
মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস সুষ্ঠু নির্বাচন, রাষ্ট্র সংস্কার এবং গণতন্ত্র রক্ষায় ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। মঙ্গলবার (১৬ ডিসেম্বর) সন্ধ্যা ৬টায় বিটিভি ও বিটিভি ওয়ার্ল্ডে ভাষণটি সরাসরি সম্প্রচার করা হয়।
ভাষণের শুরুতে সাম্প্রতিক সহিংস ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, জুলাই অভ্যুত্থানের সম্মুখসারির সংগঠক শরীফ ওসমান হাদির ওপর হামলা শুধু একজন ব্যক্তির ওপর নয়, এটি দেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রার ওপর আঘাত। তিনি জানান, হাদির চিকিৎসা ও নিরাপত্তায় সরকার সর্বোচ্চ ব্যবস্থা নিয়েছে এবং উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে সিঙ্গাপুরে পাঠানো হয়েছে।
ড. ইউনূস বলেন, হামলার সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করা হয়েছে এবং কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। ভয়, সন্ত্রাস বা সহিংসতার মাধ্যমে দেশের গণতান্ত্রিক পথচলা থামানো যাবে না বলেও তিনি স্পষ্ট করেন। একই সঙ্গে গুজব ও অপপ্রচার থেকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান।
আসন্ন জাতীয় নির্বাচন প্রসঙ্গে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি সংসদ নির্বাচন ও জুলাই সনদের ওপর গণভোট অনুষ্ঠিত হবে। এই নির্বাচন ও গণভোট দেশের ভবিষ্যৎ রাষ্ট্রকাঠামো নির্ধারণে ঐতিহাসিক গুরুত্ব বহন করবে। তিনি বলেন, ভোট শুধু আনুষ্ঠানিকতা নয়, এটি নতুন বাংলাদেশ গঠনে নাগরিকদের সক্রিয় অংশগ্রহণ।
ভাষণে বিচার বিভাগ, পুলিশ প্রশাসন ও মানবাধিকার ব্যবস্থায় নেওয়া সংস্কারের কথা তুলে ধরে তিনি জানান, বিচার বিভাগের প্রশাসনিক স্বাধীনতা নিশ্চিত করা হয়েছে এবং পৃথক সচিবালয় গঠন করা হয়েছে। পুলিশ ব্যবস্থার সংস্কারে পুলিশ কমিশন অধ্যাদেশ এবং মানবাধিকার সুরক্ষায় নতুন অধ্যাদেশ জারির কথাও জানান তিনি।
প্রধান উপদেষ্টা আরও বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের মূল লক্ষ্য হলো জুলাই-আগস্টের হত্যাকাণ্ডের বিচার, কাঠামোগত সংস্কার এবং একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজন। তিনি রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি আহ্বান জানান, প্রতিদ্বন্দ্বিতাকে শত্রুতায় রূপ না দিয়ে শান্তিপূর্ণ নির্বাচনী পরিবেশ নিশ্চিত করতে।
প্রবাসী বাংলাদেশিদের ভোটাধিকার প্রসঙ্গে ড. ইউনূস বলেন, প্রথমবারের মতো বিপুলসংখ্যক প্রবাসী পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে ভোট দিতে যাচ্ছেন, যা গণতন্ত্রের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি।
ভাষণের শেষাংশে তিনি বলেন, নতুন বাংলাদেশ গঠনের দায়িত্ব সবার। ধর্ম, বর্ণ, লিঙ্গ বা গোষ্ঠী নির্বিশেষে ঐক্যবদ্ধ হয়ে ন্যায়বিচার, গণতন্ত্র ও উন্নয়নের পথে এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
Reporter Name 











