Dhaka ১০:১২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৯ এপ্রিল ২০২৬, ২৬ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
রেট গ্যাপ ও ব্যাংকিং ঝামেলায় মিরসরাইয়ে হুন্ডিমুখী প্রবাসী পরিবার শীতে সবজির জোগান থাকলেও কমছে না দাম রংপুরে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের ওপর মূল্যস্ফীতির প্রভাব রংপুরে এলপিজি সংকট, সরকার নির্ধারিত দামের বাইরে বিক্রি হচ্ছে সিলিন্ডার খরচের চাপে ভাঙছে ক্ষুদ্র ব্যবসা ডলার সংকটে স্থবির আমদানি-রপ্তানি, বাড়ছে উৎপাদন ব্যয় ও মুল্যস্ফীতির চাপ নিত্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধিতে বিপর্যস্ত শিক্ষার্থীদের জীবন, বাড়ছে অনিশ্চয়তা ‘দেরি হওয়ার আগেই চুক্তি করো’, কিউবাকে ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি ইরানে বিক্ষোভ ঘিরে ব্যাপক সহিংসতা: নিহত ১০৯ নিরাপত্তা সদস্য নির্বাচন অবাধ ও উৎসবমুখর হবে: ইইউ প্রতিনিধিদলকে প্রধান উপদেষ্টা
বিজ্ঞাপন:
আপনাদের ভালোবাসা ও আস্থার সাথে এগিয়ে চলছে দৈনিক বঙ্গচিত্র। দেশের প্রতিটি প্রান্তের খবর, রাজনীতি, অর্থনীতি, সমাজ, সংস্কৃতি, শিক্ষা, খেলাধুলা ও বিনোদনসহ সকল গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ আমরা আপনাদের কাছে পৌঁছে দিতে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ।

সবার জন্য নিরাপদ ভবিষ্যৎ নিশ্চিতে সর্বজনীন পেনশন স্কিম: মন্ত্রিপরিষদ সচিব

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৭:২২:২৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৫
  • ২০২ Time View

||বিএন আহাম্মেদ || সব নাগরিকের জন্য সম্মানজনক ও নিরাপদ ভবিষ্যৎ গড়তে সরকার সর্বজনীন পেনশন স্কিম চালু করেছে বলে জানিয়েছেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব ড. শেখ আব্দুর রশীদ। তিনি বলেন, বাংলাদেশ এখন জনমিতিক সুবিধার সময় অতিক্রম করছে। আগামী দশকে দেশে বৃদ্ধ জনগোষ্ঠীর সংখ্যা যেমন বাড়বে, তেমনি গড় আয়ুও বৃদ্ধি পাবে। তাই ভবিষ্যতে বার্ধক্যে মানুষের আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এই পেনশন স্কিম নেওয়া হয়েছে।

রোববার (২৬ অক্টোবর) সকালে খুলনা বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত সর্বজনীন পেনশন মেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব আরও জানান, বর্তমানে সরকারের ১৪৩টি সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির মধ্যে কিছু কমিয়ে ভাতার পরিমাণ বাড়ানো হয়েছে। তবুও অনেকের জন্য তা যথেষ্ট নয়। সরকারি পেনশন সুবিধা কেবল প্রায় ১৪ লাখ সরকারি কর্মচারী পান, অথচ অসংখ্য বেসরকারি ও প্রান্তিক মানুষ এই সুবিধার বাইরে। তাদের আর্থিক সুরক্ষা নিশ্চিত করতেই সর্বজনীন পেনশন স্কিম একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।

তিনি আরও বলেন, শিক্ষকরা অল্প পেনশন পান এবং তা পেতেও অনেক ঝামেলায় পড়তে হয়। বেসরকারি কর্মীরা আবার চাকরি হারানোর আতঙ্কে থাকেন। এই স্কিম তাদের জন্য আশার আলো হতে পারে। অংশগ্রহণকারীরা নিজেদের জমাকৃত অর্থ থেকে ঋণ নিতে পারবেন এবং ১০ বছর চাঁদা জমা রাখলেই পেনশন সুবিধা পাবেন।

তিনি জোর দিয়ে বলেন, এই উদ্যোগ রাজনৈতিক নয়, এটি নাগরিকের ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা নিশ্চিত করার সরকারি কর্মসূচি।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি রেলপথ সচিব মো. ফাহিমুল ইসলাম বলেন, জনগণের প্রতি রাষ্ট্রের দায়বদ্ধতা থেকেই সর্বজনীন পেনশন স্কিমের সূচনা হয়েছে। এর মূল লক্ষ্য হলো অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন নিশ্চিত করা।

অনুষ্ঠানে খুলনার বিভাগীয় কমিশনার (ভারপ্রাপ্ত) মো. ফিরোজ শাহের সভাপতিত্বে আরও উপস্থিত ছিলেন জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী চেয়ারম্যান মো. মহিউদ্দীন খান, খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার মো. জুলফিকার আলী হায়দার, সদস্য (ফান্ড ম্যানেজমেন্ট) মো. গোলাম মোস্তফা এবং অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (সার্বিক) মো. হুসাইন শওকত।

উদ্বোধনের আগে খুলনা আঞ্চলিক লোক প্রশাসন প্রশিক্ষণ কেন্দ্র প্রাঙ্গণ থেকে একটি বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের হয়ে বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ে গিয়ে শেষ হয়। এতে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। দিনব্যাপী মেলায় সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও ব্যাংকের ৫০টি স্টলে পেনশন সম্পর্কিত তথ্য ও সেবা দেওয়া হয়।

পরে বিভাগীয় কমিশনারের সম্মেলনকক্ষে অনুষ্ঠিত কর্মশালায় ড. শেখ আব্দুর রশীদ বলেন, কল্যাণ রাষ্ট্রের অন্যতম দায়িত্ব হলো নাগরিকের আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষ কঠিন বাস্তবতার মধ্যে জীবনযাপন করে, তাদের সম্মানজনক জীবনের নিশ্চয়তার জন্যই সর্বজনীন পেনশন স্কিম চালু করা হয়েছে।

এর আগে তিনি খুলনা বিভাগের কর্মকর্তাদের সঙ্গেও মতবিনিময় করেন।

Popular Post

রেট গ্যাপ ও ব্যাংকিং ঝামেলায় মিরসরাইয়ে হুন্ডিমুখী প্রবাসী পরিবার

সবার জন্য নিরাপদ ভবিষ্যৎ নিশ্চিতে সর্বজনীন পেনশন স্কিম: মন্ত্রিপরিষদ সচিব

Update Time : ০৭:২২:২৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৫

||বিএন আহাম্মেদ || সব নাগরিকের জন্য সম্মানজনক ও নিরাপদ ভবিষ্যৎ গড়তে সরকার সর্বজনীন পেনশন স্কিম চালু করেছে বলে জানিয়েছেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব ড. শেখ আব্দুর রশীদ। তিনি বলেন, বাংলাদেশ এখন জনমিতিক সুবিধার সময় অতিক্রম করছে। আগামী দশকে দেশে বৃদ্ধ জনগোষ্ঠীর সংখ্যা যেমন বাড়বে, তেমনি গড় আয়ুও বৃদ্ধি পাবে। তাই ভবিষ্যতে বার্ধক্যে মানুষের আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এই পেনশন স্কিম নেওয়া হয়েছে।

রোববার (২৬ অক্টোবর) সকালে খুলনা বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত সর্বজনীন পেনশন মেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব আরও জানান, বর্তমানে সরকারের ১৪৩টি সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির মধ্যে কিছু কমিয়ে ভাতার পরিমাণ বাড়ানো হয়েছে। তবুও অনেকের জন্য তা যথেষ্ট নয়। সরকারি পেনশন সুবিধা কেবল প্রায় ১৪ লাখ সরকারি কর্মচারী পান, অথচ অসংখ্য বেসরকারি ও প্রান্তিক মানুষ এই সুবিধার বাইরে। তাদের আর্থিক সুরক্ষা নিশ্চিত করতেই সর্বজনীন পেনশন স্কিম একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।

তিনি আরও বলেন, শিক্ষকরা অল্প পেনশন পান এবং তা পেতেও অনেক ঝামেলায় পড়তে হয়। বেসরকারি কর্মীরা আবার চাকরি হারানোর আতঙ্কে থাকেন। এই স্কিম তাদের জন্য আশার আলো হতে পারে। অংশগ্রহণকারীরা নিজেদের জমাকৃত অর্থ থেকে ঋণ নিতে পারবেন এবং ১০ বছর চাঁদা জমা রাখলেই পেনশন সুবিধা পাবেন।

তিনি জোর দিয়ে বলেন, এই উদ্যোগ রাজনৈতিক নয়, এটি নাগরিকের ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা নিশ্চিত করার সরকারি কর্মসূচি।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি রেলপথ সচিব মো. ফাহিমুল ইসলাম বলেন, জনগণের প্রতি রাষ্ট্রের দায়বদ্ধতা থেকেই সর্বজনীন পেনশন স্কিমের সূচনা হয়েছে। এর মূল লক্ষ্য হলো অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন নিশ্চিত করা।

অনুষ্ঠানে খুলনার বিভাগীয় কমিশনার (ভারপ্রাপ্ত) মো. ফিরোজ শাহের সভাপতিত্বে আরও উপস্থিত ছিলেন জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী চেয়ারম্যান মো. মহিউদ্দীন খান, খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার মো. জুলফিকার আলী হায়দার, সদস্য (ফান্ড ম্যানেজমেন্ট) মো. গোলাম মোস্তফা এবং অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (সার্বিক) মো. হুসাইন শওকত।

উদ্বোধনের আগে খুলনা আঞ্চলিক লোক প্রশাসন প্রশিক্ষণ কেন্দ্র প্রাঙ্গণ থেকে একটি বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের হয়ে বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ে গিয়ে শেষ হয়। এতে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। দিনব্যাপী মেলায় সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও ব্যাংকের ৫০টি স্টলে পেনশন সম্পর্কিত তথ্য ও সেবা দেওয়া হয়।

পরে বিভাগীয় কমিশনারের সম্মেলনকক্ষে অনুষ্ঠিত কর্মশালায় ড. শেখ আব্দুর রশীদ বলেন, কল্যাণ রাষ্ট্রের অন্যতম দায়িত্ব হলো নাগরিকের আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষ কঠিন বাস্তবতার মধ্যে জীবনযাপন করে, তাদের সম্মানজনক জীবনের নিশ্চয়তার জন্যই সর্বজনীন পেনশন স্কিম চালু করা হয়েছে।

এর আগে তিনি খুলনা বিভাগের কর্মকর্তাদের সঙ্গেও মতবিনিময় করেন।