Dhaka ০২:২৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২১ জুন ২০২৬, ৬ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
রেট গ্যাপ ও ব্যাংকিং ঝামেলায় মিরসরাইয়ে হুন্ডিমুখী প্রবাসী পরিবার শীতে সবজির জোগান থাকলেও কমছে না দাম রংপুরে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের ওপর মূল্যস্ফীতির প্রভাব রংপুরে এলপিজি সংকট, সরকার নির্ধারিত দামের বাইরে বিক্রি হচ্ছে সিলিন্ডার খরচের চাপে ভাঙছে ক্ষুদ্র ব্যবসা ডলার সংকটে স্থবির আমদানি-রপ্তানি, বাড়ছে উৎপাদন ব্যয় ও মুল্যস্ফীতির চাপ নিত্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধিতে বিপর্যস্ত শিক্ষার্থীদের জীবন, বাড়ছে অনিশ্চয়তা ‘দেরি হওয়ার আগেই চুক্তি করো’, কিউবাকে ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি ইরানে বিক্ষোভ ঘিরে ব্যাপক সহিংসতা: নিহত ১০৯ নিরাপত্তা সদস্য নির্বাচন অবাধ ও উৎসবমুখর হবে: ইইউ প্রতিনিধিদলকে প্রধান উপদেষ্টা
বিজ্ঞাপন:
আপনাদের ভালোবাসা ও আস্থার সাথে এগিয়ে চলছে দৈনিক বঙ্গচিত্র। দেশের প্রতিটি প্রান্তের খবর, রাজনীতি, অর্থনীতি, সমাজ, সংস্কৃতি, শিক্ষা, খেলাধুলা ও বিনোদনসহ সকল গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ আমরা আপনাদের কাছে পৌঁছে দিতে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ।

মুন্সীগঞ্জে নির্বাচনের আগে সহিংসতা বেড়েছে, আতঙ্কে সাধারণ মানুষ

আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে মুন্সীগঞ্জে সহিংসতা হঠাৎ বেড়ে গেছে। ককটেল বিস্ফোরণ, গুলিবর্ষণ ও অবৈধ অস্ত্রের ব্যবহার এখন এলাকার মানুষের দৈনন্দিন আতঙ্কে পরিণত হয়েছে। গত এক সপ্তাহে গুলিতে তিনজন নিহত হওয়ার পর পরিস্থিতি আরও উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে উঠেছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তৎপর থাকলেও ভয় কমছে না স্থানীয়দের।

২ নভেম্বর মোল্লাকান্দির বেহেরকান্দি গ্রামে সংঘর্ষে নিহত হন দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্র তুহিন দেওয়ান। তার মা লাকী আক্তার বলেন, “তুহিনের কোনো দোষ ছিল না। সে পরীক্ষার প্রস্তুতি নিত। রাজনৈতিক বিরোধে আমার ছেলেকে মেরে ফেলল।” এ ঘটনায় উপজেলা বিএনপির নেতা উজির আহম্মেদসহ ২৬ জনের বিরুদ্ধে মামলা হলেও কাউকে গ্রেফতার করা যায়নি। তুহিনের বাবা আতঙ্কে এলাকা ছেড়ে থাকতে বাধ্য হয়েছেন।

এরপর ১০ নভেম্বর দুই পক্ষের গোলাগুলিতে মারা যান আরিফ মীর। পরের দিন হাসপাতালে মারা যান রায়হান খান। আরিফের স্ত্রী পারুল বেগম বলেন, “আমার স্বামীকে প্রকাশ্যে গুলি করা হয়েছে। দোষীদের গ্রেফতার না করলে আরও রক্ত ঝরবে।” রায়হানের মা বলেন, “হাসপাতালেও ছেলেকে বাঁচানো গেল না। আমরা প্রতিদিন হুমকি পাচ্ছি।”

এই দুই হত্যাকার্যের ঘটনায় জেলা বিএনপির নেতা আতিক মল্লিককে প্রধান আসামি করে ৫৬ জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। এখন পর্যন্ত মাত্র ৪ জনকে গ্রেফতার করা গেছে, বাকিরা পালিয়ে আছে।

১৪ নভেম্বর আবারও গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটে। এর পর সেনাবাহিনী শহরের একটি বাড়ি থেকে অস্ত্র তৈরির কারখানা ও বোমা বানানোর আস্তানা উদ্ধার করে, যা মানুষের মধ্যে আতঙ্ক আরও বাড়িয়ে দেয়।

স্থানীয়রা বলেন, নির্বাচনকে সামনে রেখে স্বার্থান্বেষী মহল সংঘাত উসকে দিচ্ছে। তারা দাবি করেন, মোল্লাকান্দিতে স্থায়ী পুলিশ ফাঁড়ি, নিয়মিত টহল এবং দ্রুত অপরাধীদের গ্রেফতার প্রয়োজন।

পুলিশ জানায়, এলাকা দুর্গম হওয়ার কারণে অভিযান কঠিন হয়ে উঠছে। সদর থানার ওসি এম সাইফুল আলম বলেন, “সহিংসতা নিয়ন্ত্রণে পুলিশ কাজ করছে। আসামি ধরতে সর্বোচ্চ চেষ্টা চলছে।” অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ ফিরোজ কবির জানান, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার ও জড়িতদের গ্রেফতার অভিযান চলছে এবং পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রণে আছে।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গত ৫০ বছর ধরে মোল্লাকান্দিতে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বহু সংঘর্ষ হয়েছে। স্থানীয়দের আশঙ্কা, এবারও সন্ত্রাসীদের তৎপরতা থামার কোনো লক্ষণ নেই।

Popular Post

রেট গ্যাপ ও ব্যাংকিং ঝামেলায় মিরসরাইয়ে হুন্ডিমুখী প্রবাসী পরিবার

মুন্সীগঞ্জে নির্বাচনের আগে সহিংসতা বেড়েছে, আতঙ্কে সাধারণ মানুষ

Update Time : ০১:৩৬:২৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ২২ নভেম্বর ২০২৫

আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে মুন্সীগঞ্জে সহিংসতা হঠাৎ বেড়ে গেছে। ককটেল বিস্ফোরণ, গুলিবর্ষণ ও অবৈধ অস্ত্রের ব্যবহার এখন এলাকার মানুষের দৈনন্দিন আতঙ্কে পরিণত হয়েছে। গত এক সপ্তাহে গুলিতে তিনজন নিহত হওয়ার পর পরিস্থিতি আরও উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে উঠেছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তৎপর থাকলেও ভয় কমছে না স্থানীয়দের।

২ নভেম্বর মোল্লাকান্দির বেহেরকান্দি গ্রামে সংঘর্ষে নিহত হন দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্র তুহিন দেওয়ান। তার মা লাকী আক্তার বলেন, “তুহিনের কোনো দোষ ছিল না। সে পরীক্ষার প্রস্তুতি নিত। রাজনৈতিক বিরোধে আমার ছেলেকে মেরে ফেলল।” এ ঘটনায় উপজেলা বিএনপির নেতা উজির আহম্মেদসহ ২৬ জনের বিরুদ্ধে মামলা হলেও কাউকে গ্রেফতার করা যায়নি। তুহিনের বাবা আতঙ্কে এলাকা ছেড়ে থাকতে বাধ্য হয়েছেন।

এরপর ১০ নভেম্বর দুই পক্ষের গোলাগুলিতে মারা যান আরিফ মীর। পরের দিন হাসপাতালে মারা যান রায়হান খান। আরিফের স্ত্রী পারুল বেগম বলেন, “আমার স্বামীকে প্রকাশ্যে গুলি করা হয়েছে। দোষীদের গ্রেফতার না করলে আরও রক্ত ঝরবে।” রায়হানের মা বলেন, “হাসপাতালেও ছেলেকে বাঁচানো গেল না। আমরা প্রতিদিন হুমকি পাচ্ছি।”

এই দুই হত্যাকার্যের ঘটনায় জেলা বিএনপির নেতা আতিক মল্লিককে প্রধান আসামি করে ৫৬ জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। এখন পর্যন্ত মাত্র ৪ জনকে গ্রেফতার করা গেছে, বাকিরা পালিয়ে আছে।

১৪ নভেম্বর আবারও গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটে। এর পর সেনাবাহিনী শহরের একটি বাড়ি থেকে অস্ত্র তৈরির কারখানা ও বোমা বানানোর আস্তানা উদ্ধার করে, যা মানুষের মধ্যে আতঙ্ক আরও বাড়িয়ে দেয়।

স্থানীয়রা বলেন, নির্বাচনকে সামনে রেখে স্বার্থান্বেষী মহল সংঘাত উসকে দিচ্ছে। তারা দাবি করেন, মোল্লাকান্দিতে স্থায়ী পুলিশ ফাঁড়ি, নিয়মিত টহল এবং দ্রুত অপরাধীদের গ্রেফতার প্রয়োজন।

পুলিশ জানায়, এলাকা দুর্গম হওয়ার কারণে অভিযান কঠিন হয়ে উঠছে। সদর থানার ওসি এম সাইফুল আলম বলেন, “সহিংসতা নিয়ন্ত্রণে পুলিশ কাজ করছে। আসামি ধরতে সর্বোচ্চ চেষ্টা চলছে।” অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ ফিরোজ কবির জানান, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার ও জড়িতদের গ্রেফতার অভিযান চলছে এবং পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রণে আছে।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গত ৫০ বছর ধরে মোল্লাকান্দিতে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বহু সংঘর্ষ হয়েছে। স্থানীয়দের আশঙ্কা, এবারও সন্ত্রাসীদের তৎপরতা থামার কোনো লক্ষণ নেই।