Dhaka ০৪:৫৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৫ অগাস্ট ২০২৬, ২১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
রেট গ্যাপ ও ব্যাংকিং ঝামেলায় মিরসরাইয়ে হুন্ডিমুখী প্রবাসী পরিবার শীতে সবজির জোগান থাকলেও কমছে না দাম রংপুরে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের ওপর মূল্যস্ফীতির প্রভাব রংপুরে এলপিজি সংকট, সরকার নির্ধারিত দামের বাইরে বিক্রি হচ্ছে সিলিন্ডার খরচের চাপে ভাঙছে ক্ষুদ্র ব্যবসা ডলার সংকটে স্থবির আমদানি-রপ্তানি, বাড়ছে উৎপাদন ব্যয় ও মুল্যস্ফীতির চাপ নিত্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধিতে বিপর্যস্ত শিক্ষার্থীদের জীবন, বাড়ছে অনিশ্চয়তা ‘দেরি হওয়ার আগেই চুক্তি করো’, কিউবাকে ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি ইরানে বিক্ষোভ ঘিরে ব্যাপক সহিংসতা: নিহত ১০৯ নিরাপত্তা সদস্য নির্বাচন অবাধ ও উৎসবমুখর হবে: ইইউ প্রতিনিধিদলকে প্রধান উপদেষ্টা
বিজ্ঞাপন:
আপনাদের ভালোবাসা ও আস্থার সাথে এগিয়ে চলছে দৈনিক বঙ্গচিত্র। দেশের প্রতিটি প্রান্তের খবর, রাজনীতি, অর্থনীতি, সমাজ, সংস্কৃতি, শিক্ষা, খেলাধুলা ও বিনোদনসহ সকল গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ আমরা আপনাদের কাছে পৌঁছে দিতে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ।

গোপালগঞ্জ কারাগারের বর্জ্যে বিপন্ন জনস্বাস্থ্য: চরম ঝুঁকিতে ২০০ পরিবার

  • Reporter Name
  • Update Time : ০১:৩৫:০০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৫ ডিসেম্বর ২০২৫
  • ১৮৭ Time View

গোপালগঞ্জ জেলা কারাগারের অব্যবস্থাপনার কারণে মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়েছেন আশপাশের এলাকার বাসিন্দারা। কারাগারের অপরিশোধিত পয়ঃবর্জ্য সরাসরি লোকালয় ও ফসলি জমিতে মিশে যাওয়ায় দীর্ঘ এক দশকেরও বেশি সময় ধরে এক অবর্ণনীয় পরিবেশ বিপর্যয়ের মুখোমুখি অন্তত ২০০ পরিবার। তীব্র দুর্গন্ধ আর মশা-মাছির উপদ্রবে জনজীবন এখন ওষ্ঠাগত।

সরেজমিনে দেখা যায়, ২০০৯ সালে কারাগারটি চালুর কয়েক বছর পর থেকেই এই বর্জ্য সমস্যা প্রকট আকার ধারণ করে। কারাগারের পশ্চিম ও উত্তর পাশের ড্রেন দিয়ে নিয়মিত বিষাক্ত বর্জ্য প্রবাহিত হচ্ছে। এই দূষিত পানি শুধু জনবসতিতেই সীমাবদ্ধ নয়, তা সরাসরি পাশের ফসলি জমি এবং শহরের প্রধান লেকেও গিয়ে পড়ছে।

ভুক্তভোগী কৃষক ফারুখ মোল্লা জানান, আগে এসব জমিতে প্রচুর ফসল হতো। কিন্তু এখন পচা পানির দুর্গন্ধে মাঠে নামাই দায় হয়ে পড়েছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে কৃষি উৎপাদনে।

দীর্ঘদিন দূষিত পরিবেশে বসবাসের ফলে স্থানীয় বাসিন্দারা বিশেষ করে শিশু ও বৃদ্ধরা চর্মরোগ, ডায়রিয়া ও টাইফয়েডসহ বিভিন্ন জটিল রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন। স্থানীয় বাসিন্দা আছিয়া বেগম ও তানজিলা বেগমের অভিযোগ—দুর্গন্ধে ঘরে জানাল খোলার উপায় নেই, খাবার খেতে বসলে বমি আসে। পৌরসভা ও জেল কর্তৃপক্ষকে বারবার জানিয়েও কোনো প্রতিকার মেলেনি।

এলাকাবাসীর প্রধান সমস্যাগুলো:

* অসহনীয় দুর্গন্ধ ও মশার উপদ্রব।

* শিশুদের দীর্ঘমেয়াদী পেটের অসুখ ও চর্মরোগ।

* সামাজিকভাবে বিচ্ছিন্ন হওয়া (দুর্গন্ধের কারণে আত্মীয়রা আসতে চান না)।

গোপালগঞ্জ জেলা কারাগারের ধারণক্ষমতার চেয়ে কয়েকগুণ বেশি (৭ শতাধিক) হাজতি ও কয়েদি থাকায় বর্তমান অবকাঠামো দিয়ে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কঠিন হয়ে পড়েছে।

এ বিষয়ে জেলা কারাগারের সুপার শওকত হোসেন মিয়া বলেন, “একটি আধুনিক ড্রেনেজ সিস্টেম ও স্থায়ী বর্জ্য শোধনাগার নির্মাণের প্রয়োজনীয়তা আমরা উপলব্ধি করছি। এ লক্ষ্যে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ চেয়ে আবেদন করা হয়েছে। বরাদ্দ পেলেই দ্রুত কাজ শুরু করা হবে।”

সংশোধনাগারের অব্যবস্থাপনার দায় আর কতদিন সাধারণ মানুষ বইবে—এমন প্রশ্ন এখন ভুক্তভোগীদের। এলাকাবাসীর দাবি, কোনো মৌখিক আশ্বাস নয়, বরং দ্রুত বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে বর্জ্য অপসারণ ও স্থায়ী ড্রেন নির্মাণের মাধ্যমে তাদের এই ‘নরকযন্ত্রণা’ থেকে মুক্তি দেওয়া হোক।

Popular Post

রেট গ্যাপ ও ব্যাংকিং ঝামেলায় মিরসরাইয়ে হুন্ডিমুখী প্রবাসী পরিবার

গোপালগঞ্জ কারাগারের বর্জ্যে বিপন্ন জনস্বাস্থ্য: চরম ঝুঁকিতে ২০০ পরিবার

Update Time : ০১:৩৫:০০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৫ ডিসেম্বর ২০২৫

গোপালগঞ্জ জেলা কারাগারের অব্যবস্থাপনার কারণে মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়েছেন আশপাশের এলাকার বাসিন্দারা। কারাগারের অপরিশোধিত পয়ঃবর্জ্য সরাসরি লোকালয় ও ফসলি জমিতে মিশে যাওয়ায় দীর্ঘ এক দশকেরও বেশি সময় ধরে এক অবর্ণনীয় পরিবেশ বিপর্যয়ের মুখোমুখি অন্তত ২০০ পরিবার। তীব্র দুর্গন্ধ আর মশা-মাছির উপদ্রবে জনজীবন এখন ওষ্ঠাগত।

সরেজমিনে দেখা যায়, ২০০৯ সালে কারাগারটি চালুর কয়েক বছর পর থেকেই এই বর্জ্য সমস্যা প্রকট আকার ধারণ করে। কারাগারের পশ্চিম ও উত্তর পাশের ড্রেন দিয়ে নিয়মিত বিষাক্ত বর্জ্য প্রবাহিত হচ্ছে। এই দূষিত পানি শুধু জনবসতিতেই সীমাবদ্ধ নয়, তা সরাসরি পাশের ফসলি জমি এবং শহরের প্রধান লেকেও গিয়ে পড়ছে।

ভুক্তভোগী কৃষক ফারুখ মোল্লা জানান, আগে এসব জমিতে প্রচুর ফসল হতো। কিন্তু এখন পচা পানির দুর্গন্ধে মাঠে নামাই দায় হয়ে পড়েছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে কৃষি উৎপাদনে।

দীর্ঘদিন দূষিত পরিবেশে বসবাসের ফলে স্থানীয় বাসিন্দারা বিশেষ করে শিশু ও বৃদ্ধরা চর্মরোগ, ডায়রিয়া ও টাইফয়েডসহ বিভিন্ন জটিল রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন। স্থানীয় বাসিন্দা আছিয়া বেগম ও তানজিলা বেগমের অভিযোগ—দুর্গন্ধে ঘরে জানাল খোলার উপায় নেই, খাবার খেতে বসলে বমি আসে। পৌরসভা ও জেল কর্তৃপক্ষকে বারবার জানিয়েও কোনো প্রতিকার মেলেনি।

এলাকাবাসীর প্রধান সমস্যাগুলো:

* অসহনীয় দুর্গন্ধ ও মশার উপদ্রব।

* শিশুদের দীর্ঘমেয়াদী পেটের অসুখ ও চর্মরোগ।

* সামাজিকভাবে বিচ্ছিন্ন হওয়া (দুর্গন্ধের কারণে আত্মীয়রা আসতে চান না)।

গোপালগঞ্জ জেলা কারাগারের ধারণক্ষমতার চেয়ে কয়েকগুণ বেশি (৭ শতাধিক) হাজতি ও কয়েদি থাকায় বর্তমান অবকাঠামো দিয়ে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কঠিন হয়ে পড়েছে।

এ বিষয়ে জেলা কারাগারের সুপার শওকত হোসেন মিয়া বলেন, “একটি আধুনিক ড্রেনেজ সিস্টেম ও স্থায়ী বর্জ্য শোধনাগার নির্মাণের প্রয়োজনীয়তা আমরা উপলব্ধি করছি। এ লক্ষ্যে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ চেয়ে আবেদন করা হয়েছে। বরাদ্দ পেলেই দ্রুত কাজ শুরু করা হবে।”

সংশোধনাগারের অব্যবস্থাপনার দায় আর কতদিন সাধারণ মানুষ বইবে—এমন প্রশ্ন এখন ভুক্তভোগীদের। এলাকাবাসীর দাবি, কোনো মৌখিক আশ্বাস নয়, বরং দ্রুত বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে বর্জ্য অপসারণ ও স্থায়ী ড্রেন নির্মাণের মাধ্যমে তাদের এই ‘নরকযন্ত্রণা’ থেকে মুক্তি দেওয়া হোক।