
যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য সামরিক হামলার আশঙ্কায় আত্মরক্ষামূলক প্রস্তুতি জোরদার করেছে ভেনেজুয়েলা। প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর সরকার জানিয়েছে, প্রয়োজন হলে তারা গেরিলা যুদ্ধের মতো কৌশল ব্যবহার করবে। দুই দেশের এই উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতিতে ভেনেজুয়েলার পাশে দাঁড়িয়েছে চীন ও রাশিয়া।
উত্তেজনার শুরু মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘোষিত মাদকবিরোধী অভিযানকে কেন্দ্র করে। সম্প্রতি হোয়াইট হাউস জানায়, ভেনেজুয়েলার উপকূলে সামরিক অভিযান আরও বাড়ানো হবে। একই সঙ্গে ভেনেজুয়েলার কার্টেল দে লস সোলেসকে ‘বিদেশি সন্ত্রাসী সংগঠন’ হিসেবে ঘোষণা দেয় যুক্তরাষ্ট্র।
এ পরিস্থিতিতে ভেনেজুয়েলার সেনাবাহিনী সামরিক মহড়া শুরু করেছে, যেখানে পুরনো রুশ অস্ত্রও ব্যবহার করা হচ্ছে। দেশটির দাবি, ওয়াশিংটনের যে কোনো সম্ভাব্য হামলা ঠেকাতে তারা প্রস্তুত।
মার্কিন অবস্থানের কড়া সমালোচনা করেছে চীন ও রাশিয়া। রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মারিয়া জাখারোভা বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের পদক্ষেপ অতিরিক্ত সামরিক চাপ প্রয়োগ এবং আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের শামিল। তিনি জানান, ভেনেজুয়েলার সার্বভৌমত্ব রক্ষা করতে মস্কো কারাকাসের পাশে থাকবে।
চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংও মাদুরো সরকারের প্রতি পূর্ণ সমর্থনের কথা জানিয়েছেন। বেইজিং বলছে, বিদেশি হস্তক্ষেপ মেনে নেওয়া হবে না এবং ভেনেজুয়েলার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তারা পাশে থাকবে।
উত্তেজনার মাঝেই মার্কিন গণমাধ্যম দাবি করেছে, শিগগিরই ট্রাম্প ও মাদুরোর মধ্যে ফোনালাপ হতে পারে। তবে কখন হবে, সে বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য নেই। প্রতিবেদন আরও বলছে, ক্যারিবীয় সাগরে মার্কিন সামরিক শক্তি মোতায়েন থাকলেও তাৎক্ষণিক স্থল হামলার পরিকল্পনা আপাতত নেই।
এক মার্কিন কর্মকর্তা জানান, মাদুরোকে আটক বা হত্যা করার কোনো পরিকল্পনা নেই। তবে মাদকবাহী নৌকা ধ্বংস এবং পাচার রোধের কার্যক্রম চলবে। এদিকে, ক্যারিবীয় অঞ্চলে সামরিক উপস্থিতি বাড়ানোর পর যুক্তরাষ্ট্রের সর্বোচ্চ সামরিক কর্মকর্তা পরিদর্শনও করেছেন পুয়ের্তো রিকোর সাবেক নৌঘাঁটি।
Reporter Name 












