Dhaka ০৮:১৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৯ এপ্রিল ২০২৬, ২৬ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
রেট গ্যাপ ও ব্যাংকিং ঝামেলায় মিরসরাইয়ে হুন্ডিমুখী প্রবাসী পরিবার শীতে সবজির জোগান থাকলেও কমছে না দাম রংপুরে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের ওপর মূল্যস্ফীতির প্রভাব রংপুরে এলপিজি সংকট, সরকার নির্ধারিত দামের বাইরে বিক্রি হচ্ছে সিলিন্ডার খরচের চাপে ভাঙছে ক্ষুদ্র ব্যবসা ডলার সংকটে স্থবির আমদানি-রপ্তানি, বাড়ছে উৎপাদন ব্যয় ও মুল্যস্ফীতির চাপ নিত্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধিতে বিপর্যস্ত শিক্ষার্থীদের জীবন, বাড়ছে অনিশ্চয়তা ‘দেরি হওয়ার আগেই চুক্তি করো’, কিউবাকে ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি ইরানে বিক্ষোভ ঘিরে ব্যাপক সহিংসতা: নিহত ১০৯ নিরাপত্তা সদস্য নির্বাচন অবাধ ও উৎসবমুখর হবে: ইইউ প্রতিনিধিদলকে প্রধান উপদেষ্টা
বিজ্ঞাপন:
আপনাদের ভালোবাসা ও আস্থার সাথে এগিয়ে চলছে দৈনিক বঙ্গচিত্র। দেশের প্রতিটি প্রান্তের খবর, রাজনীতি, অর্থনীতি, সমাজ, সংস্কৃতি, শিক্ষা, খেলাধুলা ও বিনোদনসহ সকল গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ আমরা আপনাদের কাছে পৌঁছে দিতে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ।

ছেংগারচরে পানি সরবরাহে বড় সমস্যা, তিন বছরেও সুবিধা পাচ্ছেন না বাসিন্দারা

চাঁদপুরের মতলব উত্তরের ছেংগারচর পৌরসভায় প্রায় ১১ কোটি টাকা ব্যয়ে পানি শোধনাগার, উচ্চ জলাধার ও ৪৫০ ঘনমিটার ধারণক্ষমতার সরবরাহ ব্যবস্থা তৈরি করা হলেও তিন বছর পরেও প্রকল্পটি পুরোপুরি কার্যকর হয়নি। ফলে বিশুদ্ধ পানির অভাবে এলাকার মানুষ চরম সমস্যায় পড়েছেন। অনেকে বাধ্য হয়ে অগভীর নলকূপের পানি ব্যবহার করছেন।

জানা গেছে, ২০১৯ সালে সরকারি অর্থে প্রকল্পের কাজ শুরু হয় এবং ২০২২ সালের মাঝামাঝি উদ্বোধন করা হয়। পুরো পৌরসভায় বিশুদ্ধ পানি সরবরাহের কথা থাকলেও বর্তমানে ১০ হাজারের বেশি পরিবারের মধ্যে মাত্র ৩২৮টি পরিবার পানি পাচ্ছে—যা মোটের মাত্র ৩ শতাংশ।

অভিযোগ রয়েছে, শুরু থেকেই রক্ষণাবেক্ষণের অবস্থা খুবই খারাপ। বড় প্রকল্প হয়েও এটি চালানো হচ্ছে শুধু একজন অপারেটর ও একজন নাইটগার্ড দিয়ে। এ কারণে পাইপলাইনে বারবার লিকেজ, ত্রুটি এবং যান্ত্রিক সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে। ফলে কোনো এলাকায় কখনো পানি আসে, আবার অনেক এলাকায় একদমই আসে না।

স্থানীয় বাসিন্দারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, কোটি টাকা খরচ করেও তারা এখনও টিউবওয়েলের ওপর নির্ভরশীল। কেউ কেউ বলেন—মাসব্যাপী লাইন থাকলেও পানি পাওয়া যায় মাত্র ১৫ দিনের মতো, অনেক সময় পানির সঙ্গে শ্যাওলা পাওয়া যায়। কেউ আবার অভিযোগ করেন—তিন বছর ধরে মেরামতের কথা শুনছেন, কিন্তু সমস্যার সমাধান হচ্ছে না। মাস শেষে নিয়মিত পানি বিলও গুনতে হচ্ছে।

অনেক সচেতন নাগরিক মনে করেন, প্রকল্পে দুর্নীতি, সঠিক তদারকির অভাব এবং দায়িত্বহীনতার কারণেই এই অবস্থা। এতে ছেংগারচরের প্রায় ৬০ হাজার মানুষ নিরাপদ পানির সুবিধা থেকে বঞ্চিত।

পাম্প স্টেশনের দায়িত্বে থাকা অপারেটর মিরাজ হোসেন জানান, নিয়মিত পানি দিতে চাইলেও লাইন লিকেজ ও যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে তা সম্ভব হচ্ছে না। প্রয়োজনীয় মেরামতের কাজ চলছে।

ছেংগারচর পৌর প্রশাসক মাহমুদা কুলসুম মনি বলেন, প্রকল্পটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ এবং ধীরে ধীরে সমস্যাগুলো সমাধান করা হচ্ছে। কিছু জায়গায় মেরামতের কাজ শুরু হয়েছে। শিগগিরই পৌরবাসী নিয়মিত পানি সুবিধা পাবেন বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

Popular Post

রেট গ্যাপ ও ব্যাংকিং ঝামেলায় মিরসরাইয়ে হুন্ডিমুখী প্রবাসী পরিবার

ছেংগারচরে পানি সরবরাহে বড় সমস্যা, তিন বছরেও সুবিধা পাচ্ছেন না বাসিন্দারা

Update Time : ০৫:৫৭:৫৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৫ নভেম্বর ২০২৫

চাঁদপুরের মতলব উত্তরের ছেংগারচর পৌরসভায় প্রায় ১১ কোটি টাকা ব্যয়ে পানি শোধনাগার, উচ্চ জলাধার ও ৪৫০ ঘনমিটার ধারণক্ষমতার সরবরাহ ব্যবস্থা তৈরি করা হলেও তিন বছর পরেও প্রকল্পটি পুরোপুরি কার্যকর হয়নি। ফলে বিশুদ্ধ পানির অভাবে এলাকার মানুষ চরম সমস্যায় পড়েছেন। অনেকে বাধ্য হয়ে অগভীর নলকূপের পানি ব্যবহার করছেন।

জানা গেছে, ২০১৯ সালে সরকারি অর্থে প্রকল্পের কাজ শুরু হয় এবং ২০২২ সালের মাঝামাঝি উদ্বোধন করা হয়। পুরো পৌরসভায় বিশুদ্ধ পানি সরবরাহের কথা থাকলেও বর্তমানে ১০ হাজারের বেশি পরিবারের মধ্যে মাত্র ৩২৮টি পরিবার পানি পাচ্ছে—যা মোটের মাত্র ৩ শতাংশ।

অভিযোগ রয়েছে, শুরু থেকেই রক্ষণাবেক্ষণের অবস্থা খুবই খারাপ। বড় প্রকল্প হয়েও এটি চালানো হচ্ছে শুধু একজন অপারেটর ও একজন নাইটগার্ড দিয়ে। এ কারণে পাইপলাইনে বারবার লিকেজ, ত্রুটি এবং যান্ত্রিক সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে। ফলে কোনো এলাকায় কখনো পানি আসে, আবার অনেক এলাকায় একদমই আসে না।

স্থানীয় বাসিন্দারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, কোটি টাকা খরচ করেও তারা এখনও টিউবওয়েলের ওপর নির্ভরশীল। কেউ কেউ বলেন—মাসব্যাপী লাইন থাকলেও পানি পাওয়া যায় মাত্র ১৫ দিনের মতো, অনেক সময় পানির সঙ্গে শ্যাওলা পাওয়া যায়। কেউ আবার অভিযোগ করেন—তিন বছর ধরে মেরামতের কথা শুনছেন, কিন্তু সমস্যার সমাধান হচ্ছে না। মাস শেষে নিয়মিত পানি বিলও গুনতে হচ্ছে।

অনেক সচেতন নাগরিক মনে করেন, প্রকল্পে দুর্নীতি, সঠিক তদারকির অভাব এবং দায়িত্বহীনতার কারণেই এই অবস্থা। এতে ছেংগারচরের প্রায় ৬০ হাজার মানুষ নিরাপদ পানির সুবিধা থেকে বঞ্চিত।

পাম্প স্টেশনের দায়িত্বে থাকা অপারেটর মিরাজ হোসেন জানান, নিয়মিত পানি দিতে চাইলেও লাইন লিকেজ ও যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে তা সম্ভব হচ্ছে না। প্রয়োজনীয় মেরামতের কাজ চলছে।

ছেংগারচর পৌর প্রশাসক মাহমুদা কুলসুম মনি বলেন, প্রকল্পটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ এবং ধীরে ধীরে সমস্যাগুলো সমাধান করা হচ্ছে। কিছু জায়গায় মেরামতের কাজ শুরু হয়েছে। শিগগিরই পৌরবাসী নিয়মিত পানি সুবিধা পাবেন বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।