Dhaka ০৬:০৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ১১ মে ২০২৬, ২৮ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
রেট গ্যাপ ও ব্যাংকিং ঝামেলায় মিরসরাইয়ে হুন্ডিমুখী প্রবাসী পরিবার শীতে সবজির জোগান থাকলেও কমছে না দাম রংপুরে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের ওপর মূল্যস্ফীতির প্রভাব রংপুরে এলপিজি সংকট, সরকার নির্ধারিত দামের বাইরে বিক্রি হচ্ছে সিলিন্ডার খরচের চাপে ভাঙছে ক্ষুদ্র ব্যবসা ডলার সংকটে স্থবির আমদানি-রপ্তানি, বাড়ছে উৎপাদন ব্যয় ও মুল্যস্ফীতির চাপ নিত্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধিতে বিপর্যস্ত শিক্ষার্থীদের জীবন, বাড়ছে অনিশ্চয়তা ‘দেরি হওয়ার আগেই চুক্তি করো’, কিউবাকে ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি ইরানে বিক্ষোভ ঘিরে ব্যাপক সহিংসতা: নিহত ১০৯ নিরাপত্তা সদস্য নির্বাচন অবাধ ও উৎসবমুখর হবে: ইইউ প্রতিনিধিদলকে প্রধান উপদেষ্টা
বিজ্ঞাপন:
আপনাদের ভালোবাসা ও আস্থার সাথে এগিয়ে চলছে দৈনিক বঙ্গচিত্র। দেশের প্রতিটি প্রান্তের খবর, রাজনীতি, অর্থনীতি, সমাজ, সংস্কৃতি, শিক্ষা, খেলাধুলা ও বিনোদনসহ সকল গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ আমরা আপনাদের কাছে পৌঁছে দিতে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ।

নির্বাসন থেকে ক্ষমতার শীর্ষে: ইতিহাসের পাতা উল্টে ফিরে দেখা জনপ্রিয় বিশ্বনেতাদের

  • Reporter Name
  • Update Time : ০২:১২:৫৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৫ ডিসেম্বর ২০২৫
  • ২৯৩ Time View

ইতিহাস সাক্ষী দেয়, রাজনৈতিক কারণে নির্বাসন মানেই কোনো নেতার ক্যারিয়ারের সমাপ্তি নয়। বরং অনেক ক্ষেত্রে এই নির্বাসনই হয়ে ওঠে প্রত্যাবর্তনের শক্তিশালী মঞ্চ। ভ্লাদিমির লেনিন থেকে শুরু করে নেলসন ম্যান্ডেলা কিংবা বেনজির ভুট্টো—বিশ্বের অনেক প্রভাবশালী নেতা দীর্ঘ প্রবাস জীবন বা কারাবাসের পর দেশে ফিরে রাজকীয় অভ্যর্থনা পেয়েছেন এবং পাল্টে দিয়েছেন নিজ দেশের ভাগ্য।

বেনজির ভুট্টো: মুসলিম বিশ্বের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী

পাকিস্তানের জেনারেল জিয়াউল হকের সামরিক শাসনামলে আশির দশকে দেশ ছাড়তে বাধ্য হন বেনজির ভুট্টো। লন্ডনে নির্বাসিত থেকেও তিনি পাকিস্তান পিপলস পার্টির (পিপিপি) নেতৃত্ব দেন। ১৯৮৬ সালে দেশে ফিরে তিনি বিশাল জনসমর্থন পান। পরবর্তীতে ১৯৮৮ সালের নির্বাচনে জয়ী হয়ে তিনি মুসলিম বিশ্বের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ইতিহাস গড়েন।

রুহুল্লাহ খোমেনি: ইরানি বিপ্লবের রূপকার

শাহ মোহাম্মদ রেজা পাহলভির দুঃশাসনের প্রতিবাদ করায় ১৯৬৪ সালে ইরান থেকে বিতাড়িত হন আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনি। তুরস্ক, ইরাক ও ফ্রান্সে দীর্ঘ ১৫ বছর নির্বাসনে কাটিয়েছেন তিনি। তবে বিদেশে থেকেই তার কণ্ঠস্বর কাঁপিয়ে দিয়েছিল শাহর সিংহাসন। ১৯৭৯ সালে গণঅভ্যুত্থানের মুখে শাহ দেশ ছাড়লে খোমেনি বীরের বেশে তেহরানে ফেরেন এবং আধুনিক ইরানের সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণ করেন।

ভ্লাদিমির লেনিন: রুশ বিপ্লবের মহানায়ক

রাশিয়ার জার শাসনের বিরুদ্ধে বিপ্লব গড়ে তোলায় ভ্লাদিমির লেনিনকে দীর্ঘ সময় সাইবেরিয়াসহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশে নির্বাসিত থাকতে হয়েছে। ১৯১৭ সালে প্রথম বিশ্বযুদ্ধ চলাকালীন তিনি জার্মানির সহায়তায় একটি বিশেষ ট্রেনে চেপে রাশিয়ায় ফেরেন। ফিরে আসার কয়েক মাসের মধ্যেই বলশেভিক বিপ্লবের মাধ্যমে তিনি সোভিয়েত ইউনিয়নের শাসনভার গ্রহণ করেন।

নেলসন ম্যান্ডেলা: বর্ণবাদবিরোধী আন্দোলনের প্রতীক

অন্য নেতাদের মতো ম্যান্ডেলার নির্বাসন ছিল চার দেয়ালের ভেতরে। দক্ষিণ আফ্রিকার বর্ণবাদবিরোধী আন্দোলনের জন্য তাকে দীর্ঘ ২৭ বছর কারাগারে কাটাতে হয়। ১৯৯০ সালে বিশ্বজনমতের চাপে তিনি মুক্তি পান। জেল থেকে বেরিয়েই তিনি জাতীয় ঐক্যের ডাক দেন এবং ১৯৯৪ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়ে বিশ্বজুড়ে শান্তির দূত হিসেবে স্বীকৃতি পান।

এই নেতাদের জীবন থেকে স্পষ্ট যে, আদর্শ এবং জনগণের প্রতি দায়বদ্ধতা থাকলে দীর্ঘ নির্বাসনও জননেতাদের স্তিমিত করতে পারে না। বরং তাদের প্রত্যাবর্তন অনেক সময় বিপ্লব ও পরিবর্তনের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করে।

Popular Post

রেট গ্যাপ ও ব্যাংকিং ঝামেলায় মিরসরাইয়ে হুন্ডিমুখী প্রবাসী পরিবার

নির্বাসন থেকে ক্ষমতার শীর্ষে: ইতিহাসের পাতা উল্টে ফিরে দেখা জনপ্রিয় বিশ্বনেতাদের

Update Time : ০২:১২:৫৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৫ ডিসেম্বর ২০২৫

ইতিহাস সাক্ষী দেয়, রাজনৈতিক কারণে নির্বাসন মানেই কোনো নেতার ক্যারিয়ারের সমাপ্তি নয়। বরং অনেক ক্ষেত্রে এই নির্বাসনই হয়ে ওঠে প্রত্যাবর্তনের শক্তিশালী মঞ্চ। ভ্লাদিমির লেনিন থেকে শুরু করে নেলসন ম্যান্ডেলা কিংবা বেনজির ভুট্টো—বিশ্বের অনেক প্রভাবশালী নেতা দীর্ঘ প্রবাস জীবন বা কারাবাসের পর দেশে ফিরে রাজকীয় অভ্যর্থনা পেয়েছেন এবং পাল্টে দিয়েছেন নিজ দেশের ভাগ্য।

বেনজির ভুট্টো: মুসলিম বিশ্বের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী

পাকিস্তানের জেনারেল জিয়াউল হকের সামরিক শাসনামলে আশির দশকে দেশ ছাড়তে বাধ্য হন বেনজির ভুট্টো। লন্ডনে নির্বাসিত থেকেও তিনি পাকিস্তান পিপলস পার্টির (পিপিপি) নেতৃত্ব দেন। ১৯৮৬ সালে দেশে ফিরে তিনি বিশাল জনসমর্থন পান। পরবর্তীতে ১৯৮৮ সালের নির্বাচনে জয়ী হয়ে তিনি মুসলিম বিশ্বের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ইতিহাস গড়েন।

রুহুল্লাহ খোমেনি: ইরানি বিপ্লবের রূপকার

শাহ মোহাম্মদ রেজা পাহলভির দুঃশাসনের প্রতিবাদ করায় ১৯৬৪ সালে ইরান থেকে বিতাড়িত হন আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনি। তুরস্ক, ইরাক ও ফ্রান্সে দীর্ঘ ১৫ বছর নির্বাসনে কাটিয়েছেন তিনি। তবে বিদেশে থেকেই তার কণ্ঠস্বর কাঁপিয়ে দিয়েছিল শাহর সিংহাসন। ১৯৭৯ সালে গণঅভ্যুত্থানের মুখে শাহ দেশ ছাড়লে খোমেনি বীরের বেশে তেহরানে ফেরেন এবং আধুনিক ইরানের সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণ করেন।

ভ্লাদিমির লেনিন: রুশ বিপ্লবের মহানায়ক

রাশিয়ার জার শাসনের বিরুদ্ধে বিপ্লব গড়ে তোলায় ভ্লাদিমির লেনিনকে দীর্ঘ সময় সাইবেরিয়াসহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশে নির্বাসিত থাকতে হয়েছে। ১৯১৭ সালে প্রথম বিশ্বযুদ্ধ চলাকালীন তিনি জার্মানির সহায়তায় একটি বিশেষ ট্রেনে চেপে রাশিয়ায় ফেরেন। ফিরে আসার কয়েক মাসের মধ্যেই বলশেভিক বিপ্লবের মাধ্যমে তিনি সোভিয়েত ইউনিয়নের শাসনভার গ্রহণ করেন।

নেলসন ম্যান্ডেলা: বর্ণবাদবিরোধী আন্দোলনের প্রতীক

অন্য নেতাদের মতো ম্যান্ডেলার নির্বাসন ছিল চার দেয়ালের ভেতরে। দক্ষিণ আফ্রিকার বর্ণবাদবিরোধী আন্দোলনের জন্য তাকে দীর্ঘ ২৭ বছর কারাগারে কাটাতে হয়। ১৯৯০ সালে বিশ্বজনমতের চাপে তিনি মুক্তি পান। জেল থেকে বেরিয়েই তিনি জাতীয় ঐক্যের ডাক দেন এবং ১৯৯৪ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়ে বিশ্বজুড়ে শান্তির দূত হিসেবে স্বীকৃতি পান।

এই নেতাদের জীবন থেকে স্পষ্ট যে, আদর্শ এবং জনগণের প্রতি দায়বদ্ধতা থাকলে দীর্ঘ নির্বাসনও জননেতাদের স্তিমিত করতে পারে না। বরং তাদের প্রত্যাবর্তন অনেক সময় বিপ্লব ও পরিবর্তনের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করে।