছে আরও একটি উদ্বেগজনক তথ্য—গাজা থেকে ফিলিস্তিনিদের গোপনে বিদেশে পাচার করা হচ্ছে।

গত বৃহস্পতিবার (১৩ নভেম্বর) সকালে যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজা থেকে ১৫৩ জন ফিলিস্তিনিকে নিয়ে একটি চার্টার্ড বিমান দক্ষিণ আফ্রিকার জোহানেসবার্গের কাছে অবতরণ করে। যাত্রীদের অনেকের পাসপোর্টে প্রয়োজনীয় বহির্গমন সিল না থাকায় বর্ডার পুলিশ তাদের নেমে যেতে দেয়নি। স্থানীয় একটি দাতব্য প্রতিষ্ঠান থাকার দায়িত্ব নিলে প্রায় ১২ ঘণ্টা পর তাদের নামার অনুমতি দেওয়া হয়।

দক্ষিণ আফ্রিকার পুলিশ জানায়, চার্টার্ড ফ্লাইটটি কেনিয়া থেকে এসেছে বলে দাবি করা হলেও ফিলিস্তিনিরা কীভাবে ওই বিমানে উঠল এবং বিমানটি আসলে কোথা থেকে উড়াল দিল—তা স্পষ্ট নয়। আগে ২৮ অক্টোবরও আরও একটি বিমান ১৭৬ ফিলিস্তিনিকে নিয়ে একই দেশে পৌঁছেছিল।

দেশটির প্রেসিডেন্ট ঘটনাটিকে ‘রহস্যময়’ বলে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। তার মতে, ফিলিস্তিনিদের যাত্রাপথ, উদ্দেশ্য ও পেছনে থাকা শক্তিগুলো খতিয়ে দেখা জরুরি।

এদিকে ইসরাইলি দৈনিক হারেৎজ জানায়, গাজা থেকে ফিলিস্তিনিদের বিদেশে পাচারের সঙ্গে জড়িত একটি সংগঠন—‘আল মাজদ ইউরোপ’। ইসরাইলি-এস্তোনীয় নাগরিক তোমার জানার লিন্ড এ সংগঠনটি পরিচালনা করেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ আছে। অভিযোগ, সংগঠনটি মাথাপিছু প্রায় দুই হাজার ডলার নিয়ে গাজার লোকজনকে ইসরাইলের র‍্যামন বিমানবন্দর দিয়ে ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া ও দক্ষিণ আফ্রিকাসহ বিভিন্ন দেশে পাঠাচ্ছে।

তদন্তে আরও জানা যায়, প্রতিষ্ঠানটি আসলে এস্তোনিয়াতে নিবন্ধিত এবং এক ধরনের কনসালটিং কোম্পানির মাধ্যমে পরিচালিত হয়। ইসরাইলের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে থাকা সামরিক সংস্থা সিওজিএটির সঙ্গে এই ফ্লাইটগুলোর সমন্বয় হয় বলেও দাবি করেছে হারেৎজ।

আরেক ইসরাইলি পত্রিকা ইয়েদিওথ আহরোনোথও জানায়, গাজা থেকে দক্ষিণ আফ্রিকায় পৌঁছানো ১৫৩ ফিলিস্তিনির ক্ষেত্রেও ‘আল মাজদ’ ভূমিকা রেখেছে। কড়া পাহারায় ফিলিস্তিনিদের গাজার ভেতর থেকে তুলে কেরেম শালোম ক্রসিং হয়ে র‍্যামন বিমানবন্দরে নেওয়া হয় বলে উল্লেখ করে পত্রিকাটি।

মানবাধিকার সংস্থাগুলো বলছে, এসব গোপন ফ্লাইট ইসরাইলের বহুদিনের সেই পরিকল্পনার অংশ, যার মাধ্যমে গাজাবাসীকে তাদের ভূমি থেকে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা চলছে। ইসরাইলের আগ্রাসন শুরুর পর থেকে প্রায় ৪০ হাজার ফিলিস্তিনি গাজা ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন।

২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে ইসরাইলি হামলায় গাজায় এখন পর্যন্ত ৬৯ হাজারের বেশি মানুষ নিহত এবং ১ লাখ ৭০ হাজারের বেশি মানুষ আহত হয়েছেন। হামলা ও অবরোধের মধ্যেই এখন নতুন করে ফিলিস্তিনি পাচারের ঘটনাগুলো আন্তর্জাতিক উদ্বেগ বাড়াচ্ছে।